add

ঢাকা, শনিবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৪, ৩০ চৈত্র ১৪৩০

ঈদযাত্রায় যানজটের আশঙ্কা

সড়কের বড় বাধা অবৈধ যান ও বাজার

এসএম শামসুজ্জোহা 

 প্রকাশিত: এপ্রিল ০১, ২০২৪, ০৬:৫০ বিকাল  

প্রতি বছর ঈদের সময় ঘরমুখী মানুষকে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হয়। আসন্ন ঈদযাত্রায় সড়ক-মহাসড়কে ৩১৪টি স্পটে যানজটে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের ৬৮টি স্থান, ঢাকা-উত্তরবঙ্গের সড়কের ৯২টি, ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়কে ৬৬টি এবং ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ৭৮টি স্থানে যানজট ভোগান্তির কারণ হতে পারে। 

এবারও ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকার সীমাহীন দুর্ভোগের শঙ্কায় আছেন যাত্রী ও চালকরা। স্বজনদের সঙ্গে ঈদ করতে সড়কপথে যারা বাড়ি ফিরবেন, তাদের অনেকেই পাড়ি দেবেন কয়েকশ’ কিলোমিটার পথ। কিন্তু ঢাকা থেকে বের হতে এবং বেরিয়েই কয়েকটি জায়গায় থমকে যেতে পারে গাড়ির গতি। যেসব স্পটে যানজটের আশঙ্কা রয়েছে, সেসব স্পট ও আশপাশের এলাকার যানজট নিয়ন্ত্রণে বেশকিছু পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। 

অতীতে আমরা দেখেছি, ঈদযাত্রায় যানজটের মধ্যে যাত্রীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা সড়কে আটকে থাকতে হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বয়স্ক-শিশু ও নারী যাত্রীদের বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। ঈদে ঘরমুখী যাত্রীদের চাপ কর্তৃপক্ষ সঠিকভাবে সামাল দিতে পারবে কিনা, এ নিয়ে এখনই যাত্রীরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, উত্তরবঙ্গের মহাসড়কটি চার লেনে উন্নীতকরণ ও সংস্কারকাজ চলমান থাকায় এর অনেক জায়গায় যানবাহন এক লেনে চলাচল করে। এ কারণে মহাসড়কটিতে কখনো কখনো ধীরগতিতে যান চলাচল করছে। মহাসড়কে মাঝে মধ্যেই অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে সৃষ্টি হয় যানজট, যাত্রীদের পোহাতে হয় ভোগান্তি। ঈদযাত্রায় এই ভোগান্তির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। এই মহাসড়ক দিয়ে চলাচল করে এমন যানবাহনের চালক ও যাত্রীরা বলছেন, দ্রুত এই মহাসড়কের সংস্কারকাজ শেষ না করা হলে ঈদযাত্রায় যানবাহনের চাপ বাড়বে। এতে মহাসড়কে তীব্র যানজটের কারণে মানুষ ভোগান্তির শিকার হবেন।

সড়কে চলাচলকারী হানিফ পরিবহনের চালক আব্দুর রহমান বলেন, অনেক দিন ধরে নবীনগর-চন্দ্রা সড়ক সংস্কার হচ্ছে। এক পাশ খোলা রেখে অন্য পাশে কাজ চলছে। এতে এক পাশ দিয়ে দুই দিকের গাড়ি চলতে গিয়ে অনেক যানজট লাগে। ঈদের আগে কাজ শেষ না হলে ভোগান্তি চরমে পৌঁছাবে। তিনি জানান, ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে অত্যধিক গাড়ির চাপ, চার লেনের গাড়ি দুই লেনে প্রবেশ, এলেঙ্গায় লিংক রোডগুলোতে গাড়ি পারাপার ও দুটি রেলক্রসিংয়ের কারণে এবারও ঈদযাত্রায় উত্তরের মানুষের ভোগান্তি হতে পারে।

রাস্তা ভালো হলেও দেখা দেবে বিশৃঙ্খলা। যাত্রীর ঢল নামলে স্থবির হবে সড়ক

সাভার ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক হোসেন শহীদ চৌধুরী বলেন, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে আর সড়কের সংস্কারকাজ চলমান থাকলে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কসহ আবদুল্লাহপুর-বাইপাইল হয়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ঈদে ঘরমুখো যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়তে পারে। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ) সারাদেশে মহাসড়কের ১৫৫টি স্থানকে যানজটপ্রবণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। তবে যাত্রী কল্যাণ সমিতি নামে বেসরকারি সংস্থার ভাষ্য, যানজট হতে পারে ৭১৪ স্পটে। 

