শেষ সময়ে রিটার্ন জমার অপেক্ষা

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক অর্থনীতি ডেস্ক
প্রকাশিতঃ ডিসেম্বর ২৪, ২০২০ , ৯:২৪ অপরাহ্ন

আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার জন্য সময় চেয়ে সরকারের কাছে আবেদন করেন কয়েক লাখ করদাতা। পরে সবার জন্য সরকার এক মাস সময় বাড়ায়। কিন্তু কর অফিসগুলোতে রিটার্ন জমাকারীদের চিহ্ন নেই বললেই চলে। যদিও জরিমানা ছাড়া আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার আর মাত্র এক সপ্তাহ বাকি আছে।

কর অঞ্চলগুলোতে ঘুরে দেখা যায়, আয়কর দাতাদের ভিড় নেই। নভেম্বরের শেষ দিন যে ভিড় তৈরি হয়েছিল, সেরকম পরিস্থিতি তো দূরে থাক স্বাভাবিক চাপও নেই। আয়কর আইনজীবীদের মধ্যেও গতি নেই। কর অঞ্চলের কর্মকর্তারা বলছেন, এখন সাধারণ করদাতার চাপ নেই। অধিকাংশই বড় করদাতারা তাদের আয়কর রিটার্ন জমা দিচ্ছেন। সাধারণ করদাতারা নভেম্বর মাসেই রিটার্ন জমা দেওয়ার কাজ শেষ করেছেন।

এ প্রসঙ্গে আয়কর আইনজীবী গোলাম মোস্তফা জানান, এখন বড় করতাদাদের ফাইলগুলো ঠিকঠাক করছেন তারা। নির্ধারিত সময়ের আগেই যাতে রিটার্ন জমা দেওয়া যায়, সেভাবেই সবাই কাজ করছেন।

রাজধানীর পল্টন ও সেগুনবাগিচা এলাকার কর অঞ্চলগুলো সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, রিটার্ন জমা দিতে আসা করদাতাদের উপস্থিতি একেবারেই কম। তবে গত কয়েকদিনের চেয়ে ধীরে ধীরে ভিড় বাড়ছে বলে জানান এনবিআরের কর্মকর্তারা।

এ প্রসঙ্গে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য (আয়কর নীতি ) আলমগীর হোসেন বলেন, ‘জরিমানা ছাড়া আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার আর মাত্র এক সপ্তাহ সময় আছে। কাজেই করদাতাদের বলবো, তারা যেন করোনা ঝুঁকি এড়াতে শেষ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা না করে এখনই রিটার্ন জমা দেন। করোনার বিশেষ পরিস্থিতিতে করদাতাদের সুবিধা দিতে জরিমানা ছাড়া রিটার্ন জমার সময় ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। করদাতারা এখনই তাদের রিটার্ন জমা দিতে পারেন।’
প্রসঙ্গত, নিয়মিত রিটার্ন জমার শেষ সময় ছিল ৩০ নভেম্বর। পুরো নভেম্বর মাস ফাঁকা ছিল। তবে শেষ সপ্তাহে কর অঞ্চলগুলোতে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। করোনার মধ্যেও অনেকে এক থেকে দেড় ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে রিটার্ন জমা দিয়েছেন। অনেকে জমা দিতে পারেননি। তখন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশা ও ব্যবসায়ী সংগঠনের দাবি, করোনাকালীন সংকট বিবেচনায় ও করদাতাদের সুবিধায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বিশেষ আদেশ জারি করে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত রিটার্ন জমার সময় বাড়ায়। এর পর কয়েকদিন করদাতাদের ভিড় দেখা গেলেও বর্তমানে কোনও চাপ নেই বললেই চলে।

এ প্রসঙ্গে এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল মজিদ বলেন, ‘মানুষের স্বভাবগত বৈশিষ্ট্য শেষ দিন গিয়ে ভিড় করা। সময় বাড়ানো হলেও বেশিরভাগ করদাতা শেষ সময়ে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেন।’ ২০১৬ সালে আয়কর আইনে পরিবর্তন করে রিটার্ন জমা দেওয়ার শেষ দিন প্রতি বছর ৩০ নভেম্বর (আয়কর দিবস) করা হয়। তবে এবার শীতের আগে আগে ভাইরাসের প্রকোপ বাড়তে থাকায় এবং দেশের অর্থনীতির সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় রিটার্ন জমার সময় বাড়ানোর দাবি জানিয়ে এনবিআরে চিঠি দিয়েছিল ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই, আয়কর আইনজীবীসহ পেশাজীবীদের বিভিন্ন সংগঠন। তাদের আবেদনে সাড়া দিয়ে করোনাকালীন সংকটকে বিশেষ পরিস্থিতি বিবেচনা করে আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪-এর ধারা ১৮৪(জি)-তে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে ব্যক্তি শ্রেণির করদাতার ২০২০-২১ কর বছরের আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়।

বর্তমানে ইটিআইএনধারীর সংখ্যা ৫০ লাখ ছাড়িয়ে গেলেও গত ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত দাখিলকৃত রিটার্ন জমা হয়েছে ১৭ লাখ ৪৮ হাজার ৫৮৭টি। গত বছর নভেম্বর পর্যন্ত রিটার্ন জমা হয়েছিল ১৬ লাখ ৪৪ হাজার ১৯২টি। অর্থাৎ এক বছরেরিটার্ন জমা বেড়েছে এক লাখ চার হাজার ৩৯৫টি।অবশ্য গত করবর্ষে ১ ডিসেম্বর পর্যন্ত রিটার্ন জমা হয়েছিল ২০ লাখ ছয় হাজার ৭১৫টি।

এনবিআরের তথ্য বলছে, চলতি বছরের নভেম্বর পর্যন্ত আয়কর আদায় হয়েছে তিন হাজার ২৮ কোটি টাকা। গত বছরের নভেম্বর পর্যন্ত আয়কর থেকে আদায় হয়েছিল তিন হাজার ২৪১ কোটি টাকা।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত করবর্ষে পরবর্তী সময়ে রিটার্ন জমা দিতে তিন লাখ ৫৯ হাজার আবেদন জমা পড়ে। ২০১৮-১৯ করবর্ষে নিয়মিত সময়ের পরে তিন লাখ ১৫ হাজার ১০৫ জন রিটার্ন দাখিল করার সময় চেয়ে আবেদন করেছিলেন। ২০১৭-১৮ করবর্ষে রিটার্ন জমা দিতে তিন লাখ ৫৬ হাজার ৭৫৬ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান সময় বাড়ানোর আবেদন করেন। এবারও আবেদনকারীর সংখ্যা তিন লাখ ছাড়ায়।

এদিকে যাদের বার্ষিক আয় চার লাখ টাকার কম এবং সম্পদ ৪০ লাখ টাকার কম, তাদের জন্য এক পৃষ্ঠার ফরম পূরণ করেই রিটার্ন জমা দেওয়া সুযোগ করে দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এনবিআর। তবে সিটি করপোরেশন এলাকায় ফ্ল্যাট, বাড়ি কিংবা গাড়ির মালিকরা এই সুবিধা পাবেন না। তাদের পুরনো ফরমেই আয়কর রিটার্ন জমা দিতে হবে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে আয়কর দেন দেশের মোট জনসংখ্যার এক শতাংশ মানুষ। অর্থাৎ টিআইএন নম্বরধারীর অর্ধেক মানুষই বছর শেষে আয়কর রিটার্ন জমা দেন না সরকারের কাছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন »

আপনার মন্তব্য লিখুন

অর্থনীতি : আরো পড়ুন