add

ঢাকা, শনিবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৪, ৩০ চৈত্র ১৪৩০

দীপক ভৌমিকের দশটি কবিতা

সরোবর ডেস্ক 

 প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৪, ০৭:০৫ বিকাল  


                                                   

মনের ম্যাজিক

মনের ম্যাজিক, সমাপ্তির বালিঝড় চত্বরে চত্বরে ঘুরছে।
শেষতম প্রার্থনা, আয়তন, মন হয়ে দাঁড়ায় তুলির ভিটে।
নিজের দেশে ঘুরে ফিরে অন্তিম ট্র্যাপিজ, মেঘপুঞ্জে প্রত্যাবর্তন।
 
মন তুই সম্ভাবনা খুঁজে দেখ
প্রবাদ বেরিয়ে আসবে। বেরোবে আলতাপরী।
দূরের কোনো অপবাদ থাকলে, কাটাকুটির খেলা
চলে আয়। ফন্দি হচ্ছে ফিকির হচ্ছে জিকির হচ্ছে আসকার হচ্ছে
এরপর বিস্ফোরণের ছায়া ছুটে বেড়াবে। সংখ্যা ফুরোবে না।
মন তুই আজ আহ্লাদ করিস না
নতুন কোনো ক্যাঁচাল বেরোবে সুড়সুড় করে
তারপর রাতজনমের রাতজাগা ফুল ভুল হয়ে বাঁচবি।
ডুবতে ডুবতে অন্ধকারে মিরপুরে বৃন্দাবনের সিঙ্গারা খাবি।
মন তোর রক্তের রঙ আলাদা হয় কোন উপায়ে?
চেনা যায় বাধ্য হয়ে ঘুরতে থাকা ক্লান্ত গ্রহকে?
কেমন করে? কীভাবে?
 
টেবিলে জানলা বন্ধ করা বিকেল যদি বিস্ফোরণ হয়ে আসে
রূপান্তরের ধ্বংসগুচ্ছে প্রান্তর হয়ে তুই কিন্তু আসিস
জীবনে কখনো অর্ধেক নাও হতে পারো ওহে জনার্দন।

 

স্বীকার

ভালোবাসবো বলেই কি তুমি অভিযান পাবলিশার্সে নাম জমা দিলে?
মেয়ে, আমার নাম সবুজ বন্দ্যোপাধ্যায়।
এই প্রেক্ষাগৃহে রোজ কৃত্তিবাসের অনুষ্ঠান হয়, দ্রোণ জমা হয়।
একদিন অভিভূত করে দিয়ে সেখানে এক পথিক উদয়।
দুঃখ চেনা বাগান, ঝড় বোঝা-ঠেকানোর শক্তি নিয়েই সে আসে।
 
ভালোবাসবো বলেই তুমি কি রোজ সৃষ্টি করো স্পর্শ আমার?
আকাশ চেনা মেঘবালিকা, তোমার ওই চড়ুইভাতি আমার আলো।
তুমি আর কি কি ভাঙন নিয়ে আসো, জোড়া দেবার আগে?
আমার নানারঙের আলোতে একটা সুড়ঙ্গ রেখেছি তোমার জন্যে।
সন্দেহ নেই গার্হস্থ্য উদ্বেগে শূন্যতায় ভরে উঠছে চারপাশ।
কিন্তু সুখবর একটা ছিলোই,
এই যে কতোভাবে, কতো আঙ্গিকে তোমাকে স্বীকার করছি!!


কুন্তলরোঁয়া

তোমাকে দেখলাম।
দুই কাঁধে উড়ুচুল ভুল করবো বলে অপেক্ষায় আছে।
নক্ষত্ররা স্বার্থপর হয়না জেনেও কোনো নক্ষত্রের স্বর্ণময় ভুল
তোমাকে বাচনসঙ্গী করে আছে।
তোমাকে শুইয়ে দিই আত্মার মেঘে; সেখানেও মহল্লা গড়ে উঠে।
যদি কখনো বসাই তোমার ভেঙে যাওয়া শাখা-পত্রালীতে
বর্ণদ্বেষ ভুলে একান্ত ঘরে রেখে দিই তোমাকে।
তোমাকে দেখার সংকল্প ধাঁধাঁ হয়ে উঠে।
আহ্বান জরুরি তার কাজে চলে যায়-
আর তখুনি অসম্মান কোজাগরী বউ হয়ে আসে।
 
