add

ঢাকা, সোমবার, ২২ জুলাই ২০২৪, ৭ শ্রাবণ ১৪৩১

পেঁয়াজের ঊর্ধ্বমূল্যে জীবন ওষ্ঠাগত

সরোবর প্রতিবেদক

 প্রকাশিত: জুলাই ০৯, ২০২৪, ০৮:৪৪ রাত  

এক কেজি পেঁয়াজ কিনতে গুনতে হচ্ছে ১১০ থেকে ১২০ টাকা। শেষ এক সপ্তাহে কেজিপ্রতি দাম ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। দেড় মাসের ব্যবধানে হয়েছে দ্বিগুণ। যদিও মাত্র কয়েক মাস আগেই পেঁয়াজের ভরা মৌসুম শেষ হয়েছে। বাজারে এখনো দেশি পেঁয়াজের পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। অথচ পেঁয়াজের ঊর্ধ্বমূল্যে সীমিত আয়ের মানুষের জীবন ওষ্ঠাগত। যেখানে আগামী মৌসুম আসতে আরও প্রায় ছয়-সাত মাস বাকি। যে কারণে এখন সাধারণ মানুষের কাছে বড় প্রশ্ন- মৌসুমের শেষে এ বছর নিত্যপ্রয়োজনীয় এ পণ্যটির দাম কোথায় গিয়ে ঠেকবে? এ প্রশ্নের সদুত্তর নেই কারও কাছেই। বাংলাদেশে পেঁয়াজের অস্বাভাবিক দাম বাড়ার ঘটনা গত কয়েক বছরে ঘটছে। ২০১৯ সালে ঘাটতি দেখা দিলে কার্গো বিমানে জরুরিভিত্তিতে পেঁয়াজ আমদানি করতে হয়েছে। তবে ওই সময়ও সেসব পদক্ষেপে খুব বেশি সুফল আসেনি। আড়াইশো টাকা দরে পেঁয়াজ কিনে খেয়েছে মানুষ। এ অবস্থায়ও পেঁয়াজের দাম নিয়ে এখনো টনক নড়েনি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের। দ্রুত বেড়ে চলা এ পণ্যটির দাম কীভাবে নিয়ন্ত্রণ হবে তা নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত এখনো আসেনি।

পেঁয়াজের দাম কমানোর জন্য কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না, ভারত থেকে আমদানি বাড়াতে কোনো উদ্যোগ বা বিকল্প দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানির কোনো পদক্ষেপ আছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রণালয়ের আমদানি ও অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য (আইআইটি) অনুবিভাগের প্রধান অতিরিক্ত সচিব মালেকা খায়রুন্নেছা বলেন, এখনো কিছু চূড়ান্ত নয়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ও কিভাবে পেঁয়াজের দাম কমানো যায় সে পথ খুঁজছে। আমরা আলোচনার মধ্যে আছি। কিন্তু কোনো সিদ্ধান্ত এখনো নেওয়া হয়নি। পেঁয়াজের মৌসুম শেষে দামে অস্থির পরিস্থিতি ২০১৯ সাল থেকে প্রায় প্রতিবছরই হয়ে আসছে। এর আগে অস্থিরতা দেখা দিতো মৌসুমের শেষ ভাগে নভেম্বর-ডিসেম্বরের দিকে। এ বছর সে সময় আরো আগেভাগে এসেছে, যখন নতুন মৌসুমের এখনো সাত মাস বাকি। এ বছর ওই সময় পেঁয়াজের দাম কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, সাধারণ ভোক্তাদের কাছে এটিই এখন সবচেয়ে বড় শঙ্কার বিষয়। এ নিয়ে ব্যবসায়ীরা বলছেন, পেঁয়াজের দাম এবার স্থিতিশীল থাকবে এমন ভাবার কোনো কারণ নেই। দাম আগের সব রেকর্ড ভেঙে দিতে পারে, যদি সময়মতো সঠিক কোনো পদক্ষেপ নেওয়া না হয়।

আগে দেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম বাড়লে ভারত থেকে আমদানি করে বাজার স্থিতিশীল করা হতো। এবার ভারতে পেঁয়াজের উৎপাদন কমেছে। যে কারণে সে দেশেও পেঁয়াজের দাম বেশি। বছরের শুরু থেকেই উৎপাদন কম হওয়ার কারণ দেখিয়ে প্রথমে দেশটি পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছিল। পরে গত মে মাসে আমদানির অনুমতি দিলেও শুল্ক বাড়িয়ে দেয়।

