add

ঢাকা, রবিবার, ১৬ জুন ২০২৪, ২ আষাঢ় ১৪৩১

দেশে পশু পালন

খামারিদের স্বাবলম্বীতে ব্যবস্থা নিন

সম্পাদকের কলম

 প্রকাশিত: জুন ১১, ২০২৪, ০৮:০৫ রাত  

দেশে পশু পালনে বিপ্লব ঘটে গেছে। এতে সরকারের অবদান কম নয়। ভারতীয় গরু আসা বন্ধ করার পর থেকে দেশের খামারিরা বিপুল উৎসাহ নিয়ে পশু পালনে মনোনিবেশ করেন। বলা চলে সরকারি তেমন প্রণোদনা ও সহায়তা না থাকলেও পশু খামারিরা দেশের অর্থনীতি বিশাল অবদান রেখে যাচ্ছেন। এতে একদিকে যেমন অর্থনীতির ওপর ভীষণ ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে, অন্যদিকে তেমনি মানুষ স্বাবলম্বী হয়ে নিজের পায়ে দাঁড়াতে সক্ষম হয়েছে। আসন্ন কোরবানির ঈদে বিক্রির জন্য খামারিরা লাখো পশু প্রস্তুত করেছেন। চলতি বছর চাহিদা রয়েছে ১ কোটি ৭ লাখ পশুর। কিন্তু দেশে ১ কোটি ২৯ লাখ ৮০ হাজার ৩৬৭টি পশু প্রস্তুত রয়েছে। এর মধ্যে গরু-মহিষ ৫৩ লাখ ৬১ হাজার, ছাগল-ভেড়া ৭৬ লাখ ১৮ হাজার এবং অনান্য ১ হাজার ৮৫০টি। ফলে চাহিদার চেয়ে ২২ লাখ ৭৮ হাজার অতিরিক্ত গবাদিপশু প্রস্তুত রয়েছে। এসব পশু অবিক্রীত থাকার আশঙ্কা রয়েছে। এর সঙ্গে চাহিদা অনুসারে বিক্রি না হলে সংখ্যাটা আরও বাড়তে পারে।

দেশে পশু প্রস্তুতে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে রাজশাহী বিভাগ। বিভাগটিতে ১৭ লাখের মতো পশু উদ্বৃত্ত থাকতে পারে। অন্যদিকে ঢাকা বিভাগে পশু ঘাটতি হতে পারে সাড়ে ৯ লাখ। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগেও পশুর ঘাটতি রয়েছে। একদিকে চাহিদার তুলনায় বেশি পশু থাকা, অন্যদিকে খামারিদের পশু পালনে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে। কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা তীব্র খরা, এরপর ঘূর্ণিঝড়ের কারণে তীব্র ক্ষতির কবলে পড়েছেন পশু উৎপাদনকারী খামারিরা। হিট স্ট্রোকে হাজারো গরু-ছাগল, মহিষ ও ভেড়া অসুস্থ হয়েছে। এতে পশুগুলোর ওজন কমেছে। সার্বিকভাবে বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন খামারিরা। পশুখাদ্যের উৎপাদন খরচ বৃদ্ধির কারণে খামারিরা আরও নাজেহাল পরিস্থিতিতে রয়েছেন। এ কারণে উৎপাদন খরচ ২০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। পশুকে বারবার গোসল করানো, টিনের চালে পাটের ভিজা বস্তা রাখা, স্যালাইন ও গ্লুকোজ খাওয়ানো এবং পাখা চালিয়ে কোনো রকমে সামাল দেওয়া হচ্ছে পরিস্থিতির। ভালো দাম না পেলে খামারিরা ক্ষতির কবলে পড়তে পারেন। আবার দাম বেশি হলে ভোক্তাদের মধ্যে চাহিদা কমে যেতে পারে। তাই খামারিদের সহায়তা বৃদ্ধির মাধ্যমে খরচ কমাতে পারলে ভোক্তারা কমদামে পশু কিনতে পারবেন। এতে খামারি ও ভোক্তা উভয়ই লাভবান হতে পারবে।

বলার অপেক্ষা রাখে না, পশু পালনের যে সংস্কৃতি দৃঢ়তর হয়ে উঠেছে; এটিকে দেশের সর্বত্র ছড়িয়ে দিতে হবে। এখন সারা দেশে সমানতালে পশু পালন হতে দেখা যাচ্ছে না। অথচ উত্তরবঙ্গেই পশু পালনে এগিয়ে আছে। অনেক জেলায় বিচ্ছিন্নভাবে করা হলেও ব্যাপকভিত্তিক হচ্ছে না। এটি ব্যাপক ভিত্তিতে হলে দেশের সব এলাকাতেই মানুষ অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে উঠতে পারবে।
তাই পশুর খামারিদের জন্য সরকারের সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করা উচিত। পশু খামারিদের আরও উৎসাহিত করার জন্য সরকারের মহাপরিকল্পনা হাতে নেয়ার কথা ভাবতে হবে। আমাদের প্রত্যাশা থাকবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ খামারিদের স্বাবলম্বী করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা করবে।