add

ঢাকা, রবিবার, ১৬ জুন ২০২৪, ২ আষাঢ় ১৪৩১

সবকিছু দ্রুত এগিয়ে নিচ্ছে ইসি

আন্দোলনসহ ভোটের প্রস্তুতি রাজনৈতিক দলগুলোর

এসএম শামসুজ্জোহা

 প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৩, ০৬:৪৯ বিকাল  

হাতে সময় কম। ঘনিয়ে আসছে দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচন। নভেম্বরের মধ্যেই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার কথা বলেছে নির্বাচন কমিশন। এর মধ্যে সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন নিশ্চিত করার জন্য নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ভোটের এক দফা দাবিতে আন্দোলনের টানা কর্মসূচি দিয়েছে বিএনপি। অন্যদিকে সংসদ নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোর চাপও আছে। সংবিধানের আওতায় থেকে নির্বাচন সম্পন্ন করার জন্য এক মাসের কর্মসূচিসহ ভোটের মাঠ দখলে জোরেশোরে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।

এদিকে বাইরের চাপ ও বিরোধীদের আন্দোলনের কারণে এবারের নির্বাচন দলের জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দিতে পারে বলে বেশ আগে থেকে বলে আসছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। তবে দলের নেতারা বলছেন, চ্যালেঞ্জের বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখে বিএনপি এবারের নির্বাচনে আসতে পারে আবার নাও আসতে পারে। উভয় পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত হচ্ছে আওয়ামী লীগ। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত রোডম্যাপ অনুযায়ী নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে আওয়ামী লীগ। নির্বাচন সুষ্ঠু করতে কমিশনকে সব ধরণের সহযোগিতা করতেও দলটি প্রস্তুত। ক্ষমতাসীনরা বলছে, বিএনপি না এলেও সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হবে।

জানা গেছে, আওয়ামী লীগ, বিএনপি এবং জাতীয় পার্টি-এই তিন বড় দলের পাশাপাশি ভোটের প্রস্তুতি শুরু করেছে বাম প্রগতিশীল ঘরানার রাজনৈতিক দলগুলোও। ডানপন্থি হিসেবে পরিচিত ধর্মভিত্তিক দলগুলোও থেমে নেই। চলমান আন্দোলনের দীর্ঘ ধকলের মধ্যে থেকে এখন সব পক্ষই নিজেদের শক্তি এবং সামর্থ্য অনুযায়ী ঘর গোছানোর কাজ শুরু করেছে। একই সঙ্গে চলছে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ের পদ্ধতিসহ প্রয়োজনীয় কৌশল প্রণয়নের কাজও। রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমনই আভাস মিলেছে।

শাসক দল আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪-দলীয় জোটের শরিকরা ইতোমধ্যে ভোটের প্রস্তুতি শুরু করেছে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোটের শরিকরাও বসে নেই। জোটের বাইরে বাম, ডান, মধ্যপন্থা এবং ধর্মভিত্তিক দলগুলোও ঘর গোছাচ্ছে। ভবিষ্যতে জোটবেঁধে নির্বাচনের ভাবনা মাথায় থাকলেও, আপাতত তারা এককভাবেই নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। জানতে চাইলে এ প্রসঙ্গে এই জোটের অন্যতম প্রধান শরিক দল বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, আমরা মনে করি অবাধ ও সুষ্ঠু ভোটের দাবিতে আগে সারা দেশে আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। রাজপথে সরকারকে পিছু হটাতে বাধ্য করতে না পারলে সুষ্ঠু ভোট এ দেশে আর সম্ভব নয়।

‘নির্বাচনে বিএনপি আসুক বা না আসুক’ বিকল্প রেখেই ভোটের ছক কষছে আওয়ামী লীগ।
দুই জোটের শরিকরা তাকিয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দিকে এবং মনোনায়ন প্রত্যাশীরা ব্যস্ত তদবির-গণসংযোগে।

টানাপড়েন যাই থাকুক না কেনো আগামী সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোটের শরিকদের মধ্যেও। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে আগামী ভোটে অংশ নেবে এই জোটের বড় শরিক জামায়াতে ইসলামী। সেই প্রস্তুতিও চলছে বলে জানা গেছে। দলটি এবার পুরো শক্তি নিয়েই মাঠে নামবে। ৩০০ আসনে প্রার্থী দেওয়ার লক্ষ্য তাদের। তবে বিএনপির সঙ্গে নির্বাচনি মাঠে চূড়ান্ত সমঝোতা হলে তখন পরবর্তী করণীয় ঠিক করবে। 

