add

ঢাকা, বুধবার, ২২ মে ২০২৪, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

ঈদের দিনের যে আমলে গুনাহ ঝরে যায়

সরোবর ডেস্ক 

 প্রকাশিত: এপ্রিল ১০, ২০২৪, ০৭:৫২ বিকাল  

প্রতিবছর আরবি শাওয়াল মাসের ১ তারিখে ফিরে আসে অনন্য আয়োজন পবিত্র ঈদুল ফিতর। বাংলাদেশে বৃহস্পতিবার (১১ এপ্রিল) ঈদুল ফিতর উদযাপন হবে। এটি এমন এক নির্মল দিন, যেদিন মুসলিমরা আত্মশুদ্ধির অনাবিল আনন্দে পরস্পর ভ্রাতৃত্বের ময়দানে কাতারবদ্ধ হন। ঈদের দিনের কিছু সুন্নত, মোস্তাহাব আমল রয়েছে। এর একটি হলো- পরস্পর সাক্ষাতে সালাম ও মুসাফাহা করা।

ঈদের দিন সালাম ও মুসাফাহা করা ইসলামি শিষ্টাচারের অনুষঙ্গ। হাদিস থেকে জানা যায়, মহান আল্লাহ এর মাধ্যমে বান্দাদের পারস্পরিক ভালোবাসা বৃদ্ধি করে দেন, গুনাহ ক্ষমা করে দেন। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন, যদি দুজন মুসলিম সাক্ষাৎ করে পরস্পর মুসাফাহা করে, তাহলে তারা (ওই স্থান থেকে) পৃথক হওয়ার আগেই তাদের গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়।’ (তিরমিজি: ৫/৭৪; ইবনে মাজাহ: ২/১২২০)

মুসাফাহার নিয়ম হলো- দুই হাতে করা। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, (মুসাফাহার সময়) আমার হাতটি রাসুলুল্লাহ (স.)-এর দুই হাতের মধ্যে ছিল। (বুখারি: ৫/২৩১১) আর মুসাফাহার সময় এ দোয়া পড়বে— ‘ইয়াগফিরুল্লাহু লানা ওয়া লাকুম।’ হাদিসে এসেছে, যখন দুজন মুসলিমের সাক্ষাৎ হয় এবং তারা একে অপরের সঙ্গে মুসাফাহা করে, আল্লাহর হামদ (প্রশংসা) ও শোকর (কৃতজ্ঞতা) করে এবং আল্লাহর কাছে মাগফেরাতের দোয়া করে, আল্লাহ উভয়কে ক্ষমা করেন।’ (সুনানে আবু দাউদ: ৫১৬৯)

আল্লাহর রাসুল (স.) এবং সাহাবায়ে-কেরাম নিয়মিত মুসাফাহা করতেন। আবুল খাত্তাব কাতাদাহ (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি আনাস (রা.)-কে জিজ্ঞেস করলাম, রাসুল (স.)-এর সাহাবিদের মধ্যে কি মুসাফাহা করার প্রথা ছিল। তিনি বলেন, হ্যাঁ। (বুখারি: ৬০৬৩)

মুয়ানাকা বা কোলাকুলি করাও মুসলিম সংস্কৃতির অংশ। দীর্ঘদিন পর সাক্ষাৎ হলে সাহাবিরা মুয়ানাকা করতেন। আনাস ইবনে মালিক (রা.) বলেন, রাসুল (স.)-এর সাহাবিরা পরস্পর সাক্ষাৎ হলে হাত মেলাতেন। আর তারা সফর থেকে আগমন করলে মুয়ানাকা করতেন। (তাবরানি: ৩/২২)

তাই ঈদের দিন যদি কারো সঙ্গে প্রথম সাক্ষাৎ হয়, মুয়ানাকা করতে বাধা নেই, বরং এতে সুন্নত আদায় হয়। তবে মুয়ানাকা বা কোলাকুলিকে ঈদের দিনের করণীয় মনে করা যাবে না। এতে বিদআত হবে। আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে ঈদের দিনের শুভেচ্ছা বিনিময়সহ যাবতীয় আমল সুন্নত অনুযায়ী করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

দৈনিক সরোবর/এএস