তোমাকে দেখেছি, দেখলাম কুন্তলরোঁয়া।
তোমার সাথে দেখা হলে ঘন হবো, কূটাভাস নিওনা
চিন্তা খুঁড়ে খুঁড়ে প্রেম বলে দোষ দিওনা আমাকে।

 

কবি 

একজন কবি।
তিরতির করে এগিয়ে যায় তার সর্বভুতেষু বাঁক।
তার কবিতায় বৃষ্টি পড়ে, ঝিরঝির করে।
অজ্ঞাত জিজ্ঞাসা পেড়ে নেড়েচেড়ে সন্ধ্যা হয়ে আসে।


নানা রংয়ের নুড়িতে, ঠাণ্ডা হাওয়ায় হাঁটলে
কবির অনেক কিছুই যায় অসে।
দেশে যত আকাল অনিষ্ট, সূর্যাস্ত পেরোনো অন্ধকার
অনাচার, প্রতিক্রিয়াশীলতা ঠেলেঠুলে
তার চরে কখনো অল্প বালি, কখনো বেশি বালি।
কবির আজকের দিনটা যদি আটকে যায় খাদে,
কালকের দিনটা ভিজে সরস হয়ে উঠে অন্তরধামে।
কবির দিন দিনান্তের ডুবযাত্রা আঙুল বড় করে লিখতে হয়।
কবিরা একদিকে প্রমাদপ্রবণ, অন্যদিকে স্রোতের মতো হয়।

কবিকে চুপচাপ ছেড়ে দিলে কোথায় ফিরত
কেউ জানে না। জানেনা রবি ও শশী,
ভেঙে ভেঙে মিশতে পারে কবির ভাবচতুর্দশী;

প্রযুক্তি আর দারিদ্রের কাছে
পাট করে রাখা জীবন স্বস্তি দেয়না কবিকে।
হৃদয়ের দুচোখে সাজানো মানুষ তার
বারেবারে মন চিনে যায়, ক্ষণ চিনে যায়।
কবিরা গুছিয়ে রাখা স্বভাবের অগোছালো অধ্যায়।

কবি চুল বাঁধে, রান্না করে
খবরের কাগজের মতো ছেপে যায় অনন্ত জীবন।

 

অন্তরাভায়

পৃথিবীর কান আর সূর্যের কান
আলোর কাছে মাটি তুচ্ছাকার।
আলোর চৌদ্দ কোটি শরীর মাটির এক নারীকে 
ভালোবাসতে বাসতে ফতুর করে। 
ওই নারী, তার অনেক বীজ, অনেক শস্য 
অণু, পরমাণু ক্ষীণকায় পরম্পরায় ধাবমান। 
ধায় রাত্রি ধায়
ধায় চক্ষু ধায় অন্তরাভায়;

পৃথিবীর রূপালি বান সূর্যের নস্যি নস্যি খেলা।
অথচ যে রূপ রূপালি দিলো,
যে বান থেকে সূর্য নক্ষত্র মঘাশাস্ত্রীয় হতে পারেনি 
সেখানে অতল কোনো মাটির ভালোবাসা বাইরে থেকে বোঝা যায়না। 

সূর্য আর পৃথিবীর কানের এমনি সীমানা।
কেউ কথা বললে কেউ চুপচাপ। 
ওদের অঝোর ঝরা দে দোল দোল
মালাকাইট থেকে বের করে আনা চাবি।
অন্তরের এমনই দাবি। 

পৃথিবীর প্রাণ আর সূর্যের প্রাণ।
অন্তরতম নীড় নিবৃত্তাকার।
ভালোবেসেই উদয় হয়।
ভালোবেসে বোধিসত্ত্ব নিঃশেষ। 

 

সুর্যঘোরা 

দিনের একটা সুর্য।
ঝুলতে ঝুলতে বিষণ্ন মানুষের চেয়েও আলোপানা করে উঠে।
দেহের চাঁদ, মনের চাঁদ, কেদারা চাঁদ সব চাঁদেরই
নানা অছিলায় প্রিয় সাক্ষাত হয়।
হৃদয়ের তিনশ’পয়ষট্টি দিন হলে সুর্যেরও বারোমাস হয়।
এখন মেঘের দল নেই সত্যি।
তবু সুর্যের কাব্যে বাদলের জল থাকে।