দেশে প্রতি বছর যে পরিমাণ পেঁয়াজের চাহিদা থাকে, তার সিংহভাগই দেশীয় উৎপাদনের মাধ্যমে পূরণ হলেও ঘাটতির পেঁয়াজ আমদানি করা হয়। যার অধিকাংশই আসে ভারত থেকে। যেহেতু ভারত রপ্তানিমূল্য বাড়িয়ে রেখেছে, সে কারণে মিয়ানমার, মিশর, তুরস্ক ও চীন থেকে পেঁয়াজ আমদানি করতে হবে। আমদানির কোনো বিকল্প নেই।- ড. শৈলেন্দ্রনাথ মজুমদার। ভারতে পেঁয়াজের ন্যূনতম রপ্তানি মূল্য (এমইপি) এখন টনপ্রতি ৫৫০ মার্কিন ডলার। যা আমদানি করতে আরো প্রায় ৪০ শতাংশ শুল্ক-কর রয়েছে। এতে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি করতে কেজিপ্রতি খরচ পড়ছে বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৯০ টাকা। যে কারণে এখন খুব বেশি পেঁয়াজ আমদানি করছেন না বাংলাদেশের আমদানিকারকরা।

কৃষকের কাছে পেঁয়াজ নেই: দেশের কৃষকদের ঘরেও এবার পেঁয়াজের মজুত একেবারে কম। কারণ, দেশের বাজারে গত বছরের মাঝামাঝি সময় থেকেই পেঁয়াজের দাম অস্থিতিশীল। সাধারণত প্রতি বছর মার্চের মাঝামাঝি থেকে এপ্রিলের মাঝামাঝি পর্যন্ত মূল মৌসুমের পেঁয়াজ বা হালি পেঁয়াজ তোলেন কৃষক। এ বছর ওই সময়ও পেঁয়াজের দাম বেশি ছিল। যে কারণে দাম বেশি থাকায় আগেভাগেই উত্তোলন করে বিক্রি করেছিলেন চাষিরা। এতে তারা লাভবান হলেও সার্বিকভাবে দেশের মোট উৎপাদনে প্রভাব পড়েছে। এখন পেঁয়াজের নিয়ন্ত্রণ চলে গেছে মজুতদারদের হাতে।

এদিকে, ওই সময় ভারত পেঁয়াজ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে রেখেছিল। যে কোনো সময় সেটি প্রত্যাহার হলে দাম পড়ে যাওয়ার শঙ্কায়ও অনেকে পেঁয়াজ বিক্রি করে দিয়েছিলেন। বাজার তথ্য বলছে, গত মার্চ-এপ্রিলে পেঁয়াজের দাম ছিল যে কোনো বছরের ভরা মৌসুমের চেয়ে বেশি।
 
পেঁয়াজ উৎপাদনে শীর্ষস্থানীয় একটি জেলা পাবনা। সেখানকার পেঁয়াজ বছরজুড়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাওয়া যায়। জেলার সুজানগরের চাষি মানিক হোসেন এবার পাঁচ বিঘা জমি থেকে ৩০০ মণ পেঁয়াজ তুলে বিক্রি করেছেন মার্চের শুরুতে। যা পরিপক্ক হলে প্রায় ৫০০ মণ ছাড়িয়ে যেত। তখন তিনি দাম পেয়েছেন মণপ্রতি প্রায় সাড়ে তিন হাজার টাকা।

এই পেঁয়াজ চাষি বলেন, অন্যান্য বছর ভরা মৌসুমে পেঁয়াজের মণ থাকে দেড় হাজার টাকার মধ্যে। এবার দ্বিগুণের বেশি ছিল। দাম ভালো থাকায় আগেভাগে তুলে বিক্রি করেছি। কম ফলন পেলেও লাভ ভালো হয়েছে।

শুধু মানিক হোসেন নন, বেশ কয়েকজন কৃষক জানান একই ধরনের তথ্য। গত মার্চেও পেঁয়াজের দাম বেশি থাকায় বেশিরভাগ কৃষক পেঁয়াজ বিক্রি করেছিলেন। নভেম্বর-ডিসেম্বরে কী হবে?: দেশে পেঁয়াজ উৎপাদনের বিষয়টি নিয়ে কাজ করে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মসলা গবেষণা কেন্দ্র। এ সংস্থার প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শৈলেন্দ্রনাথ মজুমদার পেঁয়াজ নিয়ে গবেষণা করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর-ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে সাধারণত পেঁয়াজের সবচেয়ে বেশি ঘাটতি থাকে। এবার এখনই পেঁয়াজের বাজার চড়া। ওই সময় পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

