add

ঢাকা, সোমবার, ২২ জুলাই ২০২৪, ৭ শ্রাবণ ১৪৩১

প্রশ্নফাঁসে জড়িতদের শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি

সম্পাদকের কলম

 প্রকাশিত: জুলাই ০৮, ২০২৪, ০৮:৫১ রাত  

গত ১২ বছরে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের (বিসিএস) পরীক্ষাসহ ৩০টি নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশনের (বিপিএসসি) ঊর্ধ্বতন তিন কর্মকর্তাসহ ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সিআইডি ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেপ্তার করা তাদের মধ্যে রয়েছেন পিএসসির ঊর্ধ্বতন তিন কর্মকর্তা ও একজন অফিস সহকারী এবং পিএসসির চেয়ারম্যানের সাবেক ড্রাইভার সৈয়দ আবেদ আলীও। অভিযুক্ত পিএসসির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা হলেন উপপরিচালক মো. আবু জাফর, উপ-পরিচালক জাহাঙ্গির আলম, সহকারী পরিচালক এস এম আলমগীর কবির, সহকারী পরিচালক নিখিল চন্দ্র রায়, চেয়ারম্যানের সাবেক গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলী জীবন ও অফিস সহায়ক খলিলুর রহমান। বিপিএসসির কোনো নিয়োগ পরীক্ষা এলেই প্রশ্নফাঁস করে অর্থ লোপাটে মেতে উঠতো সংঘবদ্ধ চক্রটি। প্রশ্নফাঁসকারী চক্রটি  ৫ জুলাই অনুষ্ঠিত রেলওয়ের উপ-সহকারী প্রকৌশলীর নিয়োগ পরীক্ষাকে বেছে নেয়। ৫ জুলাই সকাল ১০টা থেকে ১২টা পর্যন্ত যে প্রশ্নে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়, হোয়াটসঅ্যাপে তার একটা কপি পাঠানো হয় পরীক্ষার অন্তত এক ঘণ্টা আগে। আর অজ্ঞাত স্থানে রেখে চুক্তিবদ্ধ শিক্ষার্থীদের তা পড়ানো হয় আগের রাতেই।

বলার অপেক্ষা রাখে না,  প্রশ্নফাঁস দীর্ঘদিন ধরেই চলে আসছে। তা এখন ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছ। মানুষের বিবেক বোধ দিন দিন অর্থের কারণে বিপর্যয় হচ্ছে। এভাবে  প্রতিনিয়ত এ রকম ঘটনা ঘটেই চলছে। শুধু এমন ঘটনাই নয়; দুর্নীতি আর অর্থ লোভ মানুষের ব্যাধিগ্রস্ত করে তুলেছে। এসব কেবল আইনশৃঙ্খলার অবনতির দৃষ্টান্তই নয়, সামাজিক অসুস্থতারও লক্ষণ। মানুষের মূল্যবোধের অবক্ষয়, আইন প্রয়োগের অভাবে এ ধরনের প্রবণতা বাড়ছে। এ থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীতে এগিয়ে আসতে হবে।  প্রশ্নফাঁস রোধে অভিযান বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। শাস্তি প্রদিানের অভাবে অপরাধীদের মধ্যে সৃষ্টি হচ্ছে অতিরিক্ত লোভ। এ ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা দরকার। এসব অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে; যেন আর কোনোভাবেই কেউ প্রশ্নফাঁসের চিন্তাও করতে না পারে। এটি দেশ ও মানুষের জীবনের স্বাভাবিকতা বজায় রাখার স্বার্থেই জরুরি। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির বিধান না করলে একের পর এক এ ঘটনা ঘটতেই থাকবে। আমরা প্রত্যাশা করি, এমন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক; যেন এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ হয়।