রাতের ধনুক কবর থেকে উঠে
সুর্য চলে গেলে।
দিন থেকে দিনের প্রতিজ্ঞাগুলো তখন অন্যদিকে হেলে।
সুর্যের সাক্ষী আকাশজখমের উজ্জীবন কোষ।
সুর্যরা রাস্তা চিনে পথ হারালেও।
কিন্তু তুমি জাহান হারালেও আমি আফরোজ হারাবো না।
কারণ, নায়িকা চরিত্রের সব ছাতা আমার কাছে নেই।

দিনের একটা সুর্য।
রাতে ডুবে গেছে বলে বাদুড়ের অভিলাষ নিয়ে বসোনা।
কারণ কল্কেপোড়া রোদ অমাবস্যার পূর্বরাগ নিয়ে আসে।
দিনের একটা রাতে তুমি নায়িকা থাকো।
তেল রঙে, জল রঙে।
রাতের একটা দিনে তাই 
জল নেমে যায় হৃদয়পাড়ার মাঠে।


দেহ 

যার যার দেহ পড়ে আছে অন্ধকার দেহের ভেতর।
মতাদর্শের এই দেহ, খণ্ডনের এই দেহতালিকা আমাদের অজানা।
এইসব দেহের বায়বীয়তা নিয়ে কোনো মুসাফিরানা সামিয়ানা নেই।
দেহ। তারপরেও সে দেহ।বৃহত্তর থেকে ক্ষুদ্রতর।
ক্ষুদ্রতর থেকে বড়ো কোনো মঞ্চে দেহের অতিথিদল।
এই দেহ থেকেই দায়েশ, দাজ্জাল বেরিয়ে আসে।
এই দেহ থেকেই কাবিনের সোনালি আতর ঘরছাড়া হয়।
দেহ পোড়ানো সন্দেশ, মন থেকে মুছে যায় না।
যেমন মোছেনা প্রাচীনতম গিলগামেশের কাব্য।

দেহ মোবারক থেকে চেহারা মোবারক।
সবখানেই ডুগি বাজায় রূপের নজরানা।
একটি দেহের পাগড়ি মোবারক খসে কন্যার ঘুম ভেঙে দিয়েছিলো।
তারপর থেকে দেহবিচ্ছেদী গান কন্যার হোমালয়ে বিস্তৃত হলো।
নিঃসৃত হলো শব্দবাদ, জোছনা ও রমনীরা, অবশেষে একজন নীরা।

অন্ধকার দেহে সানাইয়ের বাজনা গাঁথা থাকে।
ঝিনুকের মতো মুক্তা হয়ে হয়ে সে আসে পরানজলে।
যার যার দেহ তখন অতিখি মোবারক দেয়, সালাম দেয় নেয়।
যার যার দেহ পড়ে থাকে অন্ধকার দেহে।
মতাদর্শের এই দেহ, খণ্ডনের এই দেহতালিকা বারবার খুচরো হতে থাকে।

 

ছায়াচ্ছন্ন জয় 

ছায়াচ্ছন্ন হাওয়ার রাত, সেও কীনা মাঠে গিয়ে শেষ হয়।
নৈশ মজলিসে উদযাপন আর পানাহারে তুমিও খুলে যাবে একসময়।
কোথাকার কোন সকালবর্দী খাঁ এসে বলবেন, এমন আড্ডার ফাঁস পোক্ত।
এই সময়টায় ক্উাকে পাওয়া যাবে না, সত্যিই দেখা যাবে সঠিক উপরোক্ত।

বহু সময় একসময় বিক্রেতার আসনে গিয়ে বসে, কিস্তিমাত হয়
ক্রেতা হতে গিয়ে সব গিঁট খুলে একরোখা চড়ে বসে, এটাই তার সদ্যজয়

ছায়াচ্ছন্ন হাওয়ার রাত, সেও কীনা মাঠে গিয়ে ঘাটের জ্বরে শেষ হয়!


আমার বাংলা

আমার বাংলা তোমার বাংলা ছিলো না।
সোনার বাংলাও না।আমরা একটা গণ্ডি নিয়ে চলতাম।
ওইখানে একটা বাংলা গণ্ডি, একটা অবিবাহ জগত ছিলো।
এই বাংলাতে মাছরাঙা আসতো অসংসার থেকে,
মগধের মতো জড়ো হতো অপ্রাকৃত সব ফুল,
খুলে যেতো প্রেমের ফটক, হাওয়ায় ভাসতো সেই দেশের ঘোটক।

