add

ঢাকা, সোমবার, ২২ জুলাই ২০২৪, ৭ শ্রাবণ ১৪৩১

প্রশ্নফাঁস: স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিচ্ছে আবেদসহ ৭ আসামি 

সরোবর প্রতিবেদক

 প্রকাশিত: জুলাই ০৯, ২০২৪, ০৪:১৬ দুপুর  

দেশে একের পর এক ঘটছে চাঞ্চল্যকর ঘটনা। এরই মধ্যে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (বিপিএসসি) তিন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ ১৭ জনকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৭ আসামি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিচ্ছেন। তারা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিচ্ছেন। 

আসামিরা হলেন- সৈয়দ আবেদ আলী, খলিলুর রহমান, সাজেদুল ইসলাম, আবু সুলেমান মো. সোহেল, মো. সাখাওয়াত হোসেন, সাইম হোসেন, লিটন সরকার।

মঙ্গলবার বেলা দেড়টার দিকে তাদের আদালতে হাজির করা হয়। বেলা ৩ টার দিকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জবানবন্দি দেওয়া শুরু করেন তারা।  

প্রসঙ্গত, বিসিএস পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসে জড়িত সরকারি কর্ম কমিশন-পিএসসির দুই উপপরিচালক মো. আবু জাফর ও জাহাঙ্গীর আলম, সহকারী পরিচালক মো. আলমগীর কবিরসহ ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডি। এ তালিকায় পিএসসির চেয়ারম্যানের সাবেক গাড়িচালক ভাইরাল হওয়া সৈয়দ আবেদ আলী জীবন ও তার ছেলে সোহানুর রহমান সিয়ামও রয়েছেন।

গ্রেপ্তার হওয়া পিএসসির অফিস সহায়ক সাজেদুল ইসলাম বলেন, উপপরিচালক মো. আবু জাফরের মাধ্যমে ২ কোটি টাকার বিনিময়ে ৫ জুলাই অনুষ্ঠিত রেলওয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস করা হয়। তিনি বড় কর্মকর্তাদের ট্রাঙ্ক থেকে পরীক্ষার আগের দিন আমাকে প্রশ্ন সরবরাহ করেন।

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) সোমবার দিনভর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার অন্য অভিযুক্তরা হলেন- পিএসসির ডেসপ্যাচ রাইটার খলিলুর রহমান, অফিস সহায়ক সাজেদুল ইসলাম, অডিটর প্রিয়নাথ রায়, নোমান সিদ্দিকী, আবু সোলায়মান মো. সোহেল, মো. মামুনুর রশিদ, সাখাওয়াত হোসেন, সায়েম হোসেন, লিটন সরকার মো. জাহিদুল ইসলাম, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিকেল টেকনিশিয়ান মো. নিয়ামুল হাসান এবং নারায়ণগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের নিরাপত্তা প্রহরী শাহাদাত হোসেন।

১২ বছরে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসসহ (বিসিএস) ৩০টি নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ উঠে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) ছয় কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত পিএসসির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা হলেন উপপরিচালক মো. আবু জাফর, উপপরিচালক জাহাঙ্গীর আলম, সহকারী পরিচালক এসএম আলমগীর কবির, সহকারী পরিচালক নিখিল চন্দ্র রায়, চেয়ারম্যানের সাবেক গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলী জীবন ও অফিস সহায়ক খলিলুর রহমান। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে কোনো শক্ত প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছিল না। সম্প্রতি সিআইডি বিভিন্ন মাধ্যম থেকে চক্রটির বিষয়ে তথ্য পায়। গোপনে তাদের বিষয়ে অনুসন্ধানও শুরু করে।

এরই ধারাবাহিকতায় চক্রের ১৭ জনের বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পেয়ে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের মধ্যে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যানের সাবেক গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলী জীবনের আলিশান জীবনের চাঞ্চল্যকর অনেক তথ্য সামনে আসছে।

দৈনিক সরোবর/এএস