add

ঢাকা, রবিবার, ১৬ জুন ২০২৪, ২ আষাঢ় ১৪৩১

রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাই কাম্য

সম্পাদকের কলম

 প্রকাশিত: মার্চ ১৫, ২০২৩, ০৮:৪৫ রাত  

দেশের আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন দ্রুতই এগিয়ে আসছে। কয়েকদিন পরেই শুরু হবে পবিত্র রমজান মাস। এরপরে রাজপথে যুগপৎ যে আন্দোলন চলছে বিএনপির নেতৃত্বে, তা কতটা জমবে বলা মুশকিল। দলটি এখনও নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের জন্য ব্যাকুল হয়ে আছে। শোনা যাচ্ছে একদফা মানে সরকার পতনের আন্দোলন তুঙ্গে নিয়ে যাবার জন্য কোমরবেঁধে নামবে এবার বিএনপিসহ শরীক দলগুলো। 

এদিকে ড. ইউনূসের পক্ষে ৪০ ব্যক্তির একটি বিবৃতিদান বেশ আলোচনার সৃষ্টি করেছে। ডুব মেরে থাকা ড. ইউনূস হঠাৎ করে যেন মাথা তুলে দাঁড়ালেন।

আগামী জাতীয় নির্বাচন আসন্ন হয়ে ওঠায় দেশি-বিদেশি নানা মহলের তৎপরতা যেভাবে আবার আশা করা গিয়েছিল, ঠিক ততটা দৃশ্যমান হচ্ছে না। অন্তরালে কি ঘটছে তা অবশ্য এ মুহূর্তে বোঝার উপায় নেই। যুক্তরাষ্ট্রের জো বাইডেন সরকারের দু’জন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি কিছুদিন আগে ঢাকা সফর করে গেলেন। তারা প্রধানমন্ত্রী সহ সরকারের নানা গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক করেন। কিন্তু বিএনপির সঙ্গে কোনো বৈঠকে বসেনি। 
যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ  দুই ব্যক্তি ঢাকা সফরের পর বিএনপি অনেকটা চুপ হয়ে যায়। পদযাত্রা কর্মসূচি নিয়ে সামনে এগুতে থাকে। এই কর্মসূচির পাশাপাশি আওয়ামী লীগ শান্তি সমাবেশের আয়োজন করে। এতে রাজপথে রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মসূচিতে প্রাণ ফিরে পায়। 

বিএনপি যুগপৎ আন্দোলনের মাধ্যমে যে হুলস্থল ফেলে দেবে বলে আশা করেছিলো, তা খুব একটা দৃষ্টি কাড়তে পারেনি। বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে যেসব দল আছে, তাদের মধ্যে কোনও কোনও প্রবীণ নেতা বাকপটু হলেও স্বাস্থ্যগত সমস্যা বড় বাধা। জোনায়েদ সাকী-একজন তরুণ নেতা, তিনিই দেখা যাচ্ছে বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে থাকা নেতাদের মধ্যে সংবাদমাধ্যম জুড়ে খবরের শিরোনাম হয়ে আছেন। ভিপি নূর বিদেশে সফরের সময়ে ইহুদি রাষ্ট্র ইসরায়েলের এক পদস্থ ব্যক্তির সঙ্গে সলাপরামর্শে লিপ্ত হওয়ায় চারিদিকে সমালোচনার ঝড় বয়ে যায়। বিদেশ সফর শেষে ভিপি নূর গৃহকোণে সময় কাটাতেই পছন্দ করছেন বলে মনে হয়। ছন্দ-পতনে তার রাজনৈতিক জীবন কাটছে বলে ধারনা হয়। 

