add

ঢাকা, শনিবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৪, ৩০ চৈত্র ১৪৩০

তরুণীকে গণধর্ষণ: গ্রেপ্তার ৪ আসামি ৩ দিনের রিমান্ডে

সরোবর প্রতিবেদক 

 প্রকাশিত: এপ্রিল ০১, ২০২৪, ০৮:৫৫ রাত  

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের একটি বাসায় এক তরুণীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলায় ৪ আসামিকে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।

সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জসিম তাঁদের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আসামিরা হলেন সান, হিমেল, রকি ও সালমা ওরফে ঝুমুর।

দুপুরের পর চার আসামিকে আদালতে হাজির করে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফারুকুল ইসলাম আসামিদের সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন।

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করে। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত প্রত্যেকের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

ঢাকার আদালতের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন প্রসিকিউশন দপ্তরের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা এসআই তাহমিনা হক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের একটি বাসায় আটকে রেখে ২৫ দিন ধরে দলবদ্ধ ধর্ষণ করা হয় এক তরুণীকে। নবীনগর হাউজিংয়ের একটি বাসায় আটকে রেখে ধর্ষণ ও ধর্ষণের ভিডিও ধারণও করা হয়।

শনিবার (৩০ মার্চ) তরুণীর চিৎকার শুনে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে এক ব্যক্তি কল করলে পুলিশ তরুণীকে শিকলে বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করে।

পরে মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগী তরুণী। এরপর অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়েছে, আসামিদের গ্রেপ্তার করার পর তাঁরা ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। ধর্ষণের শিকার তরুণীর ভিডিও ধারণ করা মোবাইল ফোন এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তাঁদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে ওই মোবাইল ফোনগুলো উদ্ধার করা হবে।

প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, এ ঘটনার সঙ্গে একটি সংঘবদ্ধ দল জড়িত রয়েছে। যারা ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করে পর্নোগ্রাফির ব্যবসা করে থাকে। তাদের সম্পর্কে তথ্য জানার জন্য এই আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।

পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ইতিমধ্যে সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন, ব্যারিস্টার মাসুদ নামের এক ব্যক্তি এ ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত রয়েছেন। ব্যারিস্টার মাসুদ পর্নোগ্রাফি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। ধর্ষিতার ভিডিও ধারণ করে সেটা ব্যারিস্টার মাসুদকে আসামিরা সরবরাহ করেছেন বলে পুলিশ প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছে।

মামলার শুনানির সময় আসামি সানের আইনজীবী আদালতকে বলেন, আসামি সান এ ঘটনা সম্পর্কে কিছুই জানেন না। তাঁকে মিথ্যাভাবে জড়ানো হয়েছে। আদালত তখন উপস্থিত মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসা করেন। তদন্ত কর্মকর্তা এসআই ফারুকুল ইসলাম আদালতকে বলেন, এ ঘটনায় আসামি সান মূল পরিকল্পনাকারীদের একজন। এ ছাড়া একজন ব্যারিস্টার এ ঘটনায় জড়িত। তাঁর অবস্থান জানতে এবং তাঁকে গ্রেপ্তারের জন্য আসামিদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার প্রয়োজন।

এ পর্যায়ে আদালত বলেন, এ ঘটনায় যে ব্যক্তিই হোক, যত বড় ব্যক্তিই হোক, যত বড় প্রভাবশালী হোক—বিচারের আওতায় তাকে আনতে হবে। তাকে যেন অভিযোগপত্র ভুক্ত করা হয়।

দৈনিক সরোবর/বি কে