ঢাকা, শুক্রবার, ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২০ মাঘ ১৪২৯

সব অসঙ্গতি দূর করতে ডিসিদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ

সম্পাদকের কলম

 প্রকাশিত: জানুয়ারী ২৫, ২০২৩, ১২:৩৮ রাত  

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার কার্যালয়ে ‘জেলা প্রশাসক সম্মেলন-২০২৩’ এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন- পিআইডি

জেলা সংক্রান্ত ব্যাপারে জেলা প্রশাসক তথা ডিসিদের অনেক গুরুদায়িত্ব আছে। সরকারে নীতি বাস্তবায়নে ডিসিদের ভূমিকাকে খাট করে দেখার সুযোগ নেই। বিশেষ একটি জেলা প্রশাসক হওয়ার কারণে জেলার উন্নতিও নির্ভর করে। জেলা পর্যায়ে যেসব অনিয়ম-দুর্নীতি মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে, তা বন্ধ করা ও নিয়ন্ত্রণে রাখার ওপরেও ডিসিরা যথেষ্ট ভূমিকা নিতে পারেন।

দেশের প্রশাসনযন্ত্র সঠিকভাবে কাজের ওপর সরকার অনেকটাই নির্ভরশীল। এ কারণে দক্ষ জেলা প্রশাসক নির্বাচনে মনোযোগী থাকে সরকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পরপর তিন টার্মের ক্ষমতায় একটি দক্ষ প্রশাসন গড়ে তোলায় কাজ করে আসছেন। যেসব দেশে রয়েছে দক্ষ প্রশাসন, ওইসব দেশে সরকারের নীতি দ্রুত বাস্তবায়িত হয়। এতে জনগণ দ্রুত সুফল ভোগ করে।

প্রতিটি দেশের সরকার, দেশের মানুষের কল্যাণ ও উন্নতির লক্ষ্যে যাবতীয় পদক্ষেপ নিয়ে থাকে। এতে প্রশাসনই সরকারি নীতি বাস্তবায়ন করে মানুষের কল্যাণ ও উন্নতিকে এগিয়ে নিয়ে থাকে। প্রশাসন যদি অদক্ষ ও দুর্নীতিগ্রস্ত হয়, তাহলে সরকার যেমন অসুবিধায় পড়ে, সরকারে গৃহীত নীতি বাস্তবায়ন দেরি হয়, জনগণ দ্রুত সুফল থেকে বঞ্চিত হয়ে থাকে।

সরকার জেলা প্রশাসক নির্বাচনে যথেষ্ট বিচার-বিবেচনা করে থাকে। একটি জেলা নিয়ন্ত্রণে ডিসিকে যথেষ্ট দক্ষতরাও পরিচয় দিতে হয়। মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী আওয়ামী লীগ সরকার রাষ্ট্রক্ষমতায় আসার পর প্রশাসনকে দেশপ্রেম নিয়ে কাজে উদ্বুদ্ধ করে চলছে। সেই সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করাটাও জরুরি। প্রশাসনে যদি মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী লোক থাকে, তাহলে তাদের কাছ থেকে ভালো কিছু আশা করা যায় না।

অতীতে দেখা গেছে, স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি ক্ষমতায় গিয়ে প্রশাসনকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী স্রোতে নেওয়ার চেষ্টা করেছে। প্রশাসনে স্বাধীনতাবিরোধী মনোভাবাপন্ন কর্মকর্তাদের দাপটে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাধারণকারী কর্মকর্তারা কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন।

বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনামলে এটি ঘটছে না, এটা আনন্দের খবর। তবে প্রশাসনে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীরা নেই এ কথা বলা যাবে না, আছে, তবে ঘাপটি মেরে আছে। কখনো যদি স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি ক্ষমতায় আসে, তাহলে ফের তাদের দাপট দেখা যাবে। বাংলাদেশের বর্তমানে যে উন্নতি-অগ্রগতি যাকে বাংলাদেশ সফরে আসা বিশ্বব্যাংকের এমডি বলেছে অবিশ্বাস্য।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের অবিশ্বাস্য যে উন্নতি করেছেন, এতে সরকারের পাশাপাশি প্রশাসনের ভূমিকাকে অগ্রাহ্য করার কোনো উপায় নেই। তারা আন্তরিকভাবে কাজ করেছেন, দেশপ্রেম দেখিয়েছেন। ফলে দেশ তড়িৎ  অর্থনৈতিক শক্তিতে রূপান্তরিত হচ্ছে। মানুষের জীবনযাত্রার মান বদলেছে। ডিসিরা প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় অবস্থান করছেন। প্রতি বছর ডিসিদের নিয়ে সম্মেলন করে থাকে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি।