মোট কথা হলো- বিএনপির আকাশে কালোমেঘ জমাট বেঁধে উঠছে। নির্দলীয় সরকারের দাবি জানিয়ে সংবিধান অনুয়ায়ী আগামী জাতীয় নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে দলটি সংকটে পড়েছে বলে মনে হয়। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করে একাদশ নির্বাচনে অংশ নেওয়াটায় দলটির নীতিনির্ধারনীর রাজনৈতিক দুর্বলতা প্রকাশ্যে চলে আসে। বিদেশে অবস্থানরত দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিতে তাড়াহুড়ো করছেন কি-না, এ প্রশ্ন সামনে চলে আসছে। আগামী জাতীয় নির্বাচন মানে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিএনপি বর্জন করে বসলে দলটির কি ক্ষতি হবে তা ভাবতেও দলের নেতা-কর্মীরা শিউরে ওঠেন। যদি তারা সরকার পতনে সফল না হয়, তাহলে স্বাভাবিকভবেই সংবিধান অনুসারে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নির্বিঘ্নে অনুষ্ঠিত হবে। 

গত রবিবার গুলশানের এবিসি হাউজে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর চার সদস্যের প্রতিনিধি দল আগামী নির্বাচনসহ দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও ইইউভুক্ত কয়েকটি দেশের রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে দেড় ঘন্টার রুদ্ধদ্বার বৈঠক করে। এ বৈঠকে ইইউ কি আশ্বাস বিএনপির নেতাদের দিয়েছে তা আমরা জানি না এবং সংবাদমাধ্যমেও তা প্রকাশ পায়নি। ইইউ-এর কাছে বিএনপি সরকার ও দেশের নির্বাচন নিয়ে যে অভিযোগ উত্থাপন করেছে তার ব্যাপারে ইইউর পরিষ্কার বক্তব্য জানার উপায় নেই। 

তবে সংবিধান অনুসারে নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠিত হওয়ায় ইসি শক্তিশালী স্বাধীন সত্তা। আগামী জাতীয় নির্বাচনে ইসি তার পূর্ণ ক্ষমতা নিয়ে সুষ্ঠু-অবাধ নির্বাচন করতে পারবে বলে আমাদের বিশ্বাস। 

বিএনপির নির্দলীয় সরকারের দাবি ইতোমধ্যে সবার সন্দেহের উদ্যেগ করেছে। বিএনপি মূলত নিরঙ্কুশভাবে ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য একান্তই নিজেদের আপনজনদের দিয়ে নির্দলীয় সরকার গঠন করে ক্ষমতায় যাওয়ার পথ করে নিতে চায়। এটিই এখন সর্বত্র আলোচনার বিষয়। 

সবাই বলাবলি করছে, আগেভাগেই বিএনপির এ দাবি মাঠে মারা গেছে। দলটি পরতে পরতে রাজনৈতি ভুল করছে, রাজনৈতিক চালে এত অনভিজ্ঞ ও আনাড়ি বিএনপি আসলে দীর্ঘ সময়জুড়ে দেশের ক্ষমতায় কিভাবে ছিলো। 

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বিএনপি মরণদশায় পড়তে যাচ্ছে, এ থেকে বাঁচার উপায় খুঁজে মূলত ইইউ এর সঙ্গে সাক্ষাতে গিয়েছিলো। কোনোভাবে তারা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে বিএনপিকে মুত্যুকূপ থেকে উদ্ধার করতে পারে। প্রশ্ন হলো তা ইইউ করতে পারবে কি না এবং সক্ষম কিনা। 

বিএনপি ভেবেছিলো সরকারকে নানা চাপে টলাতে পারবে। কিন্তু টলানোর মতো চাপ বিএনপি দেওয়ার ক্ষমতা রাখে না তা প্রমাণ হয়ে গেছে। বিএনপির পক্ষ নিয়ে বিদেশি কোনো শক্তি আওয়ামী লীগ সরকার ঘাটাতে আসবে তা ভুলেও কেউ বিশ্বাস করে না।

দেশের স্থিতিশীল পরিবেশ নষ্ট করার মতো কোনো কাজ মানুষ দেখতে চায় না। সরকার স্থিতিশীল পরিবেশ ধরে না রাখতে পারলে মানুষ সরকারকে সমালোচনা করবে। সুতরাং রাজনৈতিক কোনো কর্মসূচির নামে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে সেটা অশান্তি বয়ে আনবে। এ ব্যাপারে দায় এড়াতে পারবে না সরকার । ফলে এটাও ঠিক যে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে পরিবেশ কিছুটা তপ্ত অবস্থার মধ্যদিয়ে যাবে তা আন্দাজ করা যায়।

দৈনিক সরোবর/ আরএস