add

ঢাকা, শনিবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৪, ৩০ চৈত্র ১৪৩০

নেতৃত্বে শমসের-তৈমূর

তৃণমূল বিএনপিতে চমক

সরোবর প্রতিবেদক  

 প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৩, ০৪:০০ দুপুর  

জাতীয় সম্মেলনে তৃণমূল চেয়ারপারসন হলেন  শমসের মবিন চৌধুরী, আর মহাসচিব হয়েছেন অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার। তারা দুজনই বিএনপির সাবেক নেতা। দলটির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত ব্যারিস্টার নাজমুল হুদাও বিএনপির নেতা ছিলেন।  মঙ্গলবার জাতীয় সম্মেলনে তৃণমূল বিএনপির নতুন কমিটি গঠিত হয়েছে। 

মঙ্গলবার রাজধানীর রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে দলের জাতীয় সম্মেলন ও কাউন্সিলে আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। সম্মেলন থেকে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনে একক প্রার্থী দেওয়ার ঘোষণা দেন তৃণমূল বিএনপির নেতারা।

সম্মেলনে প্রতিষ্ঠাতা ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার মেয়ে ও তৃণমূল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট অন্তরা সেলিম হুদা বলেন, দেশে একটি সুস্থ রাজনীতির প্রচলন করতে হবে। বর্তমানে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে মানুষ কষ্ট পাচ্ছে। তিনি এসময় তার বক্তব্যে বাবা নাজমুল হুদার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের নানা বিষয় তুলে ধরেন।

চলতি বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন কমিশন থেকে নিবন্ধন পায় তৃণমূল বিএনপি। এর তিন দিনের মাথায় মারা যান প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা। তার মৃত্যুর পর ৬ মে দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হন নাজমুল হুদার মেয়ে অন্তরা হুদা।
তৃণমূল বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা ১৯৯১ ও ২০০১ সালে দুই দফায় খালেদা জিয়ার সরকারে মন্ত্রী ছিলেন। তবে ২০১২ সালে বিএনপির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে বিএনএফ নামে নতুন দল গঠন করেন। সেখান থেকে বহিষ্কার হওয়ার পর ২০১৫ সালে তৃণমূল বিএনপি গঠন করেন তিনি। নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত এই দলের প্রতীক সোনালি আঁশ।

আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে একদিকে ক্ষমতাসীন দল এবং তাদের সমমনা রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। রাজনৈতিক দলগুলো তাদের ক্ষমতা-সক্ষমতা জানান দিচ্ছে। অন্যদিকে বিএনপিসহ অন্যরা সরকার পতনের একদফা দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে।

এরই মধ্যে বিএনপি সরকারের সাবেক মন্ত্রী প্রয়াত ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার তৃণমূল বিএনপিতে যোগ দিলেন বিএনপির সাবেক দুই নেতা। তারা হলেন-বিএনপির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মোবিন চৌধুরী ও বিএনপির চেয়ারপারসনের সাবেক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার। এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে নানা আলোচনা।

মঙ্গলবার জাতীয় সম্মেলন ও কাউন্সিলে দলটিতে যোগ দেন রাজনৈতিক অঙ্গনে আগে থেকে পরিচিত ও আলোচিত মুখ বিএনপির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মোবিন চৌধুরী ও খালেদা জিয়ার সাবেক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকারসহ বিএনপির আরও কয়েক জন নেতা।

তৃণমূল বিএনপিতে যোগদান প্রসঙ্গে এর আগে তৈমূর আলম খন্দকার বলেন, আমি তো আর আওয়ামী লীগে যোগ দেব না। সারা জীবন আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে রাজনীতি করে আসছি। আর বিএনপি আমাকে গত দেড় বছর ধরে বহিষ্কার করে রেখেছে। আমি তো আর দল ছাড়িনি। একজন বহিষ্কৃত লোক কত বছর একটা পতাকা টেনে নিতে পারে এখন আমার পরিচয় কী? মারা গেলে আমার পরিচয় কী হবে? কোন ব্যানারে আমি বক্তব্য দেব। আমার জন্ম তো রাজপথে। যেহেতু বিএনপি আমাকে বহিষ্কার করেছে, সেহেতু আমাকে এখন তৃণমূল বিএনপিকে আঁকড়ে ধরে থাকতে হবে। আমি সেখানেই যাচ্ছি।

তৃণমূল বিএনপির শীর্ষ দুই পদের একটিতে আপনি থাকছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আশা করি শীর্ষ পদেই থাকব। তিনি বলেন, আমাদের রাজনীতি হবে ধর্মীয় মূল্যবোধ, জাতীয়তাবাদী ধারা ও খেটে খাওয়া মানুষের পক্ষে।
তবে এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি বিএনপির আরেক নেতা শমসের মবিন চৌধুরী।

তৃণমূল বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মো. আক্কাস আলী খান বলেন, এরই মধ্যে শমসের মোবিন চৌধুরী এবং তৈমূর আলম খন্দকার তৃণমূল বিএনপির সদস্য হয়েছেন। সদস্য না হলে তো তারা দলে পদ পাবেন না। আর দুজনেই আজ কাউন্সিলে আসবেন এবং তারা শীর্ষ পদেই থাকবেন। এছাড়া দলে যোগ দেওয়ার জন্য বিএনপির আরও অনেক নেতা যোগাযোগ করছেন বলেও জানান তিনি।

১৬ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন কমিশন থেকে এক প্রজ্ঞাপনে তৃণমূল বিএনপিকে নিবন্ধন দেওয়ার কথা জানানো হয়। দলটির নির্বাচনি প্রতীক ‘সোনালী আঁশ’। নাজমুল হুদার মৃত্যুর পর দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে রয়েছেন তার মেয়ে অন্তরা হুদা।

দৈনিক সরোবর/এএস