মঙ্গলবার (২৪ জানুয়ারি) সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের (পিএমও) শাপলা হলে তিন দিনব্যাপী বার্ষিক জেলা প্রশাসক সম্মেলন-২০২৩ উদ্বোধন করেন সরকার প্রধান। এতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, করোনাকালীন এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে সৃষ্ট অর্থনৈতিক মন্দায় সারাবিশ্ব এখন হিমশিম খাচ্ছে। অনেক উন্নত দেশও অর্থনৈতিক মন্দার দেশ হিসেবে নিজেদের ঘোষণা দিয়েছে। কাজেই আমাদের যেন সেটা করতে না হয়, সেজন্যই আমরা কৃচ্ছ্র সাধনের ঘোষণা দিয়েছি, অপ্রয়োজনীয় খরচ কমিয়ে ফেলেছি এবং এই ব্যাপারেও আপনারা সচেতন থাকবেন।

ডিসিদের বিবেচনা করতে হবে, যখনই কোনো প্রকল্প নেওয়া হয়, সেটা ওই এলাকার জন্য কতটুকু কার্যকর। এতে মানুষ কতটুকু লাভবান হবে এবং অপচয় কতটুকু বন্ধ করা যায়, সেদিকে আপনাদের নজরদারি থাকা উচিত। যেহেতু একটা জেলার দায়িত্ব আপনাদের ওপর। স্বাভাবিকভাবে এগুলো আপনারা দেখবেন। কারণ, যত্রতত্র শুধু পয়সা খরচের জন্য প্রকল্প গ্রহণ করা আমি পছন্দ করি না। আর্থিক সংকট অবশ্যই সারা বিশ্বে আছে, আমাদেরও আছে। কিন্তু এমন পর্যায়ে নেই যে, আমরা চলতে পারবো না।

আমাদের অগ্রাধিকার আমাদেরই বিবেচনা করতে হবে। মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা এবং চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করাই আমাদের অগ্রাধিকার। মানুষের কল্যাণের কথা বিবেচনা করে আমাদের কৃষি উৎপাদন যেন বাড়ে সেজন্য যা খরচ লাগে আমরা করবো। অন্য দেশ যা করেনি আমরা বিনামূল্যে ভ্যাকসিন দেওয়ার জন্য হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় করেছি। আমি আমাদের জেলা প্রশাসকদের একটা কথাই বলবো আমি (ক্ষমতায়) আসার পর আমাদের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে এই যে জনমুখী বা জনগণের পাশে দাঁড়ানোর বা জনগণকে সেবা দেওয়ার যে একটা আন্তরিকতা থাকা উচিত সে আন্তরিকতা সৃষ্টি হয়েছে, এই পরিবর্তন আমি দেখেছি আপনাদের মাঝে। আর সেটা যদি না হতো বাংলাদেশের উন্নয়নের যতটুকু কাজ আমরা করতে পেরেছি বা সফলতা পেয়েছি সেটা সম্ভব হতো না।

কারণ, আমরা জনপ্রতিনিধিরা একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্যই ক্ষমতায় আসি। পঁচাত্তরের পর থেকে উর্দি পরে অবৈধভাবে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করে নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণার মতো দুঃসহ অবস্থা দেশে বিরাজমান ছিলো, যদিও ২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর থেকে ২০২২ পর্যন্ত এ ধরনের ঘটনা ঘটেনি। কিন্তু প্রচেষ্টা চলেছে সেখানেও এবং মনুষ্য সৃষ্ট দুর্যোগ, অগ্নিসন্ত্রাস বা গাছকাঁটা মোকাবিলায় মাঠ পর্যায়ের প্রশাসন অত্যন্ত বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেছে। তবে, করোনা এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ না হলে আমরা অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারতাম। এ কারণে আমদানি নির্ভর পণ্যমূল্য এবং পরিবহন ব্যয় উভয়ই বৃদ্ধি পেয়েছে। কৃচ্ছ্র সাধন করতে হবে, অপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি কেনাকাটা পরিহার করতে হবে-আর এভাবে যদি আমরা চলতে পারি তাহলে একটু ধীরগতিতে হলেও উন্নয়নের গতিধারা অব্যাহত রাখতে পারবো।

বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, জেলা প্রশাসকদের ২৫ দফা নির্দেশনা দিয়েছেন। সরকার প্রধানের এই দফাগুলো অবশ্যই ডিসিরা অনুসরণ করে চলবেন। জেলায় বহুবিধও সমস্যা বিদ্যমান থাকে। তার মধ্যে যদি বলা হয়, সেটা হলো ভূমি ও বালি দস্যু। সরকারদলীয় পরিচয়ে সরকারি জায়গা জমি দখল উৎসব চিরাচরিত ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে অনেক সময় সরকারি দলের বড় বড় নেতা পর্যন্ত জড়িত থাকেন।

সংখ্যালঘুদের সম্পত্তি দখল উৎসব চোখের সামনে ঘটে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, জেলা প্রশাসক সরকারের নীতি বাস্তবায়নে মন না দিয়ে স্থানীয় সরকার দলীয় নেতাদের অনাকাঙ্ক্ষিত কথাবার্তা মেনে চলেন। ফলে সরকারের কেন্দ্রকে এ ব্যাপারে সচেতন থাকাটা জরুরি।

ডিসিদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর ২৫ দফা নির্দেশনা-

১. খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা গ্রহণ করতে হবে। পতিত জমিতে  ফসল ফলাতে হবে। কোনো জমি যেন অনাবাদি না থাকে সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে।
২. নিজেরা বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে হবে এবং জনগণকে এ ব্যাপারে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। 
৩. সরকারি অফিসসমূহে সাধারণ মানুষ যেন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বিঘ্নে যথাযথ সেবা পায় তা নিশ্চিত করতে হবে। সেবা প্রত্যাশীদের সন্তুষ্টি অর্জনই যেন হয় সরকারি কর্মচারীদের ব্রত।
৪. সরকারি তহবিল ব্যবহারে কৃচ্ছতা সাধন করতে হবে।
৫. এসডিজি স্থানীয়করণের আওতায় নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রাসমূহ অর্জনে তৎপরতা জোরদার করতে হবে।
৬. দেশে একজনও ভূমিহীন ও গৃহহীন থাকবে না। গৃহহীনদের জন্য গৃহনির্মাণ, ভূমিহীনদের কৃষি খাসজমি বন্দোবস্তসহ সকল সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে যেন প্রকৃত অসহায়, দুস্থ ও সুবিধাবঞ্চিত প্রান্তিক শ্রেণির মানুষ সুযোগ পায় তা নিশ্চিত করতে হবে। জমি ও ঘর প্রদানের পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।

৭. শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহের পাঠদান কার্যক্রমের মানোন্নয়নে উদ্যোগী হতে হবে। অপেক্ষাকৃত দুর্গম এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দিতে হবে।

৮. কমিউনিটি ক্লিনিক ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রসমূহ যেন কার্যকর থাকে তা প্রতিনিয়ত তত্ত্বাবধান করতে হবে।
৯. শিশু-কিশোরদের শারীরিক-মানসিক বিকাশের লক্ষ্যে তাদের জন্য প্রত্যেক এলাকায় সৃজনশীল চর্চা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও ক্রীড়া সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।
১০. নাগরিকদের সুস্থ জীবনাচারের জন্য জেলা-উপজেলায় পার্ক, খেলার মাঠ প্রভৃতির সংরক্ষণ এবং নতুন পার্ক ও খেলার মাঠ তৈরির উদ্যোগ নিতে হবে।

১১. পরিবর্তনশীল বিশ্বের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সর্বোচ্চ সুবিধা নিতে উচ্চ প্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন দক্ষ শ্রমশক্তি গড়ে তুলতে কাজ করতে হবে।
১২. সরকারি দফতরসমূহের ওয়েবসাইট নিয়মিত হালনাগাদ করতে হবে। নিজ নিজ জেলার সরকারের উন্নয়ন, অগ্রগতি ও সাফল্য ওয়েবসাইটে তুলে ধরতে হবে।