সওজ প্রতিবেদনে জানিয়েছে, সড়কের পাশে কলকারখানা, বাজার, যত্রতত্র ইউটার্ন, যাত্রী ওঠানামা, সরু ও ভাঙাচোরা সড়কের কারণে যানজট হতে পারে এসব স্থানে। তবে সড়ক পরিবহন সচিব এবিএম আমিন উল্লাহ নুরী দাবি করেছেন, ঈদযাত্রা স্বস্তির হবে। তিনি বলেন, মহাসড়কে যেসব সমস্যা রয়েছে; তা চিহ্নিত করে সমাধানে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। যাত্রী কল্যাণ সমিতির আশঙ্কা, এ সময়ে গণপরিবহনের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করা না গেলে এবারের ঈদযাত্রায় নারকীয় পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তাই ঈদযাত্রা নিরাপদ ও ভোগান্তিমুক্ত করতে ঈদের আগে ছুটি দুদিন বাড়ানোর দাবি জানান তিনি।

এ বিষয়ে সওজ সিরাজগঞ্জ কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী দিদারুল আলম বলেন, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে মহাসড়কের দুই লেন থেকে চার লেনে উন্নীতকরণের চলমান কাজের ফলে সড়কের যে অসংগতি সৃষ্টি হয়েছে; আমরা তা দ্রুত ঠিক করে দিচ্ছি। সওজের জেলার অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোতে নিয়ম ভেঙে যানবাহন ঢুকতে না দেওয়া হয়; তবে সড়কে কোনো যানজটের সৃষ্টি হবে না।

দেশের ৭৫ শতাংশ শিল্পকারখানা গাজীপুরে। ঈদের সময় এই এলাকায় স্বাভাবিক সময়ের ১০ গুণ যানবাহন সড়কে নামে। টঙ্গী বাজার, সেনাকল্যাণের সামনে, স্টেশন রোড, থানা গেট, হোসেন মার্কেট, বোর্ডবাজার, ভোগড়া বাইপাস, চান্দনা চৌরাস্তা, কোনাবাড়ীসহ বেশ কয়েকটি পয়েন্টে মহাসড়কে রয়েছে দূরপাল্লার বাস কাউন্টার। এসব কাউন্টারে বাস যাত্রীদের ওঠানামা করানো হয় মহাসড়কেই।

বিআরটি প্রকল্পের কারণে মহাসড়কের কোথাও তিন লেন, আবার কোথাও দুই লেনে পরিণত হয়েছে। এতে ওই পথে যানবাহন খুবই ধীর গতিতে চলছে। গাছা রোড, মালেকের বাড়ি, বোর্ড বাজার, কুনিয়া বড়বাড়ি এলাকায় বিআরটি প্রকল্পের স্টেশন তৈরির কাজ অব্যাহত থাকায় সেখানে যানবাহন স্বাভাবিক গতিতে চলতে পারছে না। এসব চিহ্নিত কয়েকটি কারণেই মহাসড়কে গাজীপুর অংশে যানজটের শঙ্কা থেকেই যায়। চৌরাস্তার পর মহাসড়কে বাকি পথে সালনা, এমসি বাজার, নয়নপুর, বাগেরবাজার, জৈনা এলাকায় সড়কের পাশে বাজার বসে। এতে মহাসড়কের গাড়ি আটকে যায়। রমজানের শুরুতে শ্রীপুরে উচ্ছেদ অভিযান চললেও ফল হয়নি।

এ প্রসঙ্গে গাজীপুর মেট্রোপলিটনের উপ-কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আলমগীর হোসেন বলেন, আমাদের ব্যাপক প্রস্তুতি রয়েছে। পর্যাপ্ত ট্রাফিক পুলিশ, থানা পুলিশ ও মোবাইল টিম থাকবে। এ ছাড়া ১০টি রেকার রিজার্ভে রাখা হবে। কোনো কারণে যানবাহন বিকল হলে দ্রুত সেগুলো সারিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়। মহাসড়কের সব কটি উড়ালসড়ক আমরা ব্যবহার করব। এ কারণে আশা করছি, এবার ঘরমুখী মানুষ আরও স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল করতে পারবে। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা মোড় এলাকা প্রতিবছরই ঈদে ঘরমুখী মানুষের জন্য আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কথা হয় কেপি পরিবহনের যাত্রী শরিফুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, ঈদ এলেই চন্দ্রা এলাকায় যানজটের একটা আতঙ্ক সবার মধ্যে থাকে। যানবাহনের চাপে আমাদের যানজটে পড়তে হয়।
 
চন্দ্রা মোড় এলাকায় যানজট নিরসনে প্রতিবছরের মতো এবারও বিপুলসংখ্যক অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন থাকবে উল্লেখ করে গাজীপুরের নাওজোড় হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, এ ছাড়া থানা পুলিশও থাকবে। চন্দ্রা মোড় ছাড়াও আশপাশের বাজার এলাকাগুলোয় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য থাকবেন। যানজট এড়াতে তারা যথাযত সক্রিয় থাকবেন।

দৈনিক সরোবর/কেএমএএ