বিএনপি বলছে, চলমান আন্দোলনের মাধ্যমেই তাদের নির্বাচনের প্রস্তুতি হয়ে যাবে। এই সময়ে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ জোরেশোরে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিলেও বিরোধী দল বিএনপি আন্দোলনের চূড়ান্ত ধাপে যাচ্ছে। এক দফা দাবি আদায়ে লক্ষ্যে মাঠের আন্দোলন তীব্র করার চেষ্টা করছে। তৃণমূল থেকে আন্দোলন পুরোটাই এখন ঢাকাকেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে। 

দাবি আদায় করেই তারা নির্বাচনে যাবেন বলে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, নির্বাচন নিয়ে আমাদের কোনো সমস্যা নেই। প্রস্তুতিতে কোনো ঘাটতি হবে না। ইতিমধ্যে ২০০ আসনের প্রার্থী মোটামুটি ঠিক করা আছে। কিছু আসন তো পূর্বনির্ধারিত থাকে। 

এ প্রসঙ্গে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, বিএনপি নির্বাচনমুখী দল। রাজনৈতিক দল হিসেবে ভোটের প্রস্তুতি তো থাকতেই হবে। আন্দোলনকে অগ্রাধিকার দিয়ে নির্বাচনের প্রস্তুতি নেব আমরা। তবে এই সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাব না। সরকার পদত্যাগের পর যেই কমিশন হবে তাদের অধীনে বিএনপি নির্বাচনে যাবে। এই কমিশন কী ঘোষণা করল না করল তা দেখার সময় নেই।

নির্বাচনে বিএনপি আসুক বা না আসুক বিকল্প রেখে আওয়ামী লীগের ভোট প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভাসহ স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় দলীয় চেয়ারম্যান ও তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে গণভবনে বৈঠক শুরু করেছেন শেখ হাসিনা। এরই মধ্যে তিনি নিজে ভোট প্রার্থনা শুরু করেছেন। আর আগামী অক্টোবর থেকে জেলায় জেলায় নির্বাচনী জনসভার প্রস্তুতি নিচ্ছে দল। 

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেন, আগামী নির্বাচন পর্যন্ত সারা দেশে ধারাবাহিক বিভিন্ন কর্মসূচি থাকবে। 

নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী হতে আগ্রহীরা এরই মধ্যে মনোনয়ন পেতে বিভিন্ন পর্যায়ে তদবির শুরু করেছেন। আর আসনে আসনে শুরু হয়েছে গণসংযোগ। অনেক জেলা-উপজেলায় পাল্টাপাল্টি প্রচারে সহিংসতার ঘটনাও ঘটেছে। তবে এবার মুখ দেখে নয়, জরিপের ভিত্তিতে সাংগঠনিকভাবে দক্ষ, গ্রহণযোগ্য ও জনপ্রিয় ব্যক্তিকে মনোনয়ন দেওয়ার কথা নেতাদের বলে দেওয়া হয়েছে দলের শীর্ষ পর্যায় থেকে। 

প্রার্থিতার বিষয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফর উল্লাহ বলেন, এলাকায় যাদের জনপ্রিয়তা ও সুনাম আছে, তারাই মনোনয়ন পাবেন।

সংসদ ভোটের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে নির্বাচন কমিশন এমনটা জানিয়ে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. আহসান হাবিব খান বলেছেন, নির্বাচনী রোডম্যাপ ধরেই এগিয়ে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন। সংবিধান অনুযায়ী কমিশন যথাসময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। আগামী নভেম্বরের মাঝামাঝি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে। তিনি বলেন, নির্বাচন সামনে রেখে মাঠ প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের আগেভাগেই প্রশিক্ষণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এরই অংশ হিসেবে ১ অক্টোবর থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু হয়েছে। এরপর ধাপে ধাপে বিভাগীয় কমিশনার, ডিআইজি, পুলিশ কমিশনার, ডিসি, পুলিশ সুপারদের এই প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

দৈনিক সরোবর/কেএমএএ