add

ঢাকা, শুক্রবার, ২৪ মে ২০২৪, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

তিন্নি নাকি এলেভেন

রোদশি আদর

 প্রকাশিত: এপ্রিল ১৬, ২০২৪, ০৯:০৮ রাত  


‘অন্য ভুবন’ উপন্যাসটি হ‍ুমায়ূন আহমেদের মিসির আলি সিরিজের অন্তর্গত। স্বভাবতই এটি কিছুটা সায়েন্স ফিকশন থ্রিলারে পরিণত হয়েছে। গল্পের মূল চরিত্র এবার ৯ বছরের বালিকা তিন্নি। তার সঙ্গেই তুলনা করা হবে ‘স্ট্রেঞ্জার থিংস’ওয়েব সিরিজের এলেভেনের। 

তিন্নি ৯ বছরের একজন অস্বাভাবিক মেয়ে। কারণ সে আগে থেকেই সব বুঝতে পারে। এর মানে এই নয় যে, সে ভবিষ্যৎ দেখতে পারে। সে সামনে থাকা ব্যক্তির মস্তিষ্কে প্রবেশ করে চলমান চিন্তা পড়ে ফেলতে পারে। ফলে আশপাশের মানুষ তাকে ভয় পায়। চিন্তিত বাবা মিসির আলিকে বাড়িতে নিয়ে আসেন। মিসির আলির সঙ্গে তিন্নি টেলিপ্যাথির (মনে মনে একে অন্যের সঙ্গে যোগাযোগ করা) মাধ্যমে কথা বলা শুরু করে। সবচেয়ে ভয়ানক শক্তি হলো, সে মস্তিষ্কে চাপ প্রয়োগ করে মানুষকে যন্ত্রণা দিতে পারে। এর মাধ্যমে সে চাইলে একজনকে হত্যা করে ফেলতে পারে।      

অন্যদিকে এলেভেন ‘স্ট্রেঞ্জার থিংস’সিরিজের রহস্যময় বালিকা। তার বয়স যার ১২ বছর। সে পরীক্ষাগার থেকে পালিয়ে আসে। একই সময়ে উইল নিখোঁজ হয়। তার বন্ধুদের সঙ্গে এলেভেনের পরিচয়। এলেভেন পোর্টাল ম্যানুপুলেশনসহ টেলিপ্যাথির মাধ্যমে অন্য কোনো ব্যক্তির অবস্থান ও কর্মকাণ্ড জানতে পারে। ওেই ব্যক্তির সঙ্গে কথাও বলতে পারে। সে চাপ প্রয়োগ করে কোনো জীবের শরীর কয়েকটি খণ্ডে ছিন্নবিছিন্ন করে ফেলতে পারে। 

তিন্নি ও এলেভেন দু’জন প্রায় একই ক্ষমতার অধিকারী বলা যায়। মস্তিষ্কে চাপ প্রয়োগ করা, বুঝে ফেলা অন্যপক্ষের আসন্ন চাল ইত্যাদি। সিরিজটির সঙ্গে উপন্যাসের আরও মিল রয়েছে। উভয়েরই ওপর এক্সপেরিমেন্ট চলছে। এলেভেনের ওপর গবেষণা চালাচ্ছে আমেরিকান সংস্থা। বলা হচ্ছে, তিন্নি  ভিন্ন গ্রহের জীব। ওই জীব আবার দেখতে গাছের মতো; যেগুলো ডালপালার মতো আশেপাশে ছড়িয়ে আছে। এখনই বুঝে যাবেন যে, সিরিজের আপসাইড ডাউনের প্রাণীও এভাবেই ছড়িয়ে থাকে। উইল ছবি আঁকে এবং জায়গাটার সেভাবে স্বপ্নে দেখে। তিন্নিও অন্য গ্রহের গাছগুলোর ছবি আঁকে। অর্থাৎ উইল ও তিন্নি উভয়ই স্বপ্নের ছবি আঁকছে; যার কোনো সঠিক ব্যাখ্যা নেই। সিরিজে পোর্টাল হিসেবে গাছের ব্যবহার দেখা যায় শুরুতে। আপনারা জেনে অবাক হবেন, তিন্নিও একটি গাছের সামনের ছোট গুহায় অবস্থান করতো। 

মনে হতে পারে যে, হয়তো কোথাও থেকে লেখকরা গল্প চুরি করেছেন। হ‍ুমায়ূন আহমেদের ক্ষেত্রে এর আশঙ্কা নেই বললেই চলে। ‘স্ট্রেঞ্জার থিংস’-এর নির্মাতারা বলেছেন, তারা বিভিন্ন সায়েন্স ফিকশন, থ্রিলার উপন্যাস, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের উড়ো খবর থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে সিরিজটির গল্প লিখেছেন। তবুও বহু মাইল দূরের এ গল্পটির সঙ্গে এটি যেন মিলেমিশে একাকার। এটি বোঝা যায় যে, হ‍ুমায়ূন ওই সময়ের চেয়ে এগিয়ে ছিলেন। 

এবার বলুন তিন্নি ও এলেভেনের মধ্যে লড়াই হলে কে জিতবে?
তিন্নি নাকি এলেভেন?      

দৈনিক সরোবর/কেএমএএ