দ্রোণরঙা, এক ডাহুক স্বদেশিনী, তুমি উল্কাপাত ঘটালে।
তারপর ঝিলমের সব জল জমা হয়ে তোমার স্তনচূড়া গোলাপি হলো।
সেখান থেকে সাঁতরে সাঁতরে মাথা ঠুকে ঠুকে একটা দ্বীপদেশ পেলাম।
আমাদের জীবনে বহু রাস্তা দুর্ঘটনায় জড়িয়েছে, তুরীয় পর্যায়ে ঘটেছে
সাহস দেখানোর প্রতিযোগিতা, সেখানে বাংলা হয়েছে চঞ্চল, অধরা, নীল
আমার বাংলা তোমার বাংলা শুরু থেকেই অদেখা অমিল।

আমিতো সেই অশোক নই,
যে জীবনভর কৌর্ব্বকীর খুঁজে ঝাঁপিয়ে বেড়াবো হৃদয়।
আমার ঘোর অবিশ্বাস নিয়ে ওফেলিয়ার একা থাকা দৃশ্যগুলো
লুকাতে পারবো না স্বার্থপরতায়। দেশ দেশান্তরে
সান্দ্র সান্দ্র করে অনাগত ঘরসংসারে তালা দিইনি আমরা।

আমার বাংলায় হারানো মানুষ আলোকরূপে আসে আমি জানি।
দলকলসের মতোই ছিলাম, স্বরস্বতীর সুর-স্বর-ভাব নিয়েতো
লড়াই ছিলোনা আমাদের, মেঘমল্লারের ঊর্ধকার্নিশে উঁকি দিলেই
সব স্বর্গ জল ছিটাতো আমাদের উপমহাদেশে, প্রবাল প্রাচীরে।

আমার বাংলা কখনো কখনো খুব অপরিচিত।তোমারটা অনুভূতির।
অবিবাহিত জগত থেকে যেই বেরোতে গেলাম, রহস্যমোড়া একটা
রেইনফরেস্ট থেকে ভাসলো তোমার হংসলীলা, ডুবসাঁতার
আমিও পেয়ে গেলাম জোনাকির হাজার প্রণয়, বাংলাও হলো ঘটক।

 

চেহারাসংখ্যা 

বুকপকেটে ফাগুনের গুপ্তচর। অন্যরকম সখ্যসাজ।
ঘাড় থেকে স্মরণ ঠেলেছি, বাকি আছে কিছু সুপ্তফাঁদ।
অজস্র কাঁটাতার ঠেলে শিখরচূড়ায় দেরি হলে আজ
দারুণ সাড়া পেয়েই যাবো, স্মরণকৌশলে থাক গুপ্তনাদ।

রসায়নের জোর বেড়েছে, মন পড়ে আছে এক সায়নে।
দেখেশুনে বীজ বুনেছিলাম, ভরসা করিনি একজীবনে।
সময় বুড়ো হলে ফর্সা হয়, বীজের শক্তি তার দ্বৈপায়নে।
বুকের জোরে রেস্তোরাঁ কিনেছিলাম, ইচ্ছে ছিল ওই বিহনে।

মন খারাপ আর ভালো ছিলো বাতিল কাজ, এর বেশি নয়
হাজার টেবিলে শব্দচরে শব্দ করে, বিষ করে দেয় বিষক্ষয়
বাড়ি ফিরে আড্ডা বসাই, স্বর কষাই, জীবন হয় জনমেজয়
অপার ছায়া কথার টুকরো, ঘোরার সময় সে অভ্যাস হয়

মুখচ্ছবি, চেহারাসংখ্যা, ঘনিয়ে আসা সত্য, মনবেহারা
মিলিয়ে যাবে গুমটিঘরে, আলো করে দেবে সব দেখারা


