add

ঢাকা, সোমবার, ২২ জুলাই ২০২৪, ৭ শ্রাবণ ১৪৩১

কোটা আন্দোলনে ফাঁকা রাজধানী

সরোবর প্রতিবেদক 

 প্রকাশিত: জুলাই ০৮, ২০২৪, ০৫:৫৩ বিকাল  

কোটা সংস্কার, মেধাভিত্তিক নিয়োগ এবং ২০১৮ সালের সরকারি পরিপত্র পুনর্বহালের দাবিতে রাজধানীসহ দেশজুড়ে চলছে তীব্র আন্দোলন। কোটা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা গত এক সপ্তাহ ধরে জেগে উঠেছে। বিশেষ করে রবিবার ‘বাংলা ব্লকেড’ নামে রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক অবরোধ করেন কোটা আন্দোলনকারীরা। এতে কয়েক ঘণ্টার জন্য ঢাকা প্রায় অচল ছিল। থমকে ছিল হাজার হাজার যানবাহন। তীব্র যানজটে ভোগান্তিতে পড়েছিলেন নগরবাসী। এ ভোগান্তি ও যানজটের প্রভাবে সোমবার সকাল থেকে রাজধানী ফাঁকা। ভোগান্তি এড়াতে বেশিরভাগ মানুষ রাস্তায় বের হয়নি। সড়কে যানবাহনের সংখ্যাও কম। তুলনামূলক গণপরিবহনও নেই।

এরই মধ্যে কোটা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী সোমবার ঢাকাসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ সড়কের মোড়ে মোড়ে ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি রয়েছে। বেলা সাড়ে ৩টা থেকে শিক্ষার্থীদের নেমে পড়েছে তারা।

রাজধানীর শাহবাগ, বাংলা মটর, ফার্মগেট, মহাখালী, কলাবাগান, মিরপুর রোড, মিরপুর, আগারগাঁও ও মগবাজারসহ আরো কয়েকটি সড়ক ঘুরে দেখা যায়, ছুটির দিনের মতো আজ শহরের প্রতিটি রাস্তা ফাঁকা। অল্প কিছু যানবাহন রয়েছে সড়কে।

কয়েক জন গাড়িচালক ও নগরবাসী জানান, গতকাল কোটা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সড়ক ব্লক করার প্রভাবে রাজধানীজুড়ে সারা দিন যানজট ছিল। শিশু, নারী ও বৃদ্ধসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। এ কারণে খুব প্রয়োজন ছাড়া মানুষ বাইরে বের হচ্ছে না। আবার যারা বের হয়েছেন, তারা ব্যক্তিগত গাড়ি বাসায় রেখে রিকশায় চলাচল করছেন।

বাংলা মটর মোড়ে কথা হয় বেসরকারি প্রতিষ্ঠান চাকরিরত আশরাফুলের সঙ্গে। তিনি বলেন, আমার অফিস বাংলা মটর। গতকাল মোহাম্মদপুরে বাসায় যেতে প্রায় তিন ঘণ্টা সময় লেগেছে। তাই আজ গাড়ি ছাড়াই অফিসে এসেছি। আরেক ব্যক্তি বলেন, গতকালের মতো আজ আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা রাস্তা ব্লক করবে। যানজটে চলাচল বন্ধ হতে পারে। এ রকম হলে আমাদের অনেক ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম কমিশনার (ট্রাফিক-দক্ষিণ) এস এম মেহেদী হাসান বলেন, গতকাল কোটা আন্দোলনের প্রভাবে ঢাকায় প্রচণ্ড যানজটের সৃষ্টি হয়েছিল। তবে বিকল্প রাস্তা দিয়ে যানজটে পড়া গাড়িগুলোকে চলাচলের সুযোগ করে দেওয়ার চেষ্টা করেছি আমরা। আজও যানজট নিরসনে আমাদের নিয়মিত নির্দেশনা দেওয়া আছে।

ট্রাফিক পুলিশের এই কর্মকর্তা আরো বলেন, রাস্তায় সার্বক্ষণিক আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নজর রাখছেন। পুরো পরিস্থিতি তারা পর্যবেক্ষণ করছেন। কোনো ধরণের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে নিয়ন্ত্রণে আমরা প্রস্তুতি রেখেছি।

দৈনিক সরোবর/এমএস