১০ মেগা প্রকল্পেই করোনা বাধা কেটে এগোবে দেশ

সম্পাদকের কলম
প্রকাশিতঃ নভেম্বর ২৪, ২০২১ , ১১:৫০ অপরাহ্ন

করোনা সংক্রমণ দেখা দেওয়ার পর একটি ক্রান্তিকালে পড়ে দেশ। সবকিছুতেই দেখা দেয় বিপর্যয়ের চিহ্ন। দেড় বছর ধরে এই বিপর্যয় বহন করতে হয়েছে। বর্তমানে মহামারি করোনা কমে এসেছে। করোনাঘূর্ণি নিস্তেজ হওয়ায় পরিবেশ অনেকটাই শান্ত হয়ে এসেছে। করোনা সংক্রমণের কারণে দেশের উন্নয়ন প্রকল্পের কাজে স্থবিরতা দেখা দেয়। এতে ১০ মেগা প্রকল্পসহ অন্যান্য উন্নয়ন প্রকল্প সাময়িক সময়ের জন্য বাধাগ্রস্ত হয়। করোনাপূর্ব সময়ে দেশের উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ যে গতিতে এগোচ্ছিলো, সেই গতিতে ছেদ পড়ে। এর জন্য করোনাভাইরাস সংক্রমণই দায়ি।

উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর কাজের গতি করোনাপূর্বের সময়ের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার জন্য সংশ্লিষ্টদের তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার (২২ নভেম্বর) সরকার প্রধান উন্নয়ন করোনার আগের অবস্থায় নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। করোনা যুগ শুরুর আগে দেশের উন্নয়ন প্রকল্পগুলো যে বেগবান গতিতে সম্পন্নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলো, সেভাবেই প্রকল্পের কাজ শেষ করার নির্দেশ দেন তিনি। এ থেকে স্পষ্ট হয় উন্নয়ন প্রকল্পের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর তীক্ষ্ণ নজর রয়েছে। যেসব উন্নয়ের কারণে বাংলাদেশকে আজ বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে দেখা হয়। অন্যদিকে ১০ মেগা প্রকল্পসহ অন্যান্য প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ হলে বাংলাদেশ গোটা বিশ্বের কাছে আরো বিস্ময় নিয়ে হাজির হবে। দ্রুত মধ্যম আয়ের তালিকায় ঢুকে পড়া সহজ হবে।

শুধু তাই নয়, উন্নত দেশের তালিকাতেও ঢুকে পড়বে বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার প্রজ্ঞা ও বিচক্ষণতা দিয়ে দেশকে একটি উন্নত দেশে রূপান্তর করতেই কাজ করছেন, এ নিয়ে করোরই কোনো দ্বিমত আছে বলে মনে হয় না। যারা দেশের উন্নয়ন চোখে দেখেন না, বরং দেশের উন্নয়ন-সমৃদ্ধি নিয়ে কূট মন্তব্য করেন, তারা কোন দৃষ্টিভঙ্গি থেকে এটা করেন তাও সমাজের সচেতন মহলের কাছে পরিষ্কার।

এ ব্যাপারে দুইটি কথা আগে বলা দরকার। আমাদের চিরশক্র পাকিস্তান দীর্ঘকাল জুড়ে সামরিক শাসনের জাঁতাকলে পড়ে পিষ্ট। সেখানে গণতন্ত্র মাথা উচু করে দাঁড়াতে পারেনি। সাম্প্রদায়িক একটি রাষ্ট্রের তকমা নিয়ে দেশটি বেঁচে আছে। অন্যদিকে ভারত বিশ্বের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে সমীহযোগ্য। আমেরিকা, ব্রিটেন, ভারত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে সমানতালে উচ্চারিত হয়। ভারত ক্রমশ সব ক্ষেত্রে উন্নতি করে যাচ্ছে। আর পাকিস্তান ক্রমাগত অধঃপাতনের শেষ সীমায় এগিয়ে যাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, পররাষ্ট্রনীতিতে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। ভারত আমাদের ঐতিহাসিক বন্ধুরাষ্ট্র। দেশটির অবদান বাংলাদেশ কোনোদিন ভুলতে পারবে না। ভারত আমাদের উন্নয়নে তার দুই হাত প্রশস্ত করে দিয়েছে। কিন্তু দেশের পাকিস্তানপন্থিরা ভারতবিদ্বেষী কথা বলেই আত্মতৃপ্তি লাভ করে। এতে অবশ্য শেখ হাসিনা সরকারের উন্নয়ন কর্মযজ্ঞ থেমে নেই। ভারতসহ বিশ্বের সবদিক দিয়ে শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলো বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে। এদের সহযোগিতা নিয়েই ১০ মেগা প্রকল্পসহ অন্যান্য প্রকল্পের কাজ চলছে। ১০ মেগা প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন নিয়ে সরকারের রয়েছে প্রচণ্ড মনোযোগ, সেইসঙ্গে দেশের মানুষ উন্মুখ হয়ে আছে এর কাজ শেষ হওয়ার দিকে।

আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশের পর উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ করোনার আগের পর্যায়ের ন্যায় গতি ফিরে পাবে। করোনা সংক্রমণ আমাদের দেশকে ক্রান্তিকালের দিকেই ঠেলে দেয়নি, দুনিয়াজুড়েই একই পরিস্থিতি দেখা দেয়। তবে আমাদের সরকার করোনা মোকাবিলায় যেমন সাফল্যের নজির রেখেছে। অন্যদিকে অর্থনীতিকে চাঙা রাখতে সক্ষম হয়েছে।

করোনা কমে আসার ফলে সরকারের ১০ মেগা প্রকল্প যথা পদ্মা বহুমূখী সেতু প্রকল্প, ঢাকায় মেট্রোরেল প্রকল্প, পদ্মাসেতুতে রেল সংযোগ প্রকল্প, দোহাজারী হতে রামু হয়ে কক্সবাজার এবং রামু হয়ে ঘুমধুম পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণ প্রকল্প, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প, মাতারবাড়ী কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প, এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্প, কয়লা ভিত্তিক রামপাল থার্মাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প, পায়রা বন্দর নির্মাণ প্রকল্প এবং সোনাদিয়া গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শেষ হলে বাংলাদেশ উন্নয়নের সোপানে আরো কয়েক ধাপ এগিয়ে যাবে।

এ প্রকল্পগুলোর মধ্যে পদ্মাসেতু আগামী বছর ২০২২ সালের জুনে যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে। গাড়ি এবং ট্রেন এই সেতুতে একইসঙ্গে চলবে। অন্যদিকে দেশের প্রথম মেট্রোরেল যার কাজ রাজধানীতে চলমান। এটিও কয়েক মাসের মধ্যে চলাচলের উপযোগী হয়ে যাবে।

পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণযজ্ঞ পুরোদমে চলছে। পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দরকে ঘিরে সরকার বিশাল সব পরিকল্পনা নিয়েছে। যেমন ঢাকা থেকে পদ্মাসেতুর ওপর দিয়ে যশোর পর্যন্ত ট্রেন চালু হচ্ছে। পাশাপাশি ঢাকা থেকে পটুয়াখালী জেলার পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দর পর্যন্ত ট্রেন চালুর প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। ঢাকা টু যশোর এবং ঢাকা টু পায়রায় দ্রুতগতি সম্পন্ন ট্রেন চলবে। এক পদ্মাসেতু দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে মানুষের জীবনযাত্রার মান বদলে দেবে এবং এই সেতুর কারণেই পদ্মার পাড়ে হংকং এর মতো শহর গড়ে তোলা হবে।

পদ্মার ওই পাড়ে বৃহৎ বাজেটের বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর গড়ে তোলার কাজেও হাত দিতে যাচ্ছে সরকার। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মধ্যদিয়ে বাংলাদেশ পারমাণবিক যুগে ঢুকে পড়েছে। ১২০০ মেগাওয়ার্ডের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণ কাজ দ্রুত শেষ করে আনার চেষ্টা করছে রাশিয়া। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন শুরু হলে সেই সময়টা অবশ্যই বাংলাদেশের জন্য একটি নতুন যুগে প্রবেশ হিসেবেই ধরা হবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্প্রতি কপ-২৬ সম্মেলনে যান। সেখানে তিনি প্রবাসী বাংলাদেশি এবং বিদেশিদের প্রতি বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানান। দেশে বিনিয়োগের ব্যাপারে এক সময় বিনিয়োগকারীদের নিরুৎসাহিত করা হতো। কিন্তু এখন সেই দিন আর নেই।

দেশে বিনিয়োগের বিষয়টি সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় দেখভাল করে। দেখা যাচ্ছে- বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিশ্বের শক্তিশালী অর্থনৈতিক দেশগুলো এসে বাংলাদেশে হামলে পড়ছে। এতে শিল্প-উন্নত দেশের মর্যাদা পেতে বাংলাদেশের বেশি সময় লাগবে না বলে আমরা বিশ্বাস করি। বিশেষ করে ১০০ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (ইপিজেড) গড়ে তোলার যে উদ্যোগ বর্তমান সরকার বেশ আগেই নিয়েছিল। সরকারের প্রত্যাশা, অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলো (ইপিজেড) তৈরি হলে ৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ রপ্তানি আয় সম্ভব হবে। একইসঙ্গে এই ১০০ অর্থনৈতিক অঞ্চলে দেশের এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান হবে। এই আশা করা অলীক কিছু নয়।

সর্বোপরি ১০ মেগা প্রকল্প উচ্চ প্রবৃদ্ধির ধারা বজায় রাখার ভিত্তি রচনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। তাই এই প্রকল্পসহ অন্য প্রকল্পের গতি কোনোভাবেই যেন শ্লথ না হয়ে পড়ে, সেটাই প্রত্যাশা ২০ কোটি জনগণের।

দৈনিক সরোবর/এমকে

সংবাদটি শেয়ার করুন »

আপনার মন্তব্য লিখুন

সম্পাদকের কলম : আরো পড়ুন