add

ঢাকা, রবিবার, ১৬ জুন ২০২৪, ২ আষাঢ় ১৪৩১

শিশুর মেধা বিকাশে প্রাথমিক শিক্ষাক্রমই যথেষ্ট

ইশরাত জাহান 

 প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৩, ০৭:০৯ বিকাল  

শিশু মানেই নিষ্পাপ ঝলমলে মুখ, মায়াময় আকর্ষণ অপার সম্ভাবনা। প্রতে্যক শিশুর মধ্যেই লুকায়িত থাকে অনন্য সুপ্ত প্রতিভা। 
তাদের মধ্যে ওই প্রতিভাকে জাগিয়ে তুলতে নিরলস পরিশ্রম-ই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সার্থকতা।

কোমলমতি শিশুদের মধ্যে লুকিয়ে থাকা সুপ্ত প্রতিভা জাগিয়ে তোলার মধ্য দিয়ে উদ্ভাসিত হয় আগামী দিন। আজকের শিশুরাই আগামী দিনের পরিণত মানুষ। তারাই বড়দের স্বপ্ন, জাতির উত্তরাধিকার ও জাতির কর্ণধার। আজ যারা শিশু- তারাই একদিন হবে শিক্ষক, অধ্যাপক, কবি, সাহিত্যিক, সেনাপতি, বিজ্ঞানী, দার্শনিক, অর্থনীতিবিদ ও শ্রেষ্ঠ রাষ্ট্রনায়ক। তারা শুধু পিতা-মাতার আরাধনার ধন নয়, বরং দেশ ও জাতির সম্পদ এবং শ্রেষ্ঠ বিনিয়োগ। শিশুদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশ নিশ্চিত হলে দেশ ও জাতির ওপর পড়বে এর প্রত্যক্ষ প্রভাব। তাই এ অনন্ত সম্ভাবনাময় সম্পদকে রক্ষা করা ও সুন্দর ভবিষ্যৎ সুনিশ্চিত করার বিষয়টি অধিকতর জরুরি।  শিশুর মন, বুদ্ধিমত্তা, আদব-কায়দা, নৈতিকতা ইত্যাদি  দিকে তার বিকাশ নিশ্চিত করতে হবে।

কোমলমতি শিশুদের জন্য প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর বর্তমানে যে শিক্ষাক্রম নির্ধারণ করেছে, তা তার মেধা বিকাশের জন্য যথেষ্ট। অতি উৎসাহী অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে না পাঠিয়ে কিন্ডারগার্টেন বা কেজি স্কুলে পাঠান। শিশুকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশু শ্রেণিতে যেখানে ২টি বিষয়ে পড়ানো হয়, সেখানে কিজি স্কুলগুলোয় ৬টি বিষয়ে পড়ানো হয়। এছাড়া তৃতীয় শ্রেণিতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ানো হয় ৬টি বিষয়। অন্যদিকে কেজি স্কুলগুলোয় পড়ানো হয় ১১টি বিষয়। এতে কোমলমতি শিশুরা মানসিকভাবে অনেক চাপে পড়ে। 

কেজি স্কুলগুলোয়  শিশুরা হয়তো সাময়িকভাবে ভালো ফল করে। কিন্তু পরে কোনো প্রতিযোগিতায় তারা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের থেকে পিছিয়ে পড়ে। কারণ আমাদের প্রাথমিক বিদ্যালয় ৬টি মূল বিষয়ের পাশাপাশি সহশিক্ষা কাযক্রম হিসেবে শারীরিক শিক্ষা, চারু ও কারুকলা এবং সংগীত বিষয়ে নিয়মিত ক্লাস হয়। এতে  শিশুদের বিভিন্ন  ধরনের প্রতিভার বিকাশ ঘটে। 