তিনি বলেন, দেশে পেঁয়াজ উৎপাদনের বড় অংশ হয় বছরের মার্চ-এপ্রিল মাসে, যা হালি পেঁয়াজ নামে পরিচিত। ওই সময় মোট দেশীয় উৎপাদনের ৮০ ভাগ পেঁয়াজ কৃষক ঘরে তোলেন। তাই পেঁয়াজের দাম মার্চ থেকে পরবর্তী কয়েকমাস কম থাকে। এছাড়াও জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে হওয়া মুড়িকাটা পেঁয়াজ ও জুন-জুলাইয়েও অল্প পরিমাণ গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ হয়ে থাকে। তবে এতে সরবরাহ পরিস্থিতি খুব বেশি পরিবর্তন হয় না। যে কারণে সেপ্টেম্বরের পর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত নতুন মুড়িকাটা পেঁয়াজের ফলন হওয়ার আগের সময়টায় বাজারে পেঁয়াজের কিছুটা ঘাটতি থাকে। ওই সময় কৃষকের কাছে পেঁয়াজের মজুত থাকে না। কিন্তু মজুতদারদের কাছে পেঁয়াজ থাকে তখন। এ সময়ে তারা বাজারে সরবরাহ কমিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা ও দাম বাড়ানোর চেষ্টা করেন।

ঢাকার শ্যামবাজারের একজন ব্যবসায়ী ও আমদানিকারক আবদুল মাজেদ বলেন, এখনই সঠিক পদক্ষেপ না নিলে পেঁয়াজের দাম আগের সব রেকর্ড ভেঙে সবোর্চ্চ হতে পারে। ভোক্তাকে অস্বাভাবিক দামে পেঁয়াজ কিনে খেতে হতে পারে।

আমদানির বিকল্প নেই: দেশে এ বছর পেঁয়াজ উৎপাদনে বড় ঘাটতি থাকায় মৌসুম শেষ হতে না হতেই বাজার তেঁতে উঠছে। এ অবস্থায় বাজার স্থিতিশীল রাখতে আমদানির কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করেন ড. শৈলেন্দ্রনাথ মজুমদার।

তিনি বলেন, দেশে প্রতি বছর যে পরিমাণ পেঁয়াজের চাহিদা থাকে, তার সিংহভাগই দেশীয় উৎপাদনের মাধ্যমে পূরণ হলেও ঘাটতির পেঁয়াজ আমদানি করা হয়। যার অধিকাংশই আসে ভারত থেকে। যেহেতু ভারত রপ্তানিমূল্য বাড়িয়ে রেখেছে, সে কারণে মিয়ানমার, মিশর, তুরস্ক ও চীন থেকে পেঁয়াজ আমদানি করতে হবে। আমদানির কোনো বিকল্প নেই। তবে পেঁয়াজ আমদানির পথটিও এবার খুব সোজা নয়। কারণ, পার্শ্ববর্তী ছয়টি দেশ ছাড়া অন্য দেশগুলোতে ভারত রপ্তানি বন্ধ রাখায় বিশ্ববাজারে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। এমনকি ভারতেও এ বছর প্রায় ৩৫ লাখ টন পেঁয়াজ কম উৎপাদন হয়েছে, সেখানেও দাম তুলনামূলক চড়া।

অন্যদিকে, আরেক রপ্তানিকারক দেশ মিয়ানমারে যুদ্ধ চলছে। এর বাইরে তুরস্ক ও মিশরসহ অন্য দেশগুলো থেকে পেঁয়াজ আমদানিতে ব্যবসায়ীদের বেশ অনীহা রয়েছে।

আমদানিকারক আবদুল মাজেদ বলেন, ভারতের পরে সবচেয়ে ভালো হয় মিয়ানমার থেকে পেঁয়াজ আনতে পারলে। কিন্তু সেখানে যুদ্ধ চলছে। আমদানির সুযোগ নেই। এছাড়া মিশর, তুরস্ক থেকে পেঁয়াজ এনে ব্যবসায়ীরা ২০১৯ সালে কোটি কোটি টাকা লোকসান করেছেন। এক কোটি টাকার পেঁয়াজ ২০ লাখ টাকা বিক্রি হয়নি। পচে নষ্ট হয়েছে। সে ঝুঁকি এবার কেউ নেবে না।

তিনি বলেন, এবার পেঁয়াজের দাম স্বস্তিদায়ক হবে- এমনটি ভাবার কোনো সুযোগ নেই। উৎপাদন অনেক কমেছে। সরকার যা বলছে, তারচেয়েও বেশি কমেছে। ফলে ক্রেতাদের বেশি দামেই কিনতে হবে।
 
