বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে বিশ্বে ছড়িয়ে দিন: ডাকমন্ত্রী


প্রকাশিতঃ নভেম্বর ১৭, ২০২১ , ৩:১৭ অপরাহ্ন

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেছেন, মৈমনসিংহ গীতিকাসহ বাংলার সমৃদ্ধ লোকজ সংস্কৃতিকে বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে ছড়িয়ে দিতে প্রচলিত ধারার বাইরে বেরিয়ে আসতে হবে। এই লক্ষ্যে সংস্কৃতিকে ডিজিটাইজ করা অপরিহার্য। তিনি সংস্কৃতি সংগঠনসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে বিশ্বে ছড়িয়ে দিতে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।

মঙ্গলবার রাজধানীর বাংলা একাডেমি মিলনায়তনে ৫৫ জন বাউলের দুই হাজার গান নিয়ে নেত্রকোণার বাউলা গান’ বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।

বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি মুহম্মদ নূরুল হুদার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সমাজ কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী আশরাফ আলী খান খসরু, সংস্কৃত বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ, আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক সংসদ সদস্য অসীম কুমার উকিল, বাংলাদেশ যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক অপু উকিল, সাবেক সচিব মাসুদ সিদ্দিকী এবং বইটির সম্পাদক ও বাউল গান সংগ্রাহক কেন্দুয়া উপজেলা চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বক্তৃতা করেন।

নেত্রকোণার বাউলা গান বইটিকে বাংলার লোকজ সাহিত্যের একটি সমৃদ্ধ ভান্ডার আখ্যায়িত করে মোস্তাফা জব্বার বলেন, চন্দ্রকুমার দে-দীনেশ চন্দ্র সেনের রত্নভান্ডার মৈমনসিংহ গীতিকার পর নেত্রকোণার বাউলা গান সংকলনটি লোকজ সাহিত্যে আরও একটি গর্বের ধন।

বৃহত্তর ময়মনসিংহ সাংস্কৃতিক ফোরামের সভাপতি মোস্তাফা জব্বার বলেন, লেখাপড়া নাই কিন্তু আপন মনের মাধুরি মিশিয়ে বাউলেরা যে গান রচনা করেন ও সুর আরোপ করেন তা মাটি থেকে উঠে আসা সুর। এটি যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা পেলে পৃথিবী জয় করবে।

মন্ত্রী বাউলা গান বইটি প্রতিটি অঞ্চলে সাংস্কৃতিক কর্মীদের হাতে পৌঁছে দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানে সমাজ কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী বলেন, নেত্রকোণার লোকজ সাহিত্য অত্যন্ত সমৃদ্ধ। মৈমনসিংহ গীতিকার সিংহভাগ এখানকার মানুষ প্রাণ খুলে গাইতে পারে। মহুয়া–মলুয়া উপখ্যান নেত্রকোণা অঞ্চলের বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী বলেন, সমগ্র বাংলাদেশের মধ্যে নেত্রকোণা, সুনামগঞ্জ ও কিশোরগঞ্জ অঞ্চল লোকজ সংস্কৃতির জন্য প্রসিদ্ধ। লোকগানের কিংবদন্তি পুরুষ শাহ আবদুল করিম, রাধারমণ, দূরবীণ শাহ নেত্রকোণার বাউল গান দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন।

সভাপতির বক্তৃতায় বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক ৫৫ জন বাউলের দুই হাজার গান সংগ্রহ ও সম্পাদনা বইটির সম্পাদক নুরুল ইসলামের অসাধারণ কাজ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বাংলার লোকসাহিত্যের পাদপীঠ বৃহত্তর ময়মনসিংহের কেন্দুয়ায় একটি লোক সাহিত্য জাদুঘর প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন »

আপনার মন্তব্য লিখুন

সাহিত্য : আরো পড়ুন