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জাতীয় দিবসগুলো পালন করা হয়। এ ছাড়া আন্তঃপ্রাথমিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা জাতীয় শিশু পদক প্রতিযোগিতা, বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা গোল্ড কাপ প্রতিযোগিতা ইত্যাদি অনুষ্ঠিত হয়। এই ধরনের প্রতিযোগিতা অংশগ্রহণ করে শিশুর শারীরিক  ও মানসিক বিকাশ ঘটে। মনোবিজ্ঞানীদের মতে , ১ থেকে ৬ বছর বয়সের শিশুদের মানসিক বিকাশ ঘটে বিভিন্ন ধরনের রঙিন খেলনার সঙ্গে খেলার মাধ্যমে। তা কেবল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণিতেই চালু রয়েছে। তাই শিশুর শারীরিক, মানসিক, সামাজিক নৈতিক মানবিক গুণাবলির বিকাশ সাধন কেবল প্রাথমিক বিদ্যালয়েই সম্ভব। 

শুধু বইনির্ভর পড়ার দিকে না তাকিয়ে বাড়িতে শিশুর খেলাধুলার সুযোগ করে দিতে হবে। তার সামনে বাড়ির বড়দের ভালো কাজ ও উন্নত জীবনযাপনের দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে। যেমন- অন্যের মতামতের গুরত্ব দেওয়া, শ্রদ্ধা করা, সময়মতো কাজ করা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা, সত্য ও ন্যায়ের পথে চলা, অসুবিধাগ্রস্তদের সাহায্য সহযোগিতা করা। এসব আদব-কায়দা পরিবার থেকে পেয়ে থাকে শিশুরা।

শিশুরাই জাতির ভবিষ্যৎ রূপকার। তারা সভ্যতা ও সংস্কৃতিতে সুজলা-সুফলা, শস্য-শ্যামলা প্রিয় এই দেশ সোনার বাংলাকে এগিয়ে নিয়ে যাবে বিশ্বদরবারে। তারাই একদিন বিশ্ব পরিচালনায় নেতৃত্ব দেবে। আজকের শিশুদের হাতেই ন্যস্ত হবে আগামী দিনের নেতৃত্ব। 

শিশুর মেধা বিকাশে শিক্ষকের ভূমিকার বিকল্প নেই। শিক্ষক ছাড়া শিশুর বিকাশ সম্ভব নয়। শিক্ষকরা হচ্ছেন মানুষ গড়ার কারিগর।  শিশুর বিকাশে সবচেয়ে বেশি অবদান রাখতে পারেন শিক্ষকরা। শিশুরা সেই শিক্ষকদের থেকেই বিকশিত হবে। শিক্ষকরা হচ্ছেন দেশ ও জাতির আলো। শিশুরা সেই শিক্ষকদের থেকে আলোকিত হবে, বিকশিত হবে। এ জন্য প্রাথমিক শিক্ষার লক্ষ্য কী? এর জবাবে বলা হয়েছে শিশুর শারীরিক, মানসিক, সামাজিক, নৈতিক, মানবিক, নান্দনিক, আধ্যাত্মিক ও আবেগিক বিকাশ সাধন এবং তাদের দেশাত্মবোধে, বিজ্ঞান মনস্কতায়, ও উন্নত জীবনের স্বপ্নদর্শনে উদ্বুদ্ধ করা। শিশুর এসব ধরনের বিকাশ সাধনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হয় শিক্ষকদেরই। 

শিশুরাই দেশ ও জাতির ভবিষ্যৎ কর্ণধার। তাদের বাদ দিয়ে পরিবার, সমাজ, দেশ ও জাতির অস্তিত্ব কল্পনা করা যায় না। তাই সর্বাগ্রে শিশুর বিকাশে আমাদের সবার এগিয়ে  আসা উচিত।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক হিসেবে অভিভাবকদের কাছে অনুরোধ করব, আপনারা আপনাদের শিশুসন্তানকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ করে দিন। তাহলে আপনাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ভিত মজবুত হবে এবং উন্নত ও সমৃদ্ধশালী জাতি গড়ে উঠবে। 

লেখক : সহকারী শিক্ষক, সিংগা মডেল সরকারি প্রাথমমিক বিদ্যালয়, দুর্গাপুর, রাজশাহী

দৈনিক সরোবর/কেএমএএ