add

ঢাকা, রবিবার, ১৪ জুলাই ২০২৪, ৩০ আষাঢ় ১৪৩১

খেলাপি ঋণে রেকর্ড

সমন্বিত পরিকল্পনা ও আইনের কঠোর প্রয়োগ জরুরি

সম্পাদকের কলম

 প্রকাশিত: জুন ০৬, ২০২৪, ০৭:৫১ বিকাল  

ঋণ আদায়ে দেয়া হচ্ছে সুবিধা। নানা বিধি করা হচ্ছে।  তবে কাজ হচ্ছে না কিছুতেই। অর্থনীতির বিষফোঁড়া খেলাপি ঋণ প্রতিনিয়ত বেড়েই চলছে। ব্যাংক খাতের প্রধান ক্ষত খেলাপি ঋণ। নানা পদক্ষেপ নিয়েও এ ক্ষত নিরাময় করতে পারছে না নিয়ন্ত্রণ সংস্থা কেন্দ্রীয় ব্যাংক। উল্টো দিন দিন বাড়ছে। সবশেষ ২০২৪ সালের মার্চ প্রান্তিক শেষে দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ এক লাখ ৮২ হাজার ২৯৫ কোটি টাকা দাঁড়িয়েছে। এক বছরে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৫০ হাজার ৬৭৫ কোটি টাকা, এর মধ্যে তিন মাসেই বেড়েছে ৩৬ হাজার ৩৬৭ কোটি টাকা। এক বছর আগে ২০২৩ সালের মার্চে ছিল ১ লাখ ৩১ হাজার ৬২০ হাজার কোটি টাকা এবং গত ডিসেম্বরে ছিল এক লাখ ৪৫ হাজার ৬৩৩ কোটি টাকা। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের মার্চ মাস শেষে ব্যাংকিং খাতের মোট বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৬ লাখ ৪০ হাজার ৮৫৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপিতে পরিণত হয়েছে এক লাখ ৮২ হাজার ২৯৫ কোটি টাকা, যা মোট বিতরণ করা ঋণের ১১.১১ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী রাষ্ট্র মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে মার্চ শেষে ঋণের পরিমাণ তিন লাখ ১২ হাজার ২৬৬ কোটি টাকা। এই ঋণের ২৭ শতাংশ খেলাপি। বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ঋণ ১২ লাখ ২১ হাজার ১১৬ কোটি টাকা; যার ৭.২৮ শতাংশ খেলাপি। বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর ঋণের ১৩.৮৮ খেলাপি, আর বিদেশি ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণের হার ৫.২০ শতাংশ। খাত বিশ্লেষকরা বলছেন, ব্যাংকের নাজুক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে খেলাপি ঋণের কারণে। ব্যাংক খাতে সুশাসনে ব্যাংকিং কমিশন গঠনের মত তাদের। তবে বসে নেই কেন্দ্রীয় ব্যাংকও। সম্প্রতি এবার খেলাপি ঋণ কমাতে ঋণ গ্রহীতাদের যোগ্যতা যাচাইয়ে প্রাইভেট ক্রেডিট ব্যুরো (পিসিবি) নামে নতুন সংস্থা তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংক ও গ্রাহকের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে সংস্থাটি গ্রাহকের সম্পদ ও যোগ্যতা নির্ধারণ করে রেটিং দেবে। এর ভিত্তিতেই গ্রাহক ঋণ পাবেন।

বলার অপেক্ষা রাখে না, আইন যদি প্রয়োগ না হয়; তা হলে ওই আইন অর্থহীন। বিচারহীন, প্রতিকারহীন অবস্থায় কোনো কিছু চলতে থাকলে এর পুনরাবৃত্তি তো ঘটবেই। তাই ঋণখেলাপি রোধে সবার আগে প্রয়োজন আইনের কঠোর প্রয়োগ। সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে ঋণখেলাপির জন্য দায়ীদের অবশ্যই আইনানুগ শাস্তি প্রদান করতে হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের  লক্ষ্য হওয়া উচিত সতর্কতা অবলম্বন ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে ঋণখেলাপি কমিয়ে আনা। এটি দুর্যোগ নয়, নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব আইন কার্যকরের মাধ্যমে। আমারা বলবো, ঋণখেলাপি মোকাবিলার জন্য প্রথম প্রয়োজন সঠিক, সুদূরপ্রসারী ও সমন্বিত পরিকল্পনা। অপরিকল্পিত ঋণ দেয়া অব্যাহত থাকলে ব্যাংক খাত ধ্বংস হয়ে যাবে। তাই ব্যাংক খাতের অব্যবস্থাপনা, অদূরদর্শিতা, দুর্নীতি দূর করতে হবে। এসব বিষয়ে এখেই যদি সঠিকভাবে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ না করা হয়, তাহলে পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে চলে যাবে। এর খেসারত দিতে হবে দেশবাসীকে। আমাদের প্রত্যাশা, ঋণখেলাপি থেকে উত্তরণে দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।