add

ঢাকা, রবিবার, ১৯ মে ২০২৪, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

বিকাশের মাধ্যমে ব্যাকের টাকা চুরি

রাজশাহী প্রতিনিধি

 প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৩, ০৮:১০ রাত  

ছবিঃ প্রতিনিধি

বিকাশের মাধ্যমে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে পৌনে ৩ লাখ টাকা চুরি হয়ে গেছে। বিদেশ থেকে ফিরে এসে গ্রাহক স্টেটমেন্ট তুলে দেখেন মোবাইল ব্যাংকিং বিকাশের ১০টি নম্বরে এসব টাকা পাঠানো হয়েছে। এজন্য সাইবার আদালতে মামলা করেছেন ইস্টার্ন ব্যাংক রাজশাহী শাখার এক গ্রাহক। এই ঘটনা ঘটেছে রাজশাহীতে।

ভুক্তভোগী আতিকুর রহমান একটি ইনস্যুরেন্স কোম্পানির শাখাপ্রধান। এ ঘটনায় তিনি মঙ্গলবার সকালে মামলা করেছেন। তার পক্ষে আদালতে মামলা দায়ের করেন আইনজীবী শাহীন আলম মাহমুদ। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ইসমত আরা এই মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার তথ্য তুলে ধরে বাদীর আইনজীবী বলেন, আতিকুর রহমান ১৫ আগস্ট ব্যক্তিগত কাজে ভারতে যান। ১৬ ও ১৭ আগস্ট তার ব্যাংক হিসাব থেকে টাকা তুলে নেওয়া হয়। ১৯ আগস্ট তিনি দেশে ফেরেন। ৩ সেপ্টেম্বর তিনি ব্যাংকে টাকা তুলতে যান। তখন ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানায়, তাঁর হিসাবে পর্যাপ্ত টাকা নেই। এরপর ব্যাংক কর্তৃপক্ষ একটি স্টেটমেন্ট দেয়। সেখানে দেখা যায়, ১০টি বিকাশ নম্বরে টাকা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তার হিসাব থেকে দুই লাখ ৭৬ হাজার ৪০০ টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে।

এর মধ্যে ০১৭৩৩২৭৫১৬১ নম্বরে ২০ হাজার ৪০০ টাকা, ০১৭৯০১৪৫৪০২, ০১৬৪০০৯৩৯২৩ ও ০১৬৪০০৯৩৯২২ নম্বরে ২৫ হাজার ৫০০ টাকা করে এবং ০১৭৮৭০২৮৩৩৩, ০১৮২৮১৬২৫১০, ০১৭৭৪৬২৭৪৪৩, ০১৭৯৭৮৫১৫৮০, ০১৭৮৭০০৩৩৮০ ও ০১৫১৭০০২৫৮৯ নম্বরে ৩০ হাজার টাকা করে তুলে নেওয়া হয়েছে।

মামলার আরজিতে বলা হয়, দেশের বাইরে যাওয়ার জন্য তিনি ব্যাংকে ডলার এনডোর্স করতে গিয়েছিলেন। সে কারণে তিনি যে ভারত যাচ্ছেন, তা ব্যাংকের অনেক কর্মকর্তাই জানতেন। আতিকুরের সন্দেহ, তার অনুপস্থিতিতে ব্যাংকের এক বা একাধিক কর্মকর্তা এই টাকা তুলে নিয়েছেন। টাকা তোলার বিষয়টি জানতে পারার পরদিন ৪ সেপ্টেম্বর তিনি নগরীর বোয়ালিয়া থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পুলিশ প্রাথমিক তদন্তও করে। এরপর মঙ্গলবার আদালতে মামলা করলেন আতিকুর।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ইসমত আরা বলেন, আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) আগামী ২৫ অক্টোবর প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তদন্ত কার্যক্রমে সর্বাত্মক সহযোগিতার জন্য ইস্টার্ন ব্যাংকের রাজশাহী শাখাকে নির্দেশনাও দিয়েছেন আদালত। আদালতের আদেশের এই অনুলিপি বাংলাদেশ ব্যাংকের রাজশাহীর নির্বাহী পরিচালক এবং ইস্টার্ন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছেও পাঠাতে বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইস্টার্ন ব্যাংকের রাজশাহী শাখার ব্যবস্থাপক আবির আহমেদ খান বলেন, ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের অনুমতি ছাড়া তিনি কোনো কথা বলতে পারবেন না।

দৈনিক সরোবর/এএস