add

ঢাকা, রবিবার, ১৪ জুলাই ২০২৪, ৩০ আষাঢ় ১৪৩১

ঝিনাইদহে অ্যান্টিভেনম-সংকট, বিপাকে সাপে কাটা রোগী

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

 প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৩, ০৯:১২ রাত  

ঝিনাইদহে প্রতিনিয়ত বাড়ছে সাপের উপদ্রব। প্রায় প্রতিদিনই সাপে কাটা রোগী আসছে হাসপাতালে। মঙ্গলবার একই দিনে জেলার শৈলকুপা উপজেলার দিঘল গ্রামের তাবাচ্ছুম তমা (৬) এবং হরিণাকুন্ডু উপজেলার দুর্লভপুর গ্রামের সিনথিয়া (৫) নামের দুই শিশু সাপে কেটে মারা গেছে। এ নিয়ে চলতি সেপ্টেম্বর মাসেই জেলায় ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এদিকে ঝিনাইদহ সহ পাশ্ববর্তি  মাগুরা, চুয়াডাঙ্গা,মেহেরপুর জেলার হাসপাতালেও কোন এন্টিভেনম না থাকায় সাপে কাটা রোগীরা পড়েছে চরম বিপাকে। যদিও চিকিৎসকেরা বলছেন, এ সংকট সারা দেশে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,জেলায় সাপে কাটা রোগীর সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। চলতি বছর জেলায় ১৭ জন সাপে কাটা রোগী মারা যান।

সাপে কাটা রোগী নিয়ে কাজ করা স্বেচ্ছাসেবক আব্দুল্লাহ মারুফ জানান, প্রায় পাঁচ বছর হলো কাজ করছি। এ সময়ে তিন শতাধিক সাপে দংশনের রোগীর পাশে থেকে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছি। এর মধ্যে ৭০ জনের বেশি বিষাক্ত সাপে দংশনের রোগী সুস্থ্য হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন, আর মারা গেছেন তিনজন। আমি নিজেও বিষাক্ত সাপের দংশনের শিকার হয়ে অ্যান্টিভেনম নিয়েছি।

মারুফ জানান, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের ভেনম রিসার্চ সেন্টার চেষ্টা করছে দেশে অ্যান্টিভেনম উৎপাদন করার। ভারতের তামিলনাড়ু থেকে অ্যান্টিভেনম আমদানি করা হয়। এ ছাড়া ওষুধ কোম্পানি ইনসেপ্টা অ্যান্টিভেনমের কাঁচামাল আমদানি করে দেশে ম্যানুফ্যাকচারিং করে। তিনি জানান, এ অঞ্চলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে। সাপেদের থাকার জায়গা ধংস হয়েছে, আবার সাপ খেয়ে বেঁচে থাকে এমন প্রাণীর সংখ্যাও কমে এসেছে। এ কারণে সাপের উপদ্রব বেড়ে গেছে।

এ বিষয়ে সিভিল সার্জন ডাঃ শুভ্রা রানী দেবনাথ বলেন, এ মুহুর্তে জেলার মহেশপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২০ ভায়াল এন্টিভেনম আছে যা দিয়ে দু'জন রোগীর চিকিৎসা দেয়া যাবে। এ ছাড়া কালিগঞ্জে আছে ৪০ ভায়াল, কোটচাঁদপুরে ২০ ভায়াল, হরিণাকুন্ডুতে ২০ ভায়াল। তবে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল এবং শৈলকুপা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে কোন এন্টি ভেনম নেই। তিনি জানান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে চাহিদা দেয়া হয়েছে। নিয়মিত যোগাযোগ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, এ নিয়ে জেলা আইনশৃংখলা মিটিংয়ে কথা হয়েছে। এটি অনেক দামি ওষুধ,সব সময় দরকারও হয়না এ জন্য লোকাল ফার্মেসীতেও পাওয়া যায় না।

 তবে হাসপাতালের তত্তাবধায়ক জানিয়েছেন, ঢাকা থেকে অ্যান্টিভেনম আসতে ১০ দিন সময় লাগবে। আগে চাহিদা দেয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পেয়ে যেতাম। এখন সংকট থাকতে পারে।  এ কারণে সাপে কাটা রোগী এলে বাইরে থেকে অ্যান্টিভেনম কেনার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। 

সিভিল সার্জন জানান,একজন সাপে কাটা রোগীর জন্য ১০ ভায়াল এন্টিভেনম একবারে পুশ করতে হয়। তিনি সাপে কাটা রোগীদের ওঝা কিংবা কবিরাজের কাছে না নিয়ে সোজা হাসপাতালে ভর্তি করার পরামর্শ দেন। এন্টিভেনম সংকটের বিষয়ে জেলা প্রশাসক এস এম রফিকুল ইসলাম বলেন, দ্রুত ব্যবস্থা নিতে সিভিল সার্জনকে বলা হয়েছে।

দৈনিক সরোবর/এএস