add

ঢাকা, শনিবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৪, ৩০ চৈত্র ১৪৩০

বুয়েট: ছাত্র রাজনীতি নিয়ে বিপরীতমুখী ছাত্রলীগ ও ছাত্রদল

সরোবর ডেস্ক 

 প্রকাশিত: মার্চ ৩১, ২০২৪, ০৮:১৬ রাত  

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতি চালু করা না করা নিয়ে আবারও আলোচনায়। নতুন করে ঘটনার সূত্রপাত গত ২৮ মার্চ রাতে। সেদিন ছাত্রলীগের বেশ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা বুয়েট ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন। এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়। কেননা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ঘোষণা অনুযায়ী বুয়েটে সব ধরনের ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ। নতুন করে বুয়েট ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতি চালুর চেষ্টা করা হচ্ছে অভিযোগ জানিয়ে পর দিন দুপুর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের সামনে অবস্থান নেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এসময় শিক্ষার্থীরা ৬ দফা দাবি তুলে ধরেন।

২৮ মার্চ রাতে ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ নেতাদের প্রবেশে সহায়তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুস্পষ্ট বিধিমালা লঙ্ঘন উল্লেখ করে এ অভিযোগে মূল সংগঠক বুয়েটের ২১তম ব্যাচের পুরকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী ইমতিয়াজ রাব্বিকে ক্যাম্পাস থেকে স্থায়ী বহিষ্কার ও হলের সিট বাতিলের দাবি তোলেন শিক্ষার্থীরা।

এ দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ২৯ মার্চ রাতেই বুয়েটের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. ফোরকান উদ্দিনের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ইমতিয়াজ রাব্বির হলের সিট বাতিল করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সার্বিক বিষয়ে তদন্তপূর্বক সুপারিশ দেওয়ার জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্ত কমিটির রিপোর্ট পাওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এদিকে, বুয়েটে নিষিদ্ধ হওয়া ছাত্র রাজনীতি নতুন করে চালু করার পক্ষে দাবি তুলেছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। এরই অংশ হিসেবে রোববার (৩১ মার্চ) দুপুরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাদদেশে সমাবেশ করে সংগঠনটি। সমাবেশে ছাত্রলীগের কয়েক হাজার নেতাকর্মী যোগ দেন। ছাত্রলীগ বলছে, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক চর্চা করা ব্যক্তির সাংবিধানিক অধিকার।

সমাবেশে ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেন বলেন, ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকার নাটক বাংলাদেশ থেকে বন্ধ করতে হবে। অনতিবিলম্বে বুয়েটে ছাত্র রাজনীতি চালু করতে হবে। ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের যে আইন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চালু করেছে সেটি কালো আইন। আইন-আদালতে সে আইন টেকার কথা নয়। আমরা শহীদ মিনারে দাঁড়িয়ে দাবি তুলছি, বুয়েটে অনতিবিলম্বে ছাত্র রাজনীতি চালু করতে হবে এবং স্বল্পতম সময়ের মধ্যে ছাত্র সংসদ নির্বাচন দিতে হবে।

তিনি বলেন, এই দেশের পতাকা, এই দেশের মানচিত্র, এই দেশের মানুষের ভোট ও ভাতের অধিকারের জন্য লড়াই করেছে যে সংগঠন, সেই সংগঠনের কর্মী হওয়ার কারণে কাউকে যদি নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয় তাহলে বাংলাদেশের ছাত্রসমাজের পক্ষে আমরা ঘোষণা করতে চাই, মেঘে মেঘে অনেক বেলা হয়ে গেছে। এই ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ রাখার নাটক বাংলাদেশ থেকে বন্ধ করতে হবে। আমরা এখানে লড়াই করছি মৌলিক মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় যে অন্যায্য, সংবিধানবিরোধী, মৌলিক মানবাধিকারবিরোধী এবং একই সঙ্গে সুস্পষ্ট, খোলামেলা, শিক্ষা বিরোধী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে তাদের উচিত শিক্ষা দেওয়ার জন্য আমরা শহীদ মিনারে দাঁড়িয়েছি। কী অপরাধ করেছে আমাদের রাব্বি? তার অপরাধ, ১৭ মার্চ জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিনে যাদের জন্য জাতির পিতা লড়াই করেছেন তাদের মাঝে ইফতার বিতরণ করেছে। ২৬ মার্চ এ স্বাধীনতা দিবসের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেছে। এটাই রাব্বির অপরাধ।

