add

ঢাকা, রবিবার, ১৬ জুন ২০২৪, ২ আষাঢ় ১৪৩১

ক্যাম্পে ক্যাম্পে রোহিঙ্গাদের সমাবেশ

কক্সবাজার প্রতিনিধি

 প্রকাশিত: জুন ০৮, ২০২৩, ০৬:১৬ বিকাল  

রোহিঙ্গারা মাতৃভূমি মিয়ানমারে ফেরার দাবিতে কক্সবাজারের ক্যাম্পে ক্যাম্পে সমাবেশ করেছে। এ সময় তারা প্রত্যাবাসন বিরোধী ষড়যন্ত্র হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন। মিয়ানমারে ফিরতে ইচ্ছুকদের রেশন বন্ধ না করে প্রত্যাবাসনের কাজ করার জন্য জাতিসংঘের আন্তরিক সহযোগিতা চেয়েছেন রোহিঙ্গা নেতারা। 

উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলার অন্তত ১৩টি শারণার্থী আশ্রয়শিবিরে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে একযোগে রোহিঙ্গারা মানববন্ধন ও সমাবেশে অংশ নেন। আশপাশের অনেক ক্যাম্প থেকে এসব সমাবেশে যোগ দেন রোহিঙ্গারা।   

প্রত্যাবাসন নিয়ে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে আলোচনা ও দুই দেশের প্রতিনিধিদের সফর ও নানাবিধ পদক্ষেপের মধ্যে রোহিঙ্গারা এই সমাবেশ করল। 

সমাবেশে রোহিঙ্গা কমিউনিটি নেতারা বলেন, মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর নির্যাতন-নিপীড়ন, হত্যা, ধর্ষণের মুখে প্রাণ ভয়ে তারা পালিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেন। সেসময় বাংলাদেশ সরকার মানবিক কারণে তাদের আশ্রয় দিয়েছে। যার জন্য রোহিঙ্গারা এদেশের প্রতি কৃতজ্ঞ। 

ছয় বছর ধরে লাখ লাখ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অমানবিক ও বন্দি জীবন কাটাচ্ছে মন্তব্য করে বক্তারা বলেন, তারা দ্রুতই নিজেদের দেশে ফিরতে চান, নিজের বসতভিটায় যেতে চান। প্রত্যাবাসনের জন্য দুই দেশের মধ্যে যে আলোচনা চলছে তা সফল করার আহ্বান জানান নেতারা।   

এ সময় রোহিঙ্গা নেতারা অভিযোগ করে বলেন, দুই দেশের আলোচনার মধ্যে একটি মহল প্রত্যাবাসন বন্ধের ষড়যন্ত্র করছে। তারা আরও বলেন, তারা নিজ দেশ মিয়ানমারে ফিরতে মরিয়া। নাগরিকত্ব প্রদানের শর্ত মেনে রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যাবাসন জরুরি।  

প্রত্যাবাসনে রাজি হওয়া চারটি পরিবারের ২৩ সদস্যের খাদ্য সহায়তা ইউএনএইচসিআরের পক্ষ থেকে বন্ধ করার সমালোচনা করেন রোহিঙ্গা নেতারা। তারা প্রত্যাবাসনের জন্য জাতিসংঘের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন। 

উখিয়ার কুতুপালং লম্বাশিয়া চৌরাস্তার মাথার সমাবেশে বক্তব্য দেন ক্যাম্প-১ ইস্ট এবং ওয়েস্ট কমিউনিটি নেতা জুবায়ের, মাস্টার কামাল, মৌলভী নুর হোসেইন, মৌলভী ছৈয়দ উল্লাহ, মাস্টার শামসুল আলম; সাত রাস্তার মাথার সমাবেশে বক্তব্য দেন ক্যাম্প- ৩ ও ৪ এর আবদুল গফুর, রশিদ মিয়া; পোড়া বাজারের মাঠের সমাবেশে বক্তব্য দেন ক্যাম্প ৯, ১০ ও ৮/ইস্টের মান্নান হোসেন, রফিক উল্লাহ। 

লম্বাশিয়া চৌরাস্তার মাথা (ক্যাম্প ১ ইস্ট এবং ওয়েস্ট), ক্যাম্প ৪ এর সাত রাস্তার মাথা (ক্যাম্প-৩, ৪, ৪ এক্সটেনশন), ক্যাম্প-০৫ এর নিচে ঢালে (ক্যাম্প-০৫ এবং ৮ ওয়েস্ট, ক্যাম্প-১৭), ক্যাম্প-৯ এর পোড়া বাজারের মাঠে (ক্যাম্প-৯, ক্যাম্প-১০, ক্যাম্প-৮/ইস্ট), ক্যাম্প-১১ মরাগাছ তলায় (ক্যাম্প-১২ সহ), ক্যাম্প-১৩ এর সিআইসি অফিসের পিছনে ফুটবল খেলার মাঠ, ক্যাম্প-১৯ এর সিআইসি অফিসের সামনে, ক্যাম্প-১৫ এর সিআইসি অফিসের পাশে (ক্যাম্প-১৪, ১৫, ১৬), ক্যাম্প-২০ এর সিআইসি অফিসের সামনে (ক্যাম্প-২০, ২০ এক্সটেনশন), ক্যাম্প-১৮ এর সিআইসি অফিসের সামনের রাস্তায়, ক্যাম্প-২৪ এর সিআইসি অফিসের সামনে, ক্যাম্প-২৬ এর সিআইসি অফিসের সামনে এবং ক্যাম্প-২৭ এর সিআইসি অফিসের সামনে এসব সমাবেশ করে রোহিঙ্গারা। 

বাংলাদেশে ১২ লাখের অধিক রোহিঙ্গা শরণার্থী রয়েছে। তাদের প্রত্যাবাসন আলোচনা দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর চলতি বছর আবার শুরু হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে গত ১৫ মার্চ মিয়ানমারের একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে আসে। সে সময় প্রায় ৫০০ রোহিঙ্গার তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে ফিরে যায় দলটি। 

দৈনিক সরোবর/আরএস