সেন্টমার্টিনে শুরু হচ্ছে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল

পর্যটন শিল্পের পালে নতুন হাওয়া

রতন বালো
প্রকাশিতঃ নভেম্বর ১৫, ২০২১ , ৯:০০ অপরাহ্ন

প্রকৃতির লীলাভূমি সেন্টমার্টিনে জাহাজ চলাচল শুরুর খবরে নতুন দিনের প্রত্যাশা করছেন এলাকাবাসী। এই যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে ওঠার ফলে আবার পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত হবে দেশের সৌন্দর্যমণ্ডিত প্রবালদ্বীপটি।

কক্সবাজারের অন্যতম পর্যটন স্পট প্রবালদ্বীপে পর্যটক যাতায়াত শুরু হচ্ছে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর মঙ্গলবার থেকে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌপথে ফের পর্যটকবাহী জাহাজ কেয়ারি ক্রুজ অ্যান্ড ডাইন এবং আগামী বৃহস্পতিবার থেকে চলবে কেয়ারি সিন্দাবাদ। প্রথমদিন কেয়ারি ডাইন নামের জাহাজটি প্রায় সাড়ে ৩০০ যাত্রী নিয়ে টেকনাফ থেকে যাত্রা করার কথা রয়েছে। জাহাজ চলাচলের খবরে দ্বীপে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরেছে। তবে পর্যটন মৌসুমের অনেক সময় চলে যাওয়ায় আশানুরূপ পর্যটক পাওয়ার বিষয়ে সন্দেহ রয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পর্যটন নিয়ে কাজ করা সংগঠন ‘পদক্ষেপ বাংলাদেশ’ কক্সবাজার জেলা শাখার সভাপতি তোফায়েল আহমেদ।

তিনি জানান, সেন্টমার্টিন দ্বীপের একমাত্র জেটিটি ভঙ্গুর প্রায়। এটি চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠায় মৌসুম শুরুর দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও সেন্টমার্টিনে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল শুরু করা যায়নি। কিন্তু প্রশাসনের তদারকিতে ভঙ্গুর জেটিটি পক্ষকাল ধরে সংস্কার করা হচ্ছে। বর্তমানে এটি মোটামুটি উপযোগী করতে পারায় ১৬ নভেম্বর থেকে পরীক্ষামূলক এ মৌসুমের প্রথম জাহাজের যাত্রা শুরু হচ্ছে। এদিন পর্যটকরা নিরাপদ যাতায়াত করতে সক্ষম হলে বাকি জাহাজগুলোও পর্যটক সেবায় চলাচল করবে বলে জানান তিনি।

তিনি আরো জানান, এ বছর টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌরুটে চলাচলের অনুমতির জন্য কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন করেছে কেয়ারি সিন্দাবাদ, কেয়ারি ডাইন, পারিজাত, ফারহান, রাজহংস ও সুকান্ত বাবু নামে ছয়টি জাহাজ। যথাযথ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সব কাগজপত্র জেলা প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। এখন প্রথম জাহাজ ঠিকভাবে ফেরত এলে বাকিরা হয়তো চলাচলের অনুমতি পেতে পারে।

এ বিষয়ে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পারভেজ চৌধুরী জানান, মঙ্গলবার থেকে সেন্টমার্টিনে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী বহন না করতে এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে জাহাজ কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এরপরও উপজেলা প্রশাসন নিয়মিত বিষয়টি তদারকি করবে।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আবু সুফিয়ান জানান, পর্যায়ক্রমে আবেদনকারী অন্যান্য জাহাজকেও প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো যাচাই করে অনুমতি দেওয়া হবে।

কেয়ারি ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলসের টেকনাফের ব্যবস্থাপক শাহ আলম বলেন, জেলা প্রশাসকের ছাড়পত্র পেয়েছি। মঙ্গলবার থেকে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌপথে জাহাজ চলবে। যদিও এর আগে বিআইডব্লিউটিএ ও নৌ-পরিবহন দপ্তরের ছাড়পত্র পাওয়া গেছে। দ্বীপে ভ্রমণকারীদের টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে।

সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুর আহমদ বলেন, দ্বীপের পর্যটক ব্যবসায়ীরা পর্যটক না আসায় লোকসানে রয়েছেন। পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল শুরুর খবরে দ্বীপের সাধারণ মানুষ এবং ব্যবসায়ীরা খুশি। আমরাও পর্যটকদের প্রবাল দ্বীপে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আমিন আল পারভেজ জানান, দেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিন ভ্রমণে আবারো জাহাজ চলাচল শুরু হচ্ছে মঙ্গলবার থেকে। আমরা গত ১ নভেম্বর সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য জাহাজে করে সেন্টমার্টিন পরিদর্শনে গিয়েছিলাম। নতুন জেটি নির্মাণে বেগ পাওয়ায় আগের জেটিটি প্রাথমিকভাবে মেরামত করা হয়েছে। এখন ব্যবহার উপযোগী হওয়ায় জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়।

কক্সবাজার কেয়ারি ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলসের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন,জেলা প্রশাসকের ছাড়পত্র পেয়েছি। মঙ্গলবার থেকে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌরুটে জাহাজ চলাচল শুরু করবে। যদিও এর আগে বিআইডব্লিউটিএ ও নৌপরিবহন দপ্তরের ছাড়পত্র পায়। রবিবার থেকেই দ্বীপে ভ্রমণকারীদের টিকিট বিক্রি শুরু করেছি। বুকিংও ভালো হয়েছে।

সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও হোটেল মালিক মুজিবুর রহমান বলেন, দ্বীপে পর্যটনসেবী ব্যবসায়ীরা তাদের আবাসিক হোটেল ও কটেজগুলো সাজিয়ে রাখছেন।

দৈনিক সরোবর/এমকে

সংবাদটি শেয়ার করুন »

আপনার মন্তব্য লিখুন

জাতীয় : আরো পড়ুন