ক্রাশ খেলে আমার কোনো সমস্যা নেই

সরোবর প্রতিবেদক
প্রকাশিতঃ সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২১ , ৫:৩৫ অপরাহ্ন

দিলারা হানিফ রীতা। চলচ্চিত্র জগতে পূর্ণিমা নামে তিনি পরিচিত ও জনপ্রিয়। এই জগতে পথচলা শুরু হয়েছিল জাকির হোসেন রাজু পরিচালিত ‘এ জীবন তোমার আমার’ ছবির মাধ্যমে। তখন তিনি নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী ছিলেন। এছাড়া কাজী হায়াৎ পরিচালিত ২০১০ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা ‘ওরা আমাকে ভাল হতে দিল না’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী বিভাগে তিনি প্রথম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন।

সুন্দর চেহারার অধিকারিণী এই অভিনেত্রী অভিনয়ের সঙ্গে নিজের সৌন্দর্য্যে সবার মন জয় করে নেন। ২০০৩ সালে মুক্তি পায় তার সব থেকে সফল ছবি মতিউর রহমান পানু পরিচালিত ‘মনের মাঝে তুমি’। এটি বাংলাদেশ-ভারতের যৌথ প্রযোজনায় বাংলাদেশের সব থেকে সফল ছবির মধ্যে অন্যতম।

সর্বশেষ ফেরদৌস এর বিপরীতে ‘গাঙচিল’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন এই অভিনেত্রী। গুণী নির্মাতা অমিতাভ রেজা চৌধুরীর একটি ওয়েব ফিল্মেও অভিনয় করবেন পূর্ণিমা।

আপনি সম্প্রতি নির্মাতা অমিতাভ রেজার ওয়েব ফিল্ম ‘মুন্সিগিরি’তে অভিনয় করার জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। এ ব্যাপারে জানতে চাচ্ছি।
এখনো কাজ শুরু হয়নি। গত ১৪ জানুয়ারি ঘোষণা করা হয়েছে। চঞ্চল চৌধুরী ভাই এখন দেশের বাইরে আছেন। উনি আসলে স্ক্রিপ্ট নিয়ে বসা, লুক টেস্ট ও রিহার্সালের আমরা বসবো। তারপর বাকিটা শুরু হবে।

প্রথমবারের মতো ওটিটি প্লাটফর্মে কাজ করছেন; এই মাধ্যমে কাজ করা কতোটুকু সমর্থন করেন?
এই মাধ্যমে আমি একেবারেই নতুন, আমার কোনো অভিজ্ঞতা নেই। তবে যতটুকু দেখছি ওটিটি প্লাটফর্মের জন্য যারা ওয়েব সিরিজ, ওয়েব ফিল্ম বানাচ্ছেন ভালো রেসপন্স পাচ্ছেন। বাকিটা হচ্ছে দর্শকদের উপর তারা অ্যাপস ডাউনলোড করে সাবস্ক্রাইব করে দেখবেন কিনা এটাই হচ্ছে বিষয়।

বহির্বিশ্বের মতো আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতেও অ্যাপসে ছবি মুক্তি পেয়েছে। অ্যাপসে ছবি মুক্তি পাওয়া বিষয়টা আপনি কিভাবে দেখছেন?
আমি চিত্রনায়িকা পূর্ণিমার আবির্ভাব হয়েছে তো এই সিনেমা হল থেকেই। তাই আমার কাছে সিনেমা হলটাই পারফেক্ট মনে হবে। আমি সব সময় প্রেফার করবো সিনেমা হল, বড়পর্দাকে। এটা আমার রক্তে আছে। এটাকে আমি সব সময় প্রাধান্য দিবো। সময় সুযোগ সিচুয়েশান ডিপেন্ড করে যদি ভালো গল্প দিতে পারে আমাদের পরিচালকরা আমাদের আর্টিস্টরা, তাহলে কেন দর্শকরা হলে যাবে না?

বর্তমানে আপনি নতুন আর কি কি সিনেমায় চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন?
না নতুন আর কোনো সিনেমা হাতে নেইনি। ‘জ্যাম’ আর ‘গাঙচিল’ এই দুটো নিয়েই ব্যস্ত আছি। কারণ এই দুটো শেষ না হওয়া পর্যন্ত অন্য কোনো প্রজেক্ট ধরছি না। এগুলো তো সিনেমা হলে রিলিজ দিবে। যদিও ওটিটি প্লাটফর্মে রিলিজ দেয়ার কথা মাঝে শুনেছিলাম। এগুলো যেহেতু বিগ বাজেটের ছবি তাই ওটিটি প্লাটফর্মে মুক্তি দিবে না। আমরা আসলে সিচুয়েশান ভালো হবার অপেক্ষায় আছি।