সংক্ষিপ্ত কবি পরিচিতি 
সব্যসাচী লেখক দীপক ভৌমিকের জন্ম ১৯৬৩ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি নারায়ণগঞ্জে। পিতা ও মাতা দু’জনেই স্বনামধন্য শিক্ষক ছিলেন। বাবার অনুপ্রেরণায় ১৯৭৪ সালে লেখায় হাতেখড়ি। ১৯৭৭ সালে ‘অমর একুশে’ শিরোনামে স্থানীয় একটি ম্যাগাজিনে প্রথম কবিতা প্রকাশিত হয়। কবিতা, ছড়া, গল্প, প্রবন্ধ, অনুবাদ, উপন্যাসসহ সাহিত্যের সব মাধ্যমেই বিচরণ রয়েছে তার। চার দশক ধরে পেশাদার সাংবাদিকতার সঙ্গে জড়িত। এছাড়া আবৃত্তি, অভিনয়, গান, যাত্রা ও মূকাভিনয় সব মাধ্যমেই রয়েছে সক্রিয় উপস্থিতি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে এম.এস.এস করেছেন। কণ্ঠশীলন, ছায়ানট, ঢাকা স্কুল অফ ড্রামা, জন মাইম এ্যান্ড প্যান্টোমাইম একাডেমী থেকে আবৃত্তি, গান, নাটক ও মূকাভিনয়ের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নিয়েছেন। দীর্ঘদিন তিনি ঢাকা সাব এডিটরস কাউন্সিলের নির্বাহী সদস্য ছিলেন। বর্তমানে যাত্রাশিল্প উন্নয়ন পরিষদের উপদেষ্টা, যাত্রাশিল্প উন্নয়ন ও গবেষণা কেন্দ্রের সেক্রেটারী  জেনারেল, বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের সাবেক নির্বাহী সদস্য, নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক নির্বাহী সদস্য, উদীচী নারায়ণগঞ্জ জেলা সংসদের সাবেক কার্যনির্বাহী সদস্য। বাংলাদেশ মাইম এসোসিয়েশনের উপদেষ্টা, একতা খেলাঘর আসরের সিনিয়র সহ-সভাপতি, নাট্যচক্রের সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য ও কবিয়াল ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা তিনি। মাইম থিয়েটার এর প্রতিষ্ঠাতা ও সেক্রেটারি জেনারেলের দায়িত্ব পালন করছেন। বাকশিল্পাচার্য নরেন বিশ্বাস প্রতিষ্ঠিত সংগঠন ‘শব্দরূপ’ এ যুক্ত ছিলেন। স্বৈরাচারী এরশাদ সরকারের আমলে তিনি  গ্রেফতার এবং নির্যাতিত হয়েছেন।

সাহিত্য সংগঠন ড্যাফোডিল, পাললিক, জাতীয় কবিতা পরিষদ, প্রগতি সাহিত্য পরিষদ, নারায়ণগঞ্জ কবিতা পরিষদ, অনুপ্রাস জাতীয় কবি সংগঠন, নারায়ণগঞ্জ সাহিত্য জোট, বাংলাদেশ প্রগতি লেখক সংঘসহ বিভিন্ন সাহিত্য সংগঠনের সাথে যুক্ত থেকেছেন। শায়ক, লৌকিক, প্রগতি, আর একটি যুদ্ধের জন্য, পাঁজর ভাঙার শব্দ, কবিতার কম্পাস, লক্ষ্যাপারে ও অফিয়াকাসসহ বহু লিটল ম্যাগাজিন একক ও যৌথভাবে সম্পাদনা করেছেন।

তার প্রকাশিত কবিতার বই অবেলায় অবগাহন (২০০১), রাত্রির মদ্যগান (২০১১), বউমেঘ বন্ধুমেঘ (২০২১) ও সুন্দর না স্ববিরোধিতা (২০২৩)। ১০০ ঞযবধঃৎব চড়ংঃবৎং ড়ভ ইধহমষধফবংয (২০০৫) নামে ইংরেজিতে একটি যৌথ অনুবাদগ্রন্থ রয়েছে। ২০১৩ সালে তাঁর দুটি একক আবৃত্তির সিডি এ্যালবাম বের হয় এবং ব্যাপক সমাদৃত হয়।

২০১৭ সালে কাব্যচর্চায় বিশেষ অবদানের জন্য তিনি কবি সংসদ পদক পান। ২০১৯ সালে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে নলেজ সিটি, ত্রৈমাসিক সাহিত্য পত্রিকা ও আমাদের কফি হাউস থেকে কবি সম্মাননা পান। ২০২৪ সালে মায়ের আঁচল সাহিত্য সামাজিক মৈত্রী পরিষদ (মাআসাপ) সম্মাননা পেয়েছেন। বিশাকা প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত ‘হাজার বছরের বাংলা প্রেমের কবিতায়’ তাঁর লেখা কবিতা স্থান পেয়েছে।

বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ রাইটার্স ক্লাব নারায়ণগঞ্জ, কবিয়াল ফাউন্ডেশন, অনুপ্রাস জাতীয় কবি সংগঠন নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখা ও কবি পরিষদ এর উপদেষ্টা। লেখালেখির সম্পাদক ও নারায়ণগঞ্জ কবিতা পরিষদের সহ-সভাপতি।