সাদ্দাম হোসেন আরো বলেন, আমি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়েছি, অনেকবারই যাই। অনেকে এটাকে অনুপ্রবেশ বলার চেষ্টা করছে। বাংলাদেশের যে কোনো জায়গায়, নাগরিক হিসেবে আমার যাওয়ার অধিকার রয়েছে। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সৌজন্যমূলক সম্পর্ক, পারিবারিক সম্পর্ক কিংবা ব্যক্তিগতভাবে কাটানোর জন্য আমরা যেতে পারি। সংবিধান প্রদত্ত অধিকার হিসেবে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার অধিকার আমাদের রয়েছে। কাদের কাছে পারমিশন নিতে হবে? কাদের অনুমতি নিতে হবে? বাংলাদেশের সংবিধান আমাদের যে অধিকার দিয়েছে সে অধিকারকে আপনার মামা বাড়ির আবদারের মতো ঠুনকো বানিয়ে দেবেন, আর আমরা কি সেটা মেনে নেবো? এই আশা যারা করছে তারা বোকার স্বর্গে বসবাস করছে।

ওই প্রতিবাদ সমাবেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মাজাহারুল কবির শয়ন বলেন, বুয়েটের বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন নিষিদ্ধ সংগঠন পোস্টার লাগায়, চিকা মারে। বুয়েট প্রশাসন তাদের উৎসাহিত করে। কয়েকদিন আগের ঘটনায় প্রশাসন কোনো তদন্ত ছাড়া, নোটিশ ছাড়া, নিয়ম বহির্ভূতভাবে একজন শিক্ষার্থীর সিট বাতিল করে। কেন আপনারা সিট বাতিল করেছেন? কেউ আপনাদের চাপ দিয়েছে? আজ বাংলাদেশ ছাত্রলীগের হাজার হাজার নেতাকর্মী যদি চাপ দেয়, পালানোর জায়গা খুঁজে পাবেন না। মনে রাখতে হবে বাঘে ধরলে আঠারো ঘা, ছাত্রলীগ ধরলে ছত্রিশ ঘা।

তিনি বলেন, একটি মহল আবরার ফাহাদের ঘটনাকে উপজীব্য করে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশের যে আবহমান সংস্কৃতি সেই সংস্কৃতিকে বিচ্ছিন্ন করার পাঁয়তারা করছে। এই ঘটনার পর তাড়াহুড়া করে বুয়েট প্রশাসন ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। তৎকালীন সময়ে বুয়েটের নিহত শিক্ষার্থীর পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে আমরা চুপ থাকি। কিন্তু আমরা দেখতে পাই, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ যখন বুয়েট ক্যাম্পাসে তাদের রাজনৈতিক কার্যক্রম বন্ধ করে, তখন বাংলাদেশের আইন দ্বারা যারা নিষিদ্ধ, বিভিন্ন সময় যারা জঙ্গিবাদের সন্ত্রাসের রাজনীতির জন্য অভিযুক্ত তারা সেখানে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকত বলেন, বুয়েট বাংলাদেশের বাইরের কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়৷ বাংলাদেশের সংবিধানের কোথাও ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের বিষয়ে বলা হয়নি৷ রাজনীতি ছাত্রদের নাগরিক অধিকার, বুয়েট কেন ছাত্রদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করবে৷ ‘ছাত্র রাজনীতি করা যাবে না- এটিও একটি রাজনীতি৷ যারা বলছে ছাত্র রাজনীতির দরকার নেই তারাই মৌলবাদী গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পৃক্ত৷ নির্বাচনের আগে সুনামগঞ্জে যে ৩০ জন শিক্ষার্থীকে জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে আটক করা হয়েছিল তারাও কিন্তু নেতৃত্বে রয়েছে৷ ছাত্র রাজনীতি বন্ধের নাম করে প্রগতিশীল চর্চাকে বন্ধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে৷ বুয়েটে মৌলবাদী গোষ্ঠী রয়েছে, তাদের কার্যক্রম চলমান রয়েছে৷ বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে যারা অস্বীকার করছে তারাই চেষ্টা করছে এই বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থিতিশীল করার জন্য।