এবারের ভালোবাসা ‘এই পৃথিবী আমাদের’ নাটকে দেখা যাবে। ছোটপর্দায় আপনাকে বিশেষ দিন ছাড়া নিয়মিত দেখা যায় না কেন?
(হেসে বললেন) কারণ আমি বিশেষ একটা পার্সন। তাই আমি বিশেষ দিবসে আসি। সাধারণ হলে তো আমাকে সাধারণত দেখা যেতো। বিশেষ মানুষেররা বিশেষ দিবসে আসে। ভালোবাসা দিবসের নাটক মানেই রোমান্টিক গল্প এটাই হচ্ছে ভুল ধারণা। আমাদের এই নাটকটি কোনো রোমান্টিক নাটক না। সব সময় প্রেম বিরহ মিল হলোনা আবার দেখা যায় পরে গিয়ে মিল হলো। এটা এরকম গল্প না। এটাই মজা লাগবে। এটা কি ভালোবাসা, এটা অন্যরকম ভালোবাসার নাটক। এটা যখন দর্শকরা দেখবেন তখন বুঝবেন। অপেক্ষায় থাকতে হবে।

তারকাদের নিয়ে গসিপ গুঞ্জন হয়। এগুলো আপনি কিভাবে দেখেন?
নরমাল, সিম্পলভাবে দেখি। এখন যদি কেউ আপনাকে নিয়ে গুজব লেখে তাহলে কি কেউ পড়বে? পড়বে না তো। আর আমাদেরটা মিথ্যা হোক বানোয়াট হোক যাই হোক, একটা বাজে মন্তব্য করার জন্য হলেও মানুষ পড়বে। তবে অতিরিক্ত কোনো কিছু করাটাও ভালো না।এখন আমাদের দেশে নতুন আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। যদি দেখি কেউ বার বার আমাকে বাজে কমেন্ট করছে তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগ আছে। আমি নিতে পারবো।

অভিনয়ের পাশাপাশি আপনি উপস্থাপনা ও স্টেজ শো করে থাকেন। আবারো কি আপনাকে উপস্থাপনায় ও স্টেজ শো’তে দেখা যাবে?
আমি ভালো কাজের জন্য সব সময়ই প্রস্তুত থাকি।

এতো ব্যস্ততার মাঝে আপনি অবসরে কি করেন?
ব্যস্ততা থাকলে অবসর কাটাবো কি করে? আমার মেয়েকে নিয়ে দিনের অর্ধেক সময় পার হয়ে যায়। ওর অনলাইন ক্লাস হোমওয়ার্ক নিয়ে থাকতে হয়। আবার যখন নিজের কাজে থাকি তখন নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকি। শুটিং না থাকলে ওকে নিয়ে বাইরে ঘুরতে যাই, আত্মীয়দের বাসায় বেড়াতে যাই।

নিজের অভিনীত সিনেমা ছাড়া অন্য কার অভিনীত সিনেমা দেখতে আপনার ভালো লাগে?
স্পেসিফিক কোনো আর্টিস্ট নেই যে শুধু তার ছবি দেখবো। এখন তো অনেক আর্টিস্ট এসেছেন হলিউড-বলিউড, কলকাতা ও আমাদের চলচ্চিত্রে। আমি আসলে সব ধরণের ছবি দেখতে পছন্দ করি। ২০২০ সালে ঘরে বসে ওটিটি প্লাটফর্মে বাইরের দেশের প্রচুর ছবি দেখেছি। সাউথ ইন্ডিয়ান ছবির প্রতি আমার একটা আকর্ষণ রয়েছে।

সোস্যাল মিডিয়াতে প্রায় দেখা যায় আপনার ছবিতে ভক্তদের ক্রাশ শব্দটি ব্যবহার করতে। আপনি তাদের ক্রাশ, আপনাকে দেখলে তারা ক্রাশ খায়। এটা নিয়ে আপনার অনুভূতি কি?
গত কয়েক বছর এটা শুনছি। এখন নতুন নতুন ওয়ার্ড মানুষ তৈরি করছে। ক্রাশ খাচ্ছে তারা ক্রাশ খেলে আমার তো কোনো সমস্যা নেই (হেসে বললেন)। আজকে আমি ক্রাশ আছি কালকে আরেকজন ক্রাশ হবে। ক্ষনে ক্ষনে চেঞ্জ হবে। এটা আসলে সিচুয়েশানে তৈরি হয়। আলহামদুলিল্লাহ এটা সবার ভালোবাসা সবাই পছন্দ করেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন »

আপনার মন্তব্য লিখুন

মুখোমুখি : আরো পড়ুন