add

ঢাকা, শুক্রবার, ২৪ মে ২০২৪, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

একদিনে ৩ জনের মৃত্যু 

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ নেয়া জরুরি

সম্পাদকের কলম

 প্রকাশিত: মে ১৫, ২০২৪, ০৮:৪৭ রাত  

গত কয়েক মাস ধরে এডিস মশাবাহী ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ অনেকটা নিয়ন্ত্রণে থাকলেও আবার বাড়তে শুরু করেছে রোগটির প্রকোপ। গত একদিনে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন তিনজন। মৃত তিনজনই ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) বাসিন্দা। নতুন করে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২১ জন। এ নিয়ে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা ১৬৪ জন। আজ বুধবার সন্ধ্যায় স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়। চলতি বছর এ নিয়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৩২ জন মারা যাওয়ার খবর জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ মে পর্যন্ত সারাদেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন মোট ২ হাজার ৫৪৫ জন। তাদের মধ্যে ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকার ৮৫১ জন। এ সময়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন দুই হাজার ৩৭৭ জন। আক্রান্ত ২১ জনের মধ্যে ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকার ১১ জন। এছাড়া ঢাকা বিভাগে একজন, চট্টগ্রামে  ৩, বরিশালে  ৫ ও খুলনায় ১ জন ভর্তি হয়েছেন। এর আগে ১৪ মে ডেঙ্গু আক্রান্ত হন ২৮ জন। ১৩ মে ৩৬ জন, ১২ মে ৪৬ জন, ১১ মে ১৭ জন এবং ১০ মে ৬ জন ডেঙ্গুরোগী হাসপাতালে ভর্তি হন। তবে আলোচ্য দিনগুলোতে কোনো ডেঙ্গুরোগী মারা যাননি। তার আগে ১০ মে ৩১ ডেঙ্গুরোগী হাসপাতালে ভর্তি হন। ওইদিন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা যান একজন।


প্রতি বছর বর্ষাকালে ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা দেয়। ২০২৩ সালের জুন মাস থেকে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করে। গত বছর দেশে ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেন। তাদের মধ্যে ঢাকায় ১ লাখ ১০ হাজার ৮ এবং ঢাকার বাইরে চিকিৎসা নেন ৩ লাখ ১১ হাজার ১৭১ জন। আক্রান্তদের মধ্যে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেন ৩ লাখ ১৮ হাজার ৭৪৯ জন। গত বছর ১ হাজার ৭০৫ জন  মশাবাহিত এই রোগে মারা গেছেন। তা দেশের ইতিহাসে এক বছরে সর্বোচ্চ মৃত্যু। এর আগে ২০১৯ সালে দেশব্যাপী ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়েছিলেন ১ লাখ ১ হাজার ৩৫৪ জন। ওই সময়ে চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীসহ প্রায় ৩০০ জনের মৃত্যু হয়েছিল। এছাড়া ২০২২ সালে ২৮১ জন, ২০২১ সালে ১০৫ জন, ২০২০ সালে সাতজন ও ২০১৯ সালে ১৭৯ জনের মৃত্যু হয়।

প্রতি বছর ডেঙ্গু মোকাবিলা করতে হচ্ছে। কিন্তু নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। এর প্রকোপ দিন দিন বাড়ছেই। ধারণা করা হয়েছিল, এ বছর ডেঙ্গুর প্রকোপ কমে যাবে। অথচ পরিস্থিতি বলছে ভিন্নকথা। অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছে ডেঙ্গু। গত বছরের শুরুতে ডেঙ্গু হানা দেয়। তবে প্রথম মৃত্যু ঘটে ছয় মাসের মাথায়। ওই বছর রেকর্ড ২৮১ জনের মৃত্যু হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুরু থেকে ডেঙ্গু মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপের অভাব রয়েছে। ফলে ভয়াবহতা দীর্ঘ হতে পাবে। দুঃখজনক বিষয় হলো, প্রতি বছর আগাম বার্তা পেলেও কাজের কাজ কিছুই হয় না। এ জন্য প্রতি বছরই ডেঙ্গুতে মৃত্যু ও আক্রান্তের কারণে বাড়তি চাপ নগরবাসীকে আরও উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। গত বছর ডেঙ্গুতে রেকর্ড পরিমাণ আক্রান্ত ও মৃত্যুর পরও পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং করণীয় ঠিক করা হয়নি। এখনো যদি সঠিকভাবে কার্যকর নতুন উদ্যোগ গ্রহণ না করা হয়, তা হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে। এর খেসারত দিতে হবে নগরবাসীকে। তাই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে এখনই কার্যকর উদ্যোগ নেয়া জরুরি।