বঙ্গভ্যাক্সে সুদিনের হাতছানি

সম্পাদকের কলম
প্রকাশিতঃ নভেম্বর ২৪, ২০২১ , ১২:১৪ পূর্বাহ্ন

এবার বাংলাদেশের একটি প্রতিষ্ঠান গ্লোব বায়োটেকের বঙ্গভ্যাক্স মানুষের শরীরে ট্রায়ালের নীতিগত অনুমোদন পেয়েছে। এটা দেশের জন্য সু-খবর। গ্লোব বায়োটেক লিমিটেডের বিজ্ঞানী ও গবেষকরা করোনার টিকা আবিস্কারে সাফল্যের নজির স্থাপন করতে যাচ্ছে। বিশ্বে করোনাভাইরাস সংক্রমণ ধরার পড়ার পর থেকে টিকা আবিস্কারে বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানী ও গবেষকরা মনোযোগী হন। বাংলাদেশে করোনা শনাক্ত হওয়ার পর থেকে এই রোগটির জন্য কোরানার টিকার উন্নয়নের কাজ করতে শুরু করে গ্লোব বায়োটেক।

গত বছরেই এ নিয়ে বিবিসি বাংলাসহ দেশের নানা সংবাদমাধ্যম করোনা টিকা আবিষ্কারে গ্লোব বায়োটেক কতটা পথ এগিয়ে গেছে, এ বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরে। পরিশেষে দেখা যাচ্ছে, গ্লোব বায়োটেক সাফল্যের প্রায় চূড়ান্তে পৌঁছে গেছে। এর আগে লক্ষ্য করা গেছে, যেসব দেশে করোনার টিকা আবিস্কারে নানা ধাপ পেরিয়ে গবেষকরা চূড়ান্ত একটি জায়গায় পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছেন, তখনই তারা তাদের টিকা মানবদেহে ট্রায়ালের সরকারের সংশ্লিষ্টদের কাছে অনুমোদন চেয়েছেন। মানবদেহে টিকা ট্রায়াল সম্পন্ন হওয়ার পরেই যখন পুরোপুরি ইতিবাচক ফলাফল হাতে আসে, তখনই তা গণমানুষের জন্য অনুমোদন করা হয়।

মঙ্গলবার দেশের একটি সংবাদমাধ্যম গ্লোব বায়োটেক লিমিটেডের প্রস্তুতকৃত করোনার টিকা বঙ্গভ্যাক্স নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এ থেকে জানা গেছে, করোনার টিকা বঙ্গভ্যাক্সের মানবদেহে ট্রায়ালের নৈতিক অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ মেডিক্যাল রিসার্চ কাউন্সিল (বিএমআরসি)। দেশের একটি গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিএমআরসির পরিচালক অধ্যাপক ডা. রুহুল আমিন।

তিনি বলেন, গ্লোব বায়োটেককে ফেজ-১ ট্রায়ালের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। শর্ত অনুযায়ী তারা এর ট্রায়াল পরিচালনা করবেন।

ড. রুহুল আমিন আরো বলেন, আমাদের এ সংক্রান্ত যে কমিটি রয়েছে সেই কমিটি ট্রায়ালের নৈতিক অনুমোদন দিয়েছে। এখন তারা ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরে আবেদন করবে।

গ্লোব বায়োটেক লিমিটেডের কোয়ালিটি অ্যান্ড রেগুলেটরি বিভাগের জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক ড. মোহাম্মদ জানান, তারা এখন ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরে হিউম্যান ট্রায়ালের জন্য আবেদন করবেন। অধিদপ্তরের অনুমোদন পেলেই মানবদেহে পরীক্ষামূলক প্রয়োগের কাজ শুরু করবে গ্লোব বায়োটেক।

ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরে কবে নাগাদ আবেদন করবেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, যত দ্রুত সম্ভব আমরা আবেদন করবো। অনুমোদন পেলেই আমরা মানবদেহে ট্রায়ালে যাবো। গ্লোব বায়োটেকের তৈরি করোনার টিকা বঙ্গভ্যাক্স এর মধ্যদিয়ে বাংলাদেশও যুক্ত হতে যাচ্ছে করোনার টিকা তৈরির দেশের তালিকায়।

বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মধ্যে যুক্তরাজ্য, আমেরিকা, রাশিয়া, চীন করোনার টিকা তৈরি করছে। ওইসব দেশের টিকা বাংলাদেশেও এসেছে। তবে বিশেষভাবে চীনের টিকাই বেশি পরিমাণে আনা হয়েছে। সরকার দেশের ৮০ ভাগ মানুষকে করোনার টিকার আওতায় আনার পক্ষে। এ কারণে প্রচুর টিকা দরকার। আমাদের সরকার নিজেই টিকা তৈরির পদক্ষেপ নিয়েছে। টিকা উৎপাদন করে দেশের মানুষকে টিকা দেওয়ার পাশাপাশি বিদেশেও তা রপ্তানির পরিকল্পনা আছে সরকারের।