১৩. জনসাধারণের মধ্যে তথ্য-প্রযুক্তি ও ইন্টারনেটের নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিতকরণে কাজ করতে হবে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অপব্যবহার, গুজব ইত্যাদি রোধে উদ্যোগ নিতে হবে।

১৪.  আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যেন কোনোভাবেই অবনতি না হয়, সেদিকে নজরদারি জোরদার করতে হবে।
১৫.  মিথ্যা গুজব ছড়িয়ে কেউ যেন সম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে না পারে, সে বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে।

১৬. মাদক, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস দূর করতে হবে। নিরীহ ধর্মপ্রাণ মানুষ যেন জঙ্গিবাদে জড়িত না হয় সেজন্য সচেতনতা তৈরির উদ্যোগ নিতে হবে। যুব সমাজকে মাদক, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ থেকে মুক্ত রাখতে হবে।
১৭. বাল্যবিবাহ, ইভটিজিং, খাদ্যে ভেজাল, নকল পণ্য তৈরি ইত্যাদি অপরাধ প্রতিরোধে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করতে হবে।

১৮. বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখতে, কৃত্রিম সংকট রোধকল্পে ও পণ্যমূল্য স্বাভাবিক রাখতে বাজার মনিটরিং কার্যক্রম জোরদার করতে হবে।
১৯. সরকারি জমি, নদী, বনভূমি, পাহাড়, প্রাকৃতিক জলাশয় প্রভৃতি রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। ভূমির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিতকরণের উদ্দেশ্যে নতুন সরকারি প্রতিষ্ঠান স্থাপনে ভবনের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণকে প্রাধান্য দিতে হবে।

২০. নিয়মিত নদী ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নাব্য বৃদ্ধি করতে হবে। স্লুইচগেট বা অন্য কোনো কারণে যেন জলাবদ্ধতার সৃষ্টি না হয়, সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। বিশেষ করে জলাবদ্ধতার জন্য যেন উৎপাদন ব্যাহত না হয় তা নিশ্চিত করতে হবে।

২১. বজ্রপাত-প্রবণ এলাকায় তালগাছ রোপণ করতে হবে।
২২. পর্যটন শিল্পের বিকাশ এবং রক্ষণাবেক্ষণে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। নতুন নতুন পর্যটন স্পট গড়ে তুলতে হবে।

২৩. জেলার নিজস্ব ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি রক্ষা এবং জেলাভিত্তিক বিখ্যাত পণ্যসমূহের প্রচার, বিপণন এবং ব্র্যান্ডিং করতে হবে।
২৪. জনস্বার্থকে সবকিছুর ঊর্ধ্বে রেখে সেবার মনোভাব নিয়ে যেন সরকারি দফতরগুলো পরিচালিত হয়, সে লক্ষ্যে মনিটরিং জোরদার করতে হবে।

২৫. জেলার সব সরকারি দফতরের কার্যক্রমসমূহ যথাযথ সমন্বয়ের মাধ্যমে ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত, সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ তথা ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ বিনির্মাণে আপনাদের ব্রতী হতে হবে।

আমরা মনে করি বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়ার জন্য যে পথে হাঁটছেন, এতে সফল হওয়ার জন্য ডিসিদের একাত্ম হয়ে কাজ করতে হবে। ডিসিরা যদি সরকারের নির্দেশ উপেক্ষা করে চলেন তাহলে সেটা সরকারের জন্য বিব্রতকর। অনেক সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী নিজেদের ব্রিটিশ আমলের লর্ডদের মতো নিজেকে ভাবেন। তিনি ভাবেন না যে সরকারের টাকায় তার বেতন হয়, যত সুবিধা সব জনগণের টাকায়। ফলে জনগণের সেবা করাই তার প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত। এমনও কোনো কাজ করবেন না তারা যেন জনগণের স্বার্থবিরোধী হয়। অবশ্য সরকারের উচিত হবে প্রশাসন যন্ত্র যেন দেশপ্রেম নিয়ে জনগণের সেবায় সঠিকভাবে চলে।

দৈনিক সরোবর/এমকে