তিনি আরো বলেন, আমাদের সাধারণ শিক্ষার্থীদের সিমপ্যাথিকে কাজে লাগিয়ে তাদের ব্যবহার করা হয়েছে৷ আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আমরা অবশ্যই নিন্দা জানাই৷ ওই ঘটনার বিচার হচ্ছে৷ কিন্তু এ ঘটনাকে বারবার সামনে এনে এক শ্রেণির গোষ্ঠী এবং ছাত্রশিবির সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করে আন্দোলন করছে৷ আমরা ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে চাইবো বুয়েটে ছাত্র রাজনীতি সচল হোক৷ বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী বাংলাদেশের যে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চলার কথা৷

আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গে তানভীর হাসান সৈকত বলেন, এ ধরনের ঘটনা যে নতুন ঘটেছে তা নয়৷ সনি হত্যা, দীপ হত্যা এবং এর আগেও অনেক হত্যা হয়েছে৷ কিন্তু কোনো বিচার হয়নি৷ ছাত্রলীগের কাছে গৌরবের বিষয় যে আওয়ামী লীগ সরকারে থাকা অবস্থায় আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের বিচার হয়েছে৷ এত বড় একটি দৃষ্টান্ত প্রধানমন্ত্রী স্থাপন করে দেখিয়েছেন, এটি আমাদের গর্ব করে বলার বিষয়৷ আমরা সব সময় বলি, যে কেউ অপরাধ করুক না কেন দলীয় নেতাকর্মী হলেও তার বিচার হচ্ছে৷ কিন্তু সনি হত্যা, দ্বীপ হত্যার বিচার কিন্তু আমরা আজও পাইনি৷ এই বুয়েটে ছাত্রদল এবং শিবিরের হাতে যারা হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে সেসবের কোনো বিচার হয়নি৷ সে প্রশ্নগুলো কিন্তু আমরা তুলতে পারি, কিন্তু সেসব প্রশ্ন কেউ তুলছে না। বুয়েটে ছাত্র রাজনীতি চালু থাকা না থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন বলেন, বুয়েটে ছাত্র রাজনীতি নিয়ে যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে সেটা বাংলাদেশের সামগ্রিক রাজনীতির একটা খণ্ডচিত্র মাত্র। দেখুন, বাংলাদেশের কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্র রাজনীতি বলে বর্তমানে কিছু নেই। যা আছে তা হলো ছাত্র রাজনীতির নামে ছাত্রলীগের নৈরাজ্য ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড।

তিনি বলেন, কিছুদিন আগে যে নির্বাচনটা (সংসদ নির্বাচন) হয়ে গেল সেখানে দেশের জনগণ কিন্তু আওয়ামী দুঃশাসনের রাজনীতিকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে। একজন সাধারণ শিক্ষার্থী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন কর্মী হিসেবে মনে করি, সমগ্র দেশের মতো প্রতিটি শিক্ষাপ্র তিষ্ঠানে ছাত্রলীগের এ দখলদারত্বের রাজনীতিকে সাধারণ ছাত্রসমাজ ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করা শুরু করেছে। এ দেশের সবচেয়ে মেধাবী শিক্ষার্থীদের বিদ্যাপীঠ হিসেবে শিক্ষা ও রাজনীতির সার্বিক অগ্রগতিতে বুয়েট এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘনিষ্ঠ অংশীদারত্ব রয়েছে। কিন্তু ছাত্রলীগের দখলদারিত্বমূলক রাজনীতির শিকার হয়ে সাম্প্রতিক সময়ে বুয়েটসহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মেধাবী শিক্ষার্থী খুন হচ্ছেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থীরা প্রতিনিয়ত শারীরিক-মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। যার ফলে দেশসেরা বুয়েটের শিক্ষার্থীরা আজ ছাত্র রাজনীতির নামে ছাত্রলীগের খুনের রাজনীতির বিপরীতে দাঁড়িয়েছেন’- বলেন নাহিদুজ্জামান শিপন।