‘সরকার এখন নিজে পেঁয়াজ আমদানি করুক। টিসিবির মাধ্যমে নিম্নআয়ের মানুষদের কাছে কম দামে তা বিক্রি করুক’- এমনই ভাষ্য তার। ভারত থেকে সড়কপথে পেঁয়াজ আনা সহজ ও আমদানি খরচ কম হওয়ার কারণে বাংলাদেশের অধিকাংশ আমদানিকারক সেদেশ থেকে পেঁয়াজ আনেন। অন্য দেশগুলো থেকে পেঁয়াজ আনার সুযোগ থাকলেও সেটা মূলত তারা করতে চান না। যে কারণে ২০১৯ সালে সরকার পেঁয়াজের সংকট মেটাতে বড় বড় শিল্পগ্রুপকে আমদানির জন্য অনুরোধ করেছিল। তারা সেসময় কার্গো বিমানে পেঁয়াজ এনেছিলেন।

শ্যামবাজারের আরেকজন ব্যবসায়ী ও আমদানিকারক গোকুল কৃষ্ণ মানিক বলেন, মিশর বা তুরস্ক থেকে আমদানি হলে আনতে হয় জাহাজে। তখন খরচও বেড়ে যায় বেশ কয়েকগুণ, আর অনেকদিন জাহাজে থাকার ফলে পেঁয়াজ নষ্টও হয় বেশি পরিমাণ। আর এখন কার্গো ভাড়া কয়েকগুণ বেড়েছে। ফলে দাম হবে অনেক বেশি। তারপরও ওইসব পেঁয়াজের স্বাদ ও সাইজ ভিন্ন। সাধারণ মানুষ বেশি দামে কিনে খেতে চায় না। যে কারণে ওইসব দেশ থেকে কেউ পেঁয়াজ আমদানি করেন না। ভারতের রপ্তানিমূল্য ও শুল্ক-ভ্যাটের কারণে এবার সেখান থেকেও পেঁয়াজ আনা যাচ্ছে না বলে জানান এ আমদানিকারক। তিনি বলেন, ভারতের পেঁয়াজ আমদানি করতে সরকারকে আন্তরিক হয়ে কোনো পদক্ষেপ নিতে হবে। তা না হলে দিন যত যাবে, সংকট ততই বাড়বে।

চাহিদা ও উৎপাদনের পরিসংখ্যান সামঞ্জস্যহীন: দেশে পেঁয়াজের চাহিদা ও উৎপাদনের সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। একেক সংস্থা একেক রকম দাবি করে। কৃষি সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো উৎপাদন বাড়িয়ে দেখায়, চাহিদা কম দেখায়। অন্যদিকে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য বলে, চাহিদা উৎপাদনের চেয়েও বেশি।

কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের তথ্য অনুসারে, দেশে পেঁয়াজের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ৩০ লাখ টন। এর এক-তৃতীয়াংশ আমদানি করে মেটাতে হয়। তবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাবে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দেশে পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৩৪ লাখ টন। তার আগের বছর পেঁয়াজের উৎপাদন ছিল ৩৫ লাখ টন। অর্থাৎ চাহিদার চেয়েও দেশে এখন বেশি পেঁয়াজ উৎপাদন হচ্ছে। সে হিসাবে বাজারে পেঁয়াজের ঘাটতি হওয়ার কথা নয়। তবে এ পরিসংখ্যান যে ভুল সেটা আবার প্রমাণ হয় আমদানির তথ্য ও বাজার সংশ্লিষ্টদের তথ্যে। কারণ, দেশে প্রতি বছর ৭ থেকে ৮ লাখ টন পেঁয়াজ আমদানি করা হয়। এমনকি পেঁয়াজ আমদানিতে বিশ্বে ১ নম্বর বাংলাদেশ। অর্থাৎ সবচেয়ে বেশি আমদানি করা হয়।

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) হিসাবে, পেঁয়াজ উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান সপ্তম, তারপরেও চাহিদা বেশি হওয়ায় অভ্যন্তরীণ উৎপাদন দিয়ে ঘাটতি মেটানো যাচ্ছে না। ফলে রান্নায় অতি প্রয়োজনীয় এ পণ্যের আমদানি বাড়ছে। তবে আমদানির পরিমাণ এতটাই বেড়েছে যে তা বিশ্বতালিকায় বাংলাদেশকে শীর্ষে নিয়ে গেছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, মানুষের আয় বৃদ্ধি ও পেঁয়াজের ব্যবহারের মধ্যে একটি সম্পর্ক রয়েছে। মানুষের আয় বাড়ার সঙ্গে পেঁয়াজের ভোগও বেড়েছে। এখন প্রক্রিয়াজাত খাদ্যের চাহিদা বাড়ার কারণে পেঁয়াজের ব্যবহার আরও বেড়েছে। দেশে প্রায় ৪০ লাখ টন পেঁয়াজের বার্ষিক চাহিদা রয়েছে। স্থানীয় উৎপাদন দিয়ে এ চাহিদা মেটানো যাচ্ছে না। 

দৈনিক সরোবর/এএস