add

ঢাকা, শুক্রবার, ১৪ জুন ২০২৪, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

অনলাইনে চাকরির প্রতারণা

তদন্তের মাধ্যমে শাস্তির দৃষ্টান্ত স্থাপন করুন

সম্পাদকের কলম

 প্রকাশিত: মে ২২, ২০২৪, ০৮:৩৭ রাত  

অনলাইনে আকর্ষণীয় চাকরির প্রলোভনে পড়ে হাজারো বাংলাদেশি প্রতারণার শিকার হয়েছেন। মোটা অঙ্কের টাকা খুইয়ে নিঃস্ব হওয়ার সংখ্যাও কম নয়। তাদের অধিকাংশই ব্যবসায়ী এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তা। তবে সামাজিকভাবে হেয় হওয়ার ভয়ে মুখ খুলতে রাজি হন না অনেকে। এখন পর্যন্ত এ সংক্রান্ত মোট ৪০টি মামলা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা খুইয়েছেন। অনলাইন চাকরির নামে প্রতারণার যাবতীয় কার্যক্রম দেশের বাইরে থেকে পরিচালিত হয়। প্রতারণার কাজে তারা ব্যবহার করে মোবাইল ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান বিকাশ ও নগদের এজেন্ট এবং বাংলাদেশি তরুণ ফ্রিল্যান্সারদের। প্রতারকদের হয়ে বাংলাদেশের কিছু অসৎ বিকাশ ও নগদের এজেন্ট প্রতারণার এ টাকা নিজেদের কাছে সংগ্রহ করে। ওই টাকা পরে তারা ফ্রিল্যান্সারদের কাছে দেয়। ফ্রিল্যান্সাররা তা নানা কৌশলে বিদেশে অবস্থান করা প্রতারকদের কাছে পাঠায়। তাদের নির্দেশনা দেয়া থাকে বাইনান্সের (ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ) মাধ্যমে বিট কয়েন কিনে প্রতারকদের কাছে টাকা পাঠাতে।

ফ্রিল্যান্সারদের মধ্যে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ভাড়া দেয়ার জন্য ভিন্ন একটি চক্র রয়েছে। তাদের রয়েছে আলাদা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ। এ ধরনের অ্যাকাউন্ট মাসিক তিন থেকে পাঁচ হাজার টাকায় ভাড়া পাওয়া যায়। অনেক ব্যবসায়ী আছেন যাদের পাঁচ-ছয়টি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট রয়েছে। তারা এসব অ্যাকাউন্ট অন্যকে ভাড়া দেয়। নিজেদের এটিএম কার্ড ও চেক বই তুলে দেয় ভাড়া নেয়া ব্যক্তির কাছে। প্রতারণায় সহযোগিতা করার জন্য বিকাশ ও নগদের এজেন্টরা প্রতি লেনদেনে ১০ টাকা এবং দৈনিক মোট লেনদেনের ওপর ২ থেকে ৫ শতাংশ কমিশন পায়। আর ফ্রিল্যান্সাররা দৈনিক ৫০ মার্কিন ডলার অর্থাৎ প্রায় ছয় হাজার টাকা করে বেতন পায়। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ব্যাংককে জানানো হয়েছে। তবে কাজের কাজ তেমন একটা হয় না। কারণ কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্টের লেনদেন বন্ধ করার সুপারিশ করতে হলে পুলিশকে আদালত থেকে অর্ডার আনতে হয়। তাই পুলিশ এসব ঝক্কি নিতে চায় না। বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া এমন প্রতারণা বিষয়ে অনেকে টেলিগ্রাম স্ক্যামও বলে। গ্রাহকদের মেসেজ নিরাপদ রাখার জন্য বিখ্যাত এ অ্যাপ দিয়েই প্রতারণামূলক কাজটি করা হচ্ছে। অথচ তাদের কাছ থেকে কোনো সহযোগিতা পায় না বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ফেসবুক ও ইউটিউবের মতো প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে বিটিআরসি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত যোগাযোগ হয়। তারা বিভিন্ন তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করে। টেলিগ্রাম থেকে এ সহযোগিতা পাওয়া যায় না। তাদের সদিচ্ছা থাকলে এ ধরনের অপরাধ তাৎক্ষণিক বন্ধ করা সম্ভব হতো। তাদের উচিত সন্দেহজনক অ্যাকাউন্টগুলো বন্ধ করে দেয়া।

বলার অপেক্ষা রাখে না, অনলাইনে চাকরি দেয়ার প্রতারণা থেকে বাঁচার উপায় হচ্ছে নিজস্ব সচেতনতা।  অনেক গ্রাহকই নিয়মিত মোবাইল বা হোয়াটসঅ্যাপে  চাকরির বিজ্ঞাপন ও লিংক পেতে পারেন। লিংকগুলোয় কোনোভাবেই ক্লিক করা ঠিক হবে না। এছাড়া মেসেজ ডিলিট করে সঙ্গে সঙ্গে নম্বরটি ব্লক করে দিতে হবে। বাংলাদেশের বাস্তবতায় ব্যক্তিকেই সর্বোচ্চ সতর্ক ও সজাগ থেকে এ ধরনের বিজ্ঞাপনে প্রভাবিত না হয়ে যোগ্যতা অনুযায়ী কর্মের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। এর পাশাপাশি আইন প্রয়োগের মাধ্যমে অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে পারলে প্রতারণামূলক কৌশল বন্ধ করা সম্ভব।  আমরা মনে করি, এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার দৃষ্টান্ত স্থাপন করা প্রয়োজন। সাইবার পুলিশকে এসব বিষয়ে আরো তৎপর হবে বলে আমাদের প্রত্যাশা।