ঢাবি ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আরো বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্র রাজনীতির নামে ছাত্রলীগের ‘টর্চার সেল রাজনীতি’ প্রতিষ্ঠার বিপক্ষে দাঁড়িয়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। সুতরাং বুয়েটে এ মুহূর্তে মনে হয় না এই টর্চার সেল রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করার সুযোগ আছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন হিসেবে ছাত্রদল মনে করে, সারা দেশে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর স্ব স্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পূর্ণ সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করা গেলে তবেই বুয়েটসহ সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রকৃত ছাত্র রাজনীতি চালু হওয়া সম্ভব।

এ বিষয়ে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, আবরার ফাহাদকে নৃশংসভাবে হত্যার মাধ্যমে ছাত্রলীগ পুরো ছাত্র রাজনীতিকে কলঙ্কিত করেছে। শুধু বুয়েট নয়, আবরারের হত্যা পুরো ছাত্র সমাজকে নাড়িয়ে দিয়েছে। বুয়েট থেকে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করার জন্য শিক্ষার্থীরা যেভাবে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচি পালন করছে সেসবের পুরো দায়ভার ছাত্রলীগকে নিতে হবে। তিনি বলেন, এখানে অন্য ছাত্র সংগঠনগুলোর কোনো দায় নেই। গত ১৫ বছর ধরে বুয়েট ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বাংলাদেশের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠাকে ছাত্রলীগ একচ্ছত্রভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে। আবাসিক হলগুলো দখল করে রেখেছে। জোর-জবরদস্তি করে শিক্ষার্থীদের ছাত্রলীগের প্রোগ্রামে যেতে বাধ্য করা হচ্ছে।

ছাত্রলীগ এখনো গেস্ট রুমে নির্যাতনের কালচার অব্যাহত রেখেছে দাবি করে ছাত্রদলের এ শীর্ষ নেতা বলেন, ছাত্রলীগের রাজনীতিতে ভিন্নমতের কোনো সুযোগ নেই। আবরার ফাহাদ হয়তো জীবন দিয়ে এ প্রতিবাদে সামিল হয়েছেন। ছাত্রলীগের মানসিক এবং শারীরিক নির্যাতনের শিকার বাংলাদেশের শত শত শিক্ষার্থী। যারা স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারছেন না, মিডিয়াতে তাদের বক্তব্য আমরা শুনতে পাচ্ছি না। তারা নীরবে-নিভৃতে দিনের পর দিন এসব অত্যাচার সহ্য করে একাডেমিক ক্যারিয়ার শেষ করছেন। এ পরিস্থিতির জন্য ছাত্রলীগই একমাত্র দায়ী। বাংলাদেশে যতদিন গণতন্ত্র ফিরবে না ততদিন এ সংস্কৃতির অবসান হবে না। আমরা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে সক্ষম হলে ক্যাম্পাসগুলোতে ছাত্রদল সুস্থ ধারার রাজনীতি উপহার দেবে। তখন ক্যাম্পাসে রাজনীতিবিমুখতার মতো পরিস্থিতির উদ্ভব হবে না। ক্যাম্পাসের মেধাবী শিক্ষার্থীরা দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাজনীতিতে অংশ নেবেন’- এমনটিই মনে করেন ছাত্রদল সভাপতি।

দৈনিক সরোবর/এএস