অন্যদিকে বেসরকারি দুটি প্রতিষ্ঠানও দেশে টিকা উৎপাদন করবে বলে জানিয়েছে। এ দুটি প্রতিষ্ঠান অন্যদেশের টিকা বাংলাদেশে তৈরির পরিকল্পনা নিয়েছে টিকা উৎপাদনকারী সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে। কিন্তু গ্লোব বায়োটেকের তৈরি করা ‘বঙ্গভ্যাক্স’ দেশেই রীতিমতো উৎপাদন শুরু হলে দেশের জন্য অবশ্যই বিষয়টি গৌরবের যেমন, পাশাপাশি টিকা সংকটের ভাবনা বিন্দুমাত্রও থাকবে না বলে আশা করা যায়।

দেখা যাচ্ছে, অন্যদেশ ৫ বছরের শিশুদের পর্যন্ত করোনার টিকা দিচ্ছে। পাশাপাশি বিশ্বে বর্তমানে করোনাভাইরাস সংক্রমণের প্রকোপ কমে এলেও যেকোনো সময় ফের ফণা তুলতে পারে। করোনা নিস্তেজ হয়ে আসার মানে এই নয় যে; সে ভবিষ্যতে আবার নতুনভাবে সাইক্লোনঝড় বইয়ে দেবে না। এরইমধ্যে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলা হয়েছে, ইউরোপে করোনাভাইরাস নতুন ভাবে ফিরে আসতে পারে। ফিরে হলে তা ভয়ঙ্কর অবস্থার সৃষ্টি করবে। অনেক দেশ করোনার টিকা যারা নিচ্ছে না তাদের টিকা নেওয়ার ব্যাপারে তাগাদা দেওয়া হচ্ছে। করোনার টিকা নিলে করোনা থেকে বেশ ভালোভাবেই সুরক্ষা তৈরি হয়। ফলে বলা যায়, করোনার টিকাদান কর্মসূচি চলমান থাকতেই হবে। এর ব্যত্যয় ঘটানো যাবে না।

এ জন্য বঙ্গভ্যাক্স দেশের জন্য আর্শিবাদ স্বরূপ। বঙ্গভ্যাক্স সংশ্লিষ্টারা বলেছেন, বঙ্গভ্যাক্স অতি সংক্রমণশীল ডেল্টাসহ করোনাভাইরাসের সব ভ্যারিয়েন্টের বিরুদ্ধে শতভাগ কার্যকর। বানরের শরীরে (অ্যানিমেল ট্রায়াল) যে পরীক্ষামূলক প্রয়োগ হয়েছে, তার ফলাফলে এর কার্যকারিতার প্রমাণ পাওয়া গেছে। বঙ্গভ্যাক্স নিরাপদ এবং কার্যকর অ্যান্টিবডি তৈরি করতে সক্ষম বলে প্রতীয়মান হয়েছে। চূড়ান্ত ফলাফলে এই টিকাটি ডেল্টাসহ অন্যান্য ভ্যারিয়েন্টের বিরুদ্ধে শতভাগ কার্যকর বলে প্রমাণিত হয়েছে। বুস্টার ডোজ হিসেবেও বঙ্গভ্যাক্স দেওয়া যাবে। এ টিকাটির বিশেষ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, এক ডোজেই অ্যানিমেল ট্রায়ালে কার্যকর অ্যান্টিবডি পাওয়া গেছে। আর এই টিকা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় এক মাস এবং মাইনাস ২০ ডিগ্রি তাপমাত্রায় ছয় মাস পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যাবে।

করোনা সংক্রমণ দেশের ওপর দিয়ে যে ঝড়-ঝাপটা বইয়ে দিয়েছে; তা সরকারের নের্তৃত্বে দেশবাসীর সক্রিয় প্রচেষ্টায় সেই ক্রান্তিকাল অতিক্রম করে ফের স্বাভাবিক অবস্থার দিকে ফিরে আসছে দেশ এবং দেশের মানুষ। দেড় বছরে মানুষের জীবনে যে ছন্দপতন ঘটেছিল, সেখান থেকে স্বাভাবিকতার দিকে যাচ্ছে পরিবেশ। মানুষকে সুস্থ ও নিরাপদে রাখতে এই মূহুর্তে করোনার টিকায় একমাত্র অবলম্বন। সেক্ষেত্রে বঙ্গভ্যাক্স দেশের জন্য ভূমিকা রাখতে পারবে বলেই মনে করেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

দৈনিক সরোবর/এমকে

সংবাদটি শেয়ার করুন »

আপনার মন্তব্য লিখুন

সম্পাদকের কলম : আরো পড়ুন