add

ঢাকা, শুক্রবার, ১৪ জুন ২০২৪, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

এমপিদের শুল্কমুক্ত গাড়ি 

বন্ধে করণীয় পদক্ষেপ নেয়া জরুরি

সম্পাদকের কলম

 প্রকাশিত: মে ১৮, ২০২৪, ০৮:৩৬ রাত  

দেশের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা নিঃস্ব নন। তাদের অর্থ-বিত্তের অভাব নেই। দেশের উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে তাদেরও সম্পদ-অর্থ বৃদ্ধি হচ্ছে। মানুষ রাজনীতি করে গণস্বার্থে। কিন্তু এ নিয়ে প্রশ্ন হাজারটি। তারা আসলে গণস্বার্থে রাজনীতি করলেও নিজের স্বার্থকে জলাঞ্জলি দেন না; বরং কি করলে নিজের অর্থ-বিত্ত বাড়ে, এ ব্যাপারে শতভাগ সচেতন। দীর্ঘদিন ধরে একটি বিষয় দেখা যাচ্ছে, যারা জাতীয় সংসদ সদস্য হন; তারা বিনা শুল্কে গাড়ি আমদানির সুযোগ পান। সরকার নিজেই এটি করে দেয়। সব সরকারের সময়েই এ নীতি বহাল রয়েছে। প্রশ্ন হলো, এমপিদের বিনা শুল্কে গাড়ি আনার সুযোগটি কেন দেয়া হবে। শুল্ক দিয়ে গাড়ি আনলে কি তারা নিঃস্ব হয়ে যাবেন? একজন এমপি যে সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেন, এর বিপরীতে জনগণের কল্যাণে কতটুকু করেন? এ প্রশ্ন অবান্তর নয়। কারণ এমপি হওয়ার পর বিস্ময়করভাবে তাদের সম্পদ বেড়ে যায়। বর্তমানে রাজনীতিবিদরা ক্ষমতা পেয়ে যেভাবে টাকা-পয়সার মালিক বনে যান; এতে সহজেই বোঝা যাবে, তারা রাজনীতি করেন আসলে অর্থবিত্ত বৃদ্ধির জন্য। 

সরকার এবার এমপিদের শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানিতে বাদ সাধছে। এটি কার্যকর হওয়া উচিত। নির্বাচিত হওয়ার পর কোনো রকম শুল্ক ছাড়াই বিদেশ থেকে গাড়ি আমদানি করতে পারেন সংসদ সদস্যরা। তবে এবার আইনপ্রণেতাদের এমন সুবিধা বাতিলের চিন্তা করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। শুল্কমুক্ত ব্যবস্থা তুলে দিয়ে সংসদ সদস্যদের গাড়ি আমদানিতে ৫ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।  তবে এমপিদের শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানি সুবিধা তুলে দেয়ার চিন্তা শেষ পর্যন্ত কার্যকর হবে কি না, তা নির্ভর করছে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের ওপর। মূলত ওই বৈঠকের পর এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে। আগামী (২০২৪-২৫) অর্থবছরের বাজেটে সংসদ সদস্যদের গাড়ি আমদানির শুল্কমুক্ত সুবিধা বাতিল করে নতুন করে শুল্কারোপ করার প্রস্তাব করা হতে পারে। বর্তমানে গাড়ি আমদানির জন্য সিসিভেদে ৮৯ শতাংশ থেকে ৮৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক পরিশোধ করতে হয়। ওই হিসাবে একটি গাড়ির দাম ১ লাখ টাকা হলে সেটি আমদানির জন্য কমপক্ষে আরও ৮৯ হাজার টাকা শুল্ক পরিশোধ করতে হয়। আর সর্বোচ্চ হার ধরা হলে শুল্ক দাঁড়ায় ৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

আমরা চাই, এমপিদের শুল্কমুক্ত গাড়ি আনার সুবিধা রোধ করা  হোক। এতে অন্তত জনগণের অর্থ বেঁচে যাবে। এমপিদের পেছনে জনগণের অর্থ কম ব্যয় না। জনগণের জন্য তারা কতটা নিবেদিত, এ প্রশ্ন বরাবরই রয়েছে। একেকজন এমপির সম্পদের পরিমাণ দেশের মানুষ কমবেশি জানে। জনগণের টাকা লুটেপুটে খাওয়ার কথা রাজনীতিবিদের কখনো ভাবা উচিত নয়। এতে তারা জনগণের মাথার তাজ হয়ে থাকতে পারবেন। তাই আমাদের প্রত্যাশা, এমপিদের শুল্কমুক্ত গাড়ি আনা বন্ধে করণীয় পদক্ষেপ নেবে সরকার।