add

ঢাকা, শনিবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৪, ৩০ চৈত্র ১৪৩০

ছাত্র রাজনীতিতে হাইকোর্ট

মেধাবী শিক্ষার্থীদের প্রাণ রক্ষা জরুরি 

সম্পাদকের কলম

 প্রকাশিত: এপ্রিল ০২, ২০২৪, ০২:৪০ দুপুর  

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) ছাত্র রাজনীতি করা নিয়ে তোলপাড় চলছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ চায়, বুয়েটে ছাত্র রাজনীতি চর্চা চলুক। ছাত্র রাজনীতিমুক্ত বুয়েটে ইতোমধ্যে গোপনে জামায়াত-শিবির ও নিষিদ্ধ কিছু সংগঠন মেধাবী শিক্ষার্থীদের মগজ ধোলাই করে স্বাধীনতাবিরোধী চেতনায় বশীভূত করে ফেলেছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে বুয়েট জামায়াত-শিবির ও নিষিদ্ধ সংগঠনগুলোর মিনি ক্যান্টমেন্টে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিতে উন্মুক্তভাবে ছাত্র রাজনীতি চর্চা শুরু হলে স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াত-শিবির হুমকির মুখে পড়ে। এক সময় নানা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রগকাটা সংগঠন হিসেবে শিবির কুখ্যাতি অর্জন করে। বর্তমানে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সুবিধা করতে না পেরে বুয়েটে আস্তানা গেড়েছে শিবির। বুয়েটে ছাত্র রাজনীতির ওপর নিষেধাজ্ঞা বলবৎ ছিল।  এই সুযোগে শিবির গোপনে বুয়েটের বহু মেধাবী শিক্ষার্থীদের দলে ভেড়াতে সক্ষম হয়েছে। তাই ছাত্রলীগ এখানে রাজনীতি চর্চা করতে চাওয়ায় বুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থী নামধারী শিবিরকর্মীরা এটি মেনে নিতে পারছে না। অবশ্য এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্ররাজনীতি করার ব্যাপারে যে বিধিনিষেধ ছিল, তা উঠে গেছে। বুয়েটে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করে জারি করা প্রজ্ঞাপন স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। ফলে বুয়েটে ছাত্র রাজনীতি করতে আর কোনো বাধা থাকছে না। এই রায়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে ছাত্রলীগ। তাদের দাবি, আবারও বুয়েট ক্যাম্পাসে নিয়মতান্ত্রিক ছাত্ররাজনীতিতে ফিরবেন শিক্ষার্থীরা। উচ্চ আদালতের আদেশ মেনে নেয়ার কথা জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য সত্য প্রসাদ মজুমদার। তবে রাজনীতিমুক্ত ক্যাম্পাসের আকাক্সক্ষা আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পূরণ করতে উপাচার্যের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতি ফেরার মাধ্যমে ‘অন্ধকার দিনগুলো’ যেন ফের ফিরে না আসে, এ জন্য শিক্ষকদের পাশে থাকার আরজি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। 

এদিকে ছাত্রলীগ বুয়েটে ছাত্রলীগের রাজনীতি চর্চা চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে অনড় অবস্থানে রয়েছে। ঘাতক শিবির বুয়েটকে নিজের কব্জায় যাতে নিতে না পারে, এ জন্য সংগঠনের নেতারা ইতোমধ্যে মহড়া শুরু করেছেন। বুয়েটে ছাত্র রাজনীতি ফেরানোর দাবিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির কর্তৃপক্ষকে আলটিমেটাম দিয়েছেন ছাত্রলীগের নেতারা। তবে এই দাবি আদায়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশে পাচ্ছে না ছাত্রলীগ। গত ২৮ মার্চ রাতে বুয়েটে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের প্রবেশ ঘিরে আন্দোলন-পাল্টা আন্দোলনের পর গত রবিবার প্রকাশ্যে নেতাকর্মীদের নিয়ে বুয়েটে প্রবেশ করেন ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক। এ সময় তাদের স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলেন বুয়েটের অনেক শিক্ষার্থী। কিন্তু ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের প্রবেশের খবর পেয়েই বুয়েটের মূল ফটক এবং বিভিন্ন হলের প্রবেশপথগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়। বেলা আড়াইটার দিকে কয়েকশ নেতাকর্মী নিয়ে বুয়েট শহীদ মিনারে ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনান ফুল দিয়ে তাৎক্ষণিক বুয়েট ত্যাগ করেন। তখন বুয়েট ছাত্র ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সদস্য ইমতিয়াজ রাহিম রাব্বি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি মাজহারুল কবির শয়ন ও সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকতসহ বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। 

অন্যদিকে বুয়েটে ছাত্র রাজনীতি করা নিয়ে বিরোধী অবস্থান জানান দিয়েছে বিএনপি। দলটি চায় না, এখানে ছাত্র রাজনীতি চলুক। কারণ হিসেবে বলা যায়, ছাত্রলীগ এখানে রাজনীতি করার সুযোগ পেলে ঘাতক শিবিরের তল্পিতল্পা গুঁটিয়ে কেটে পড়তে হবে। অভিযোগ আছে, বুয়েটের অনেক শিক্ষক শিবিরের রাজনীতির পৃষ্ঠপোষক। এসব শিক্ষককে চিহ্নিত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। আর যদি কোনো শিক্ষার্থী শিবির রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়ে, তাহলে তাদের এ পথ থেকে সরে আসাই ভালো হবে। আমরা চাই, বুয়েটে সুস্থ ছাত্র রাজনীতির চর্চা হোক। আমাদের প্রত্যাশা থাকবে, নোংরা রাজনীতির বলি হবে না আর কোনো মেধাবী ছাত্রের।