পুলিশি হেফাজতে আইনজীবীর মৃত্যু: ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা

আইন-আদালত ডেস্ক
প্রকাশিতঃ জানুয়ারী ৫, ২০২১ , ১০:২৯ অপরাহ্ন

পুলিশি হেফাজতে শিক্ষানবিশ আইনজীবী রেজাউল করমি রেজাকে নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগে বরিশাল মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মহিউদ্দিন মাহীসহ তিন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৫ জানুয়ারি) বরিশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি দায়ের করেন নিহত রেজাউলের বাবা ইউনুস মুন্সী।

মামলাটি আমলে নিয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক আনিছুর রহমান পুলিশ পরিদর্শক পদমর্যাদার একজন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) কর্মকর্তাকে দিয়ে মামলা তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। এছাড়া মামলার পরবর্তী শুনানি হবে আগামী ২৩ ফেব্রুয়ারি।

জীবী সমিতির সিনিয়র আইনজীবী জাকির হোসেন মিন্টুর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছিলেন রেজাউল। ২০২০ সালের ২৯ ডিসেম্বর (মঙ্গলবার) রাতে রেজাউলকে রূপাতলী সাগরদী এলাকার আব্দুল হামিদ খান সড়কের সামনে থেকে সাদা পোশাকে আটক করে এসআই মহিউদ্দিনসহ তিনজনের একটি দল। স্থানীয় প্রতিবেশী কবিরের ছেলে সজীবের কাছ থেকে রেজাউলকে আটকের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে ইউনুস মুন্সী দেখতে পান সড়কের পাশে একটি অন্ধকার ঘরে মহিউদ্দিন তার সহযোগীদের নিয়ে রেজাউলকে মারধর করছেন। ইউনুস মুন্সীর উপস্থিতিতে রেজাউলকে মারধর করা বন্ধ করে দেন মহিউদ্দিন ও তার সহযোগীরা। এ সময় মারধরের কারণ জানতে চাইলে মহিউদ্দিন ইউনুস মুন্সীকে জানান, আপনার ছেলের কাছে মাল (মাদক) পাওয়া গেছে।

আইনজীবী আবুল কালাম আজাদ জানান, মহিউদ্দিন ইউনুস মুন্সীকে উদ্দেশ্যে করে বলেন, আপনার ছেলেকে দুইজন লোককে ধরিয়ে দিতে বলেন। তাহলে তাকে ছেড়ে দেবো। মহিউদ্দিনের এমন প্রস্তাব রেজাউল অস্বীকার করলে তাকে গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় ইউনুস মুন্সীকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন মহিউদ্দিন। পরের দিন বুধবার (৩০ ডিসেম্বর) রেজাউলের ছোট ভাই আজিজুল বাসার বরিশাল কোর্ট গারদে রেজাউলের সঙ্গে দেখা করতে যান। তখন রেজাউল তার ভাই আজিজুলকে জানান, রাতভর এসআই মহিউদ্দিন ও তার দুইজন সহযোগী তাকে পিটিয়েছেন। মারধরের সময়ে রেজাউলকে কোনো শীতবস্ত্র ব্যবহার করতে দেননি। এমনকি কোনো খাবারও দেয়া হয়নি।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, মাদক ব্যবসায়ী সাজিয়ে গ্রেফতারের পর আদালতের গারদে নিয়ে রেজাউলকে রাখলেও কোনো আদালতে তাকে হাজির করা হয়নি। গারদ থেকেই কারাভ্যানে করে বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয় রেজাউলকে।

ইউনুস মুন্সী বলেন, ‘রেজার শরীরে মারা যাওয়ার মতো কঠিন কোনো রোগ ছিল না। তবে শুক্রবার আদালতে সোপর্দের সময় রেজা গুরুতর অসুস্থ ছিল। সে স্বাভাবিক চলাফেরা করতে পারছিল না। আদালতের নির্দেশে রেজাকে প্রথমে কারা হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি, সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে শের-ই-বাংলা মেডিকেলে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার রাত ১২টা ৫ মিনিটে মৃত্যু হয় রেজাউলের।’

মামলায় উল্লেখ করা হয়, ডিবির এসআই মো. মহিউদ্দিন ও অজ্ঞাত আরো দুই পুলিশ সদস্যের হত্যার উদ্দেশে শারীরিক নির্যাতনেই রেজার মৃত্যু হয়েছে। পরে কারা কর্তৃপক্ষ আসামিদের আড়াল করতে তড়িঘড়ি করে রেজাকে হাসপাতালে ভর্তিসহ বিভিন্ন নাটক ও প্রচারণা চালায়।

মামলায় নির্যাতন পূর্বক হত্যার ঘটনায় নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু (নিবারন) আইন ২০১৩ এর ১৩ (১) ধারা ও দণ্ডবিধি ৩০২/৩৪ ধারায় এসআই মহিউদ্দিনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন »

আপনার মন্তব্য লিখুন

আইন-আদালত